ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় এসএসসি রেজাল্টের গুরুত্ব কতটুকু  

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী; এসএসসির ফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও গন্তব্য ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী এর গুরুত্ব বদলে যায় । ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি পাস করার পরই বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু এসএসসির ফল ভালো হলেই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায় না। কোন পর্যায়ে এসএসসির ফল কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ভর করে শিক্ষার্থী কোন দেশে এবং কোন স্তরে পড়তে যেতে চাইছেন তার ওপর।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আগে যেখানে মূলত স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিদেশে যেতেন, এখন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেও অনেকেই দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ফলে এসএসসির ফলাফল বিদেশে পড়ার ক্ষেত্রে কতটা কাজে আসে, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কৌতূহলও বাড়ছে।

এসএসসির পরই কি বিদেশে যাওয়া যায়?

এসএসসি শেষ করে বিদেশে পড়তে যাওয়া সম্ভব। তবে বেশির ভাগ দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার জন্য ১২ বছরের স্কুলশিক্ষা সম্পন্ন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই স্তরটি সাধারণত এইচএসসি পর্যন্ত।

তাই এসএসসি পাস করার পর বিদেশে গেলে অনেক শিক্ষার্থীকে আগে ভিত্তিমূলক কোর্স বা ডিপ্লোমা পর্যায়ের পড়াশোনা করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। ও-লেভেল শেষ করার পর বিদেশে গিয়ে এ-লেভেল সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

তাহলে এসএসসির ফলের গুরুত্ব কোথায়?

বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এসএসসির ফল একেবারে গুরুত্বহীন নয়। তবে এটিই সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসএসসির ফল দিয়ে শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা, পড়াশোনায় কোনো বিরতি আছে কি না এবং সময়ের সঙ্গে ফলাফল কেমন হয়েছে—এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করা হয়।

ধরা যাক, কোনো শিক্ষার্থীর এসএসসিতে ফল তুলনামূলক কম হলেও এইচএসসিতে ফল অনেক ভালো হয়েছে। পরে স্নাতক পর্যায়েও ভালো ফল করেছে। এ ধরনের ধারাবাহিক উন্নতি শিক্ষার্থীর জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আবার কিছু দেশে ভিত্তিমূলক কোর্স বা ডিপ্লোমায় ভর্তির জন্য এসএসসিতে নির্দিষ্ট ফল বা গ্রেডের শর্ত থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের ফল সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এইচএসসির পর বিদেশে গেলে কী হয়?

বাংলাদেশ থেকে এইচএসসি পাস করে বিদেশে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে চাইলে সাধারণত সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ এইচএসসির ফলাফল তখন এসএসসির তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসএসসির ফল মূলত সহায়ক নথি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল বা আইনের মতো প্রতিযোগিতামূলক বিষয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীর ফলও বিবেচনায় আসতে পারে।

এর পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা, পড়াশোনায় বিরতি আছে কি না এবং বিদেশে পড়াশোনার খরচ বহনের মতো আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চশিক্ষার আরও ওপরে গেলে এসএসসির গুরুত্ব কমে

যে শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর, এমফিল বা পিএইচডির জন্য বিদেশে আবেদন করেন, তাঁর ক্ষেত্রে এসএসসির ফলাফলের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়। তখন সর্বশেষ ডিগ্রির ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, থিসিস, কাজের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ভাষাগত দক্ষতার মতো বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়।

অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী যত উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যান, আগের স্তরের ফলাফলের গুরুত্ব ততই কমতে থাকে।

ভালো ফলের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় জরুরি

বিদেশে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুধু এসএসসি বা এইচএসসির ফল ভালো করলেই হবে না। গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে ভালো ভিত্তি তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষায় ভালো ফল, পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা এবং পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতিও থাকতে হবে।

তাই এসএসসি পাসের পর বিদেশে পড়তে চাইলে প্রথমেই যে দেশের কথা ভাবছেন, সেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও ভর্তি শর্ত সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ একেক দেশের নিয়ম একেক রকম।

