ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
খাবারে পরিবর্তন এনে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে খাবারের ধরন ও অভ্যাসে পরিবর্তন এনে কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব। বিশেষ করে মাংস কম খেয়ে শাকসবজি, ফল ও পূর্ণ শস্য বেশি খেলে মোট কোলেস্টেরলের মাত্রা ২৫ শতাংশ বা তারও বেশি কমতে পারে।

তবে শুধু কোনো একটি খাবার বাদ দেওয়া নয়, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি, আঁশ ও উদ্ভিদজাত উপাদান বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে খাবারে চারটি পরিবর্তন আনা যেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নিন

সব ধরনের চর্বি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বেশির ভাগ উদ্ভিজ্জ তেলে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য তুলনামূলক ভালো। তাই খাবারে এ ধরনের চর্বির উৎস রাখা যেতে পারে।

তৈলাক্ত মাছ, বাদাম, বীজ ও কিছু সবজিতে স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায়। অন্যদিকে সম্পৃক্ত চর্বি বেশি রয়েছে এমন খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত।

প্রয়োজনীয় ও সুস্বাদু স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত কিছু খাবারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো-

  • অ্যাভোকাডো: এটি মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ওলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
  • চর্বিযুক্ত মাছ: যেমন- স্যামন, ম্যাকেরেল ও সার্ডিন:- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের চমৎকার উৎস, যা ব্রেইন ও হার্টের জন্য উপকারী।
  • বাদাম ও বীজ: আখরোট, আমন্ড, চিয়া বীজ ও তিসির বীজ:- স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার ও প্রোটিন সরবরাহ করে।
  • অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল: এতে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • ডার্ক চকোলেট: ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেট স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর।
  • ডিম: কুসুমসহ ডিমে ভালো চর্বি ও উচ্চমানের প্রোটিন থাকে।
  • পূর্ণ চর্বিযুক্ত দই: এটি উপকারী প্রোবায়োটিক ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।

খাবারে বাড়ান দ্রবণীয় আঁশ

দ্রবণীয় আঁশ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করতে পারে। ওটস, বিভিন্ন ফলমূলে ও শাকসবজিতে এ ধরনের আঁশ পাওয়া যায়। যেমন-

  • ওটস, ওটমিল, বার্লি বা যব, চিয়া বীজ, ফ্লাক্সসিড, মসুর ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, শিম,
  • ফলমূলের মধ্যে- আপেল, নাশপাতি, কমলা, লেবু জাতীয় ফল, কলা, অ্যাভোকাডো।
  • শাকসবজির মধ্যে- গাজর, মিষ্টি আলু, ব্রকলি ইত্যাদি।

স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাদ্যতালিকার সঙ্গে নিয়মিত দ্রবণীয় আঁশযুক্ত খাবার রাখলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

উদ্ভিদজাত বিশেষ উপাদান রাখুন

উদ্ভিদে প্রাকৃতিকভাবে থাকা কিছু উপাদান শরীরে কোলেস্টেরল শোষণের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এগুলো উদ্ভিদ স্টেরল ও স্ট্যানল নামে পরিচিত।

কোলেস্টেরলের সঙ্গে গঠনে মিল থাকায় এসব উপাদান খাবারের মাধ্যমে শরীরে গেলে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দিতে পারে। বর্তমানে কিছু খাবারেও এসব উপাদান যোগ করা হয়। যেমন- বিভিন্ন ধরনের মাখনজাত খাবার, ফলের রস ও দইয়ে এগুলো পাওয়া যেতে পারে।

সবার জন্য একই খাদ্যতালিকা নয়

কেউ কোনো বিশেষ খাদ্যতালিকা অনুসরণ করে কোলেস্টেরল কমাতে পেরেছেন শুনে সেটিই নিজের জন্য অনুসরণ করা সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে। কারণ মানুষের শারীরিক গঠন ও বংশগত বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের কারণে একই খাবারে সবার শরীর একইভাবে সাড়া দেয় না।

তাই একটি খাদ্যতালিকা অনুসরণ করে কয়েক মাস পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের শরীরের সঙ্গে মানানসই খাদ্যাভ্যাস খুঁজে পেতে একাধিক পদ্ধতি চেষ্টা করার প্রয়োজন হতে পারে।

খাবারের পরিবর্তন অনেকের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আবার কারও ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার পরও যদি কোলেস্টেরল কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না আসে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস বজায় রাখলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজনীয় পরিমাণও কম হতে পারে।

সূত্র: হার্ভার্ড

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এবার ব্রণের চিকিৎসায় টুথপেস্ট, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
মুখের ব্রণ বা ছোট ছোট ফুসকুড়ি দ্রুত শুকাতে অনেকেই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, টুথপেস্টের কিছু উপাদান ব্রণ শুকিয়ে দিতে সাহায্য করে।
এবার ব্রণের চিকিৎসায় টুথপেস্ট, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
কাজের চাপ, যানজট কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেও দীর্ঘক্ষণ তা আটকে রাখেন। তবে একবার এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলেই কি শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়?
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
আরও পড়ুন
মাংস-সামুদ্রিক খাবার প্রক্রিয়াজাতে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ ঘোষণা ট্রাম্পের
খাবার ডেলিভারির রোবটের ক্যামেরায় মুখের ছবি, উঠল তথ্য চুরির অভিযোগ
খাবারের আকুতি জানানো সাজু শেখের স্ত্রী আর নেই
ইবির হল ডাইনিংয়ে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা, খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