ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্কুলে টিফিন নিয়ে হাসাহাসিতে ভাঙছে সন্তানের মন, জানুন সমাধান 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
টিফিন নিয়ে বুলিং, ঠাট্টা, হাসাহাসিতে ভেঙে যাচ্ছে শিশুর মন; কীভাবে বাঁচাবেন সন্তানকে । ছবি: সংগৃহীত

স্কুলের টিফিন এখন আর শুধু খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনেক শিশুর কাছে এটি এখন তুলনা, প্রতিযোগিতা এবং হাসাহাসির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সহপাঠীর সাজানো টিফিন দেখে নিজের সাধারণ ঘরোয়া খাবার নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ছে অনেক শিশু। এর প্রভাব পড়ছে শুধু তাদের মনেই নয়, বাড়ছে অভিভাবকদের ওপরও মানসিক চাপ।

অনেক শিশু এখন বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে বলছে, তাদের টিফিন অন্যদের মতো সুন্দর নয়। কেউ কেউ টিফিন না খেয়েই বাড়ি ফিরছে। কারণ সহপাঠীদের সামনে সাধারণ খাবার বের করতে তারা লজ্জা পাচ্ছে। অনেক সময় এই বিষয়টি নিয়ে সহপাঠীদের ঠাট্টা-বিদ্রূপেরও শিকার হতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো টিফিনের ছবি ও ভিডিও দেখার প্রবণতা শিশুদের মধ্যে নতুন ধরনের চাহিদা তৈরি করছে। ফলে সাধারণ রুটি, পরোটা, সবজি বা ঘরোয়া খাবারের বদলে নানা রকম সাজানো খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন অভিভাবকেরা। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও অনেক মা-বাবা ভোরে উঠে সন্তানের জন্য আকর্ষণীয় টিফিন তৈরি করছেন। কিন্তু সবার পক্ষে প্রতিদিন সময়, শ্রম ও অতিরিক্ত খরচ করে এমন টিফিন বানানো সম্ভব হয় না। এতে অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।

আরও পড়ুন

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা সহপাঠীদের মতো হতে চায়। অন্যদের মতো কিছু না থাকলে তারা নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে করে। এই মানসিকতা থেকেই টিফিন নিয়ে অস্বস্তি, অভিমান বা রাগের মতো আচরণ দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় শিশুদের মনে হয় সুন্দর টিফিন মানেই বেশি গ্রহণযোগ্যতা। তাই টিফিনের বাক্সও ধীরে ধীরে সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠছে। এর ফলে খাবারের পুষ্টিগুণের চেয়ে বাহ্যিক সাজসজ্জাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে এই সমস্যার সমাধানও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই বোঝাতে হবে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা সবকিছু বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি নয়। একই সঙ্গে পরিবারে কী সম্ভব আর কী সম্ভব নয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে।

অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ, সন্তানের সব চাওয়া সঙ্গে সঙ্গে পূরণ না করে নির্দিষ্ট দিনে বিশেষ টিফিনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি ঘরোয়া ও পুষ্টিকর খাবারকেই গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে সেই খাবারও একটু সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিফিনের আসল উদ্দেশ্য হলো শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা, অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা নয়। তাই টিফিন নিয়ে অকারণ চাপ না বাড়িয়ে, শিশুর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
আরও পড়ুন
সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা, কারা পাবেন
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
মিরসরাইয়ে সিজার ছাড়াই একসঙ্গে ৩ সন্তানের জন্ম
মাদকের টাকার জন্য মেয়েকে বিক্রি করেন বাবা