এসএসসির ফল বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও একমাত্র নির্ধারক নয়। এসএসসির পর সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হলেও ভিত্তিমূলক কোর্স বা ডিপ্লোমার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার পথ তৈরি হতে পারে। আর এইচএসসি বা তার পরের স্তরে পৌঁছালে সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতাই বেশি গুরুত্ব পায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়েছে। আজ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
যবিপ্রবির ছাদে সোলার প্যানেল, মাসে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় 
দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ মেটানোর পাশাপাশি ছাদ ভাড়া থেকে প্রতি মাসে বাড়তি আয় হচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা।  একই সঙ্গে ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে অব্যবহৃত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোলার সিস্টেম। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আর্থিক সাশ্রয়ই নয়, এই সোলার সিস্টেম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক শিক্ষারও একটি জীবন্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।  সিস্টেম থেকে পাওয়া রিয়েল টাইম তথ্য গবেষণা ও শিক্ষার কাজে ব্যবহার করছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৩ সালের জুন থেকে যবিপ্রবির অধিকাংশ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়।  সুপারস্টার রিনিউঅ্যাবল এনার্জি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান অপেক্স মডেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর প্রায় ৬৩ হাজার বর্গফুট ছাদজুড়ে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপন করেছে। যবিপ্রবির গবেষণাগার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসিক বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ইউনিট। এর বিপরীতে বর্তমানে সোলার প্যানেল থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। তিনি বলেন, সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ কম মূল্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই বিদ্যুৎ কিনছে যবিপ্রবি। বাকি বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ থেকে। কম দামে বিদ্যুৎ কেনায় প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া ভবনগুলোর ছাদ প্রতি বর্গফুট ২ টাকা হিসেবে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ খরচের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাশ্রয় ও আয় দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ শেষ হলে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকে। এ দুই দিনসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে ব্যবহার না হওয়া বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ২৪ থেকে ২৬ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোলার সিস্টেম। এই পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। আর্থিক সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী ইমরান খান বলেন, এই সোলার সিস্টেম শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে-কলমে শেখার একটি বাস্তব ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।  এখান থেকে রিয়েল টাইম ডেটাও পাওয়া যাচ্ছে, যা গবেষণা ও শিক্ষার কাজে সহায়ক হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে লোডশেডিং হলেও সোলার এনার্জি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বা গবেষণার কাজ কোনো কিছুই থেমে থাকছে না। যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এখনো কিছু ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। এসব ভবনে কাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৪০ শতাংশ সোলার প্যানেল থেকে পাওয়া যাবে। তিনি জানান, যবিপ্রবির ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসেও সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হবে। ফলে ওই ক্যাম্পাসে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পুরোপুরি বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রিট লাইটগুলোতেও সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উপাচার্য বলেন, বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তাতে সোলার প্যানেল স্থাপনে সরকার সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছে এবং সহযোগিতাও করতে চাচ্ছে। সরকার প্রণোদনা দিলে যবিপ্রবির চাহিদার ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ সোলার থেকে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আরটিভি/এসআর  
যবিপ্রবির ছাদে সোলার প্যানেল, মাসে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় 
ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে রাবি অধ্যাপক, অতঃপর... 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় নিজের ছেলে পরীক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করায় বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মনিরুল হককে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দাপ্তরিক আদেশ এ তথ্য জানানো হয়।  বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যবহারিক ভর্তি পরীক্ষায় অধ্যাপক মনিরুল হকের ছেলে পরীক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে লিখিতভাবে কো-অর্ডিনেশন কমিটিকে বিষয়টি জানিয়ে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই বিধান অনুসরণ না করে অধ্যাপক মনিরুল হক পরীক্ষা কো-অর্ডিনেশন কমিটির কো-অর্ডিনেটর, ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। একই আদেশে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মতিয়ার রহমানকে নতুন বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ১৩ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনা তদন্তে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্য ২ সদস্য হলেন- মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আসাদুল হক এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, ‘ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’  আরটিভি/এসএস
ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে রাবি অধ্যাপক, অতঃপর... 
ইবিতে হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে আজমেরী-ফারহানা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল ডিবেটিং সোসাইটির ২০২৬-২৭ বর্ষের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আজমেরী রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের ফারহানা ইয়াসমিন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম রাশেদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সহ-সভাপতি মোছা. হিতুয়ারা খাতুন ও সাহারা আক্তার সিঁথি, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস বর্ষা, দপ্তর সম্পাদক তাহিয়া সুলতানা নাদিয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুক্তা খাতুন, অর্থ সম্পাদক সুমি আক্তার, সহ অর্থ সম্পাদক জিন্নাত আলভী, প্রচার সম্পাদক হুমাইরা আছিয়া প্রীতি, সহ-প্রচার সম্পাদক সিনথিয়া সিরাত। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন- নিশাত নাবিল্লাহ প্রাপ্তি, ইসরাত জাহান এবং হাবিবা আক্তার সিনথিয়া। দায়িত্ব পেয়ে সাধারণ সম্পাদক ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাদের হলের বিতর্কচর্চাকে আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। সবার সহযোগিতায় হল ডিবেটিং সোসাইটির এই নতুন যাত্রা আরও দূর এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।’ সভাপতি আজমেরী রহমান বলেন, ‘বিতর্ক অঙ্গনে যোগ্য ও দক্ষ বিতার্কিক তৈরি করার ভিত্তিমূল হিসেবে কাজ করে আমাদের হল ডিবেটিং সোসাইটিগুলো। আমি দায়িত্বশীল হিসেবে চেষ্টা করবো নিয়মিত সেশন এবং অন্যান্য বিতর্কের সুবিধার মাধ্যমে হলে ভালো বিতার্কিক সৃষ্টি করার এবং চাইবো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক অঙ্গন তারা ভালো বিতার্কিক হিসেবে পরিচিতি পাক। একই সাথে হলের বিতর্ক অঙ্গনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই পথ চলায় পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’ আরটিভি/এসএস
ইবিতে হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে আজমেরী-ফারহানা
৮ দাবি নিয়ে ইবিতে সংবাদ সম্মেলন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফির সঞ্চালনায় দাবি পেশ করেন শাখা সভাপতি ইউসুব আলী।  এ সময় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ এমাদুর রহমান, স্কুল অ্যান্ড কলেজ সম্পাদক জায়েদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক সোয়াইব আহম্মেদ, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফরহাদ রেজা ওসামা এবং প্রকাশনা ও সাহিত্য সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ নাকিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাঁচটি আবাসিক হলের সভাপতিসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত অপসারণ; রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ বা প্রশাসনিক প্রভাবের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ বন্ধ; মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও নীতিমালা অনুসরণ করে সিট বরাদ্দ; বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত; প্রতিটি হলের সিট বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করা; যেন কোনো শিক্ষার্থী বা সংগঠন সিট বাণিজ্য বা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পায়; হলগুলোতে বহিরাগত প্রবেশ ও রাজনৈতিক অপচর্চা বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত; সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হলের ডাইনিংয়ে সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দ্রুত সময়ে মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ ও শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ প্রভাব বিস্তার কিংবা দলীয় লোকজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আশ্রয় দেওয়ার জায়গা হতে পারে না। হলের সিট একজন শিক্ষার্থীর অধিকার এবং তা মেধা, বৈধতা, জ্যেষ্ঠতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালার ভিত্তিতে বণ্টন করা উচিত। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে দীর্ঘদিন ধরে সিট বণ্টন নিয়ে বৈষম্য, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি শহীদ জিয়াউর রহমান হলে বৈধ সিট না থাকা সত্ত্বেও একজন রাজনৈতিক কর্মীর দীর্ঘদিন অবস্থানের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য হলেও অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের অভিযোগ সামনে এসেছে। ইউসুব আলী বলেন, একজন বৈধ শিক্ষার্থী আবাসিক সিটের জন্য অপেক্ষা করবে, অথচ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অবৈধভাবে হলে অবস্থান করবে— এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার প্রশ্নে উপরোক্ত দাবি গুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা সংঘাত চাই না, আমরা ন্যায়সংগত সমাধান চাই। আমরা দখলদারিত্ব চাই না, আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার চাই। আমরা দলীয় প্রভাব চাই না, আমরা মেধা ও বৈধতার ভিত্তিতে আবাসিক ব্যবস্থা চাই। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যদি যথাযথ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে, আমরা তা স্বাগত জানাব। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অনিয়ম, বৈষম্য কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করা হলে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আমাদের দাবি স্পষ্ট হল হবে শিক্ষার্থীদের জন্য, সিট হবে মেধার ভিত্তিতে, প্রশাসন হবে নিরপেক্ষ, ক্যাম্পাস হবে নিরাপদ। আরটিভি/এসএস
৮ দাবি নিয়ে ইবিতে সংবাদ সম্মেলন
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: কলেজশিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ
মাধ্যমিকের শিক্ষকদের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা
এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর পরিকল্পনা নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
৫৯ বছর বয়সে গ্র্যাজুয়েট হলেন সেই বেলায়েত শেখ