
এসএসসি পাস করার পরই বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু এসএসসির ফল ভালো হলেই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায় না। কোন পর্যায়ে এসএসসির ফল কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ভর করে শিক্ষার্থী কোন দেশে এবং কোন স্তরে পড়তে যেতে চাইছেন তার ওপর।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আগে যেখানে মূলত স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিদেশে যেতেন, এখন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেও অনেকেই দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ফলে এসএসসির ফলাফল বিদেশে পড়ার ক্ষেত্রে কতটা কাজে আসে, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কৌতূহলও বাড়ছে।
এসএসসির পরই কি বিদেশে যাওয়া যায়?
এসএসসি শেষ করে বিদেশে পড়তে যাওয়া সম্ভব। তবে বেশির ভাগ দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার জন্য ১২ বছরের স্কুলশিক্ষা সম্পন্ন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই স্তরটি সাধারণত এইচএসসি পর্যন্ত।
তাই এসএসসি পাস করার পর বিদেশে গেলে অনেক শিক্ষার্থীকে আগে ভিত্তিমূলক কোর্স বা ডিপ্লোমা পর্যায়ের পড়াশোনা করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। ও-লেভেল শেষ করার পর বিদেশে গিয়ে এ-লেভেল সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়।
তাহলে এসএসসির ফলের গুরুত্ব কোথায়?
বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এসএসসির ফল একেবারে গুরুত্বহীন নয়। তবে এটিই সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসএসসির ফল দিয়ে শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা, পড়াশোনায় কোনো বিরতি আছে কি না এবং সময়ের সঙ্গে ফলাফল কেমন হয়েছে—এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করা হয়।
ধরা যাক, কোনো শিক্ষার্থীর এসএসসিতে ফল তুলনামূলক কম হলেও এইচএসসিতে ফল অনেক ভালো হয়েছে। পরে স্নাতক পর্যায়েও ভালো ফল করেছে। এ ধরনের ধারাবাহিক উন্নতি শিক্ষার্থীর জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আবার কিছু দেশে ভিত্তিমূলক কোর্স বা ডিপ্লোমায় ভর্তির জন্য এসএসসিতে নির্দিষ্ট ফল বা গ্রেডের শর্ত থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের ফল সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এইচএসসির পর বিদেশে গেলে কী হয়?
বাংলাদেশ থেকে এইচএসসি পাস করে বিদেশে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে চাইলে সাধারণত সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ এইচএসসির ফলাফল তখন এসএসসির তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসএসসির ফল মূলত সহায়ক নথি হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল বা আইনের মতো প্রতিযোগিতামূলক বিষয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীর ফলও বিবেচনায় আসতে পারে।
এর পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা, পড়াশোনায় বিরতি আছে কি না এবং বিদেশে পড়াশোনার খরচ বহনের মতো আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চশিক্ষার আরও ওপরে গেলে এসএসসির গুরুত্ব কমে
যে শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর, এমফিল বা পিএইচডির জন্য বিদেশে আবেদন করেন, তাঁর ক্ষেত্রে এসএসসির ফলাফলের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়। তখন সর্বশেষ ডিগ্রির ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, থিসিস, কাজের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ভাষাগত দক্ষতার মতো বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়।
অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী যত উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যান, আগের স্তরের ফলাফলের গুরুত্ব ততই কমতে থাকে।
ভালো ফলের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় জরুরি
বিদেশে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুধু এসএসসি বা এইচএসসির ফল ভালো করলেই হবে না। গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে ভালো ভিত্তি তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষায় ভালো ফল, পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা এবং পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতিও থাকতে হবে।
তাই এসএসসি পাসের পর বিদেশে পড়তে চাইলে প্রথমেই যে দেশের কথা ভাবছেন, সেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও ভর্তি শর্ত সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ একেক দেশের নিয়ম একেক রকম।
এসএসসির ফল বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও একমাত্র নির্ধারক নয়। এসএসসির পর সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হলেও ভিত্তিমূলক কোর্স বা ডিপ্লোমার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার পথ তৈরি হতে পারে। আর এইচএসসি বা তার পরের স্তরে পৌঁছালে সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতাই বেশি গুরুত্ব পায়।
আরটিভি/জেএমএ




