
বৃষ্টির দিনে গরমের অস্বস্তি কিছুটা কমলেও ত্বকের জন্য এই সময়টা সবসময় আরামদায়ক নয়। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় কারও মুখ অতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে যায়, কারও আবার ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক ও খসখসে। অনেকের ক্ষেত্রে ব্রণ, ত্বকে ময়লা জমে যাওয়া কিংবা ছত্রাকের সংক্রমণের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
তাই বর্ষায় ত্বকের যত্নে নিয়মিত ব্যবহৃত প্রসাধনী ও পরিচর্যার ধরন কিছুটা বদলে নেওয়া প্রয়োজন। ত্বকের ধরন বুঝে হালকা, মৃদু ও আর্দ্রতা ধরে রাখে—এমন পরিচর্যা করাই এ সময় বেশি জরুরি।
বর্ষায় ত্বকে সমস্যা বাড়ে কেন?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এতে ত্বকে তেল উৎপাদনও বাড়তে পারে। অতিরিক্ত তেল ও ময়লা ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ করে ব্রণ তৈরি করতে পারে।
আবার হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়া বা বাড়ার কারণে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকলে ত্বকের ভাঁজ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছত্রাকের সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ে।
সব ধরনের ত্বকের জন্য যা করবেন
বর্ষায় ত্বকের যত্নের নিয়ম খুব জটিল করার প্রয়োজন নেই। বরং মৃদু ও নিয়মিত পরিচর্যাই যথেষ্ট।
১. ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট না করে এমন মৃদু মুখ পরিষ্কার করার উপকরণ ব্যবহার করুন।
২. ত্বক নিস্তেজ দেখালে ভিটামিন সি বা নায়াসিনামাইডযুক্ত উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. ত্বক তৈলাক্ত হলেও আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য হালকা ও রন্ধ্র বন্ধ করে না এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
৪. আকাশ মেঘলা থাকলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
৫. সপ্তাহে একবার হালকা করে মৃত কোষ পরিষ্কার করা যেতে পারে।
৬. ভারী ক্রিমের বদলে হালকা ও জলভিত্তিক প্রসাধনী ব্যবহার করা ভালো।
যা একেবারেই করবেন না
বর্ষায় ত্বকের সমস্যা কমাতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিচর্যাও ক্ষতির কারণ হতে পারে। শক্তিশালী স্ক্রাব বা অ্যালকোহলযুক্ত টোনার ব্যবহার না করাই ভালো।
বারবার মুখ ধোয়া বা অতিরিক্তভাবে ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার তৈলাক্ত ত্বক বলে ময়েশ্চারাইজার একেবারে বাদ দেওয়াও ঠিক নয়।
মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বা ঠিকমতো সংরক্ষণ করা হয়নি—এমন প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত নয়। একই সময়ে অনেক ধরনের শক্তিশালী উপকরণ ব্যবহার না করে সহজ ও নিয়মিত পরিচর্যায় থাকা ভালো।
শুষ্ক ত্বকের যত্নে
বাতাসে আর্দ্রতা থাকলেও অনেকের ত্বক বর্ষায় শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বক টানটান লাগা বা খসখসে হয়ে গেলে মৃদু ও আর্দ্রতা ধরে রাখে এমন মুখ পরিষ্কার করার উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন।
এর সঙ্গে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এমন সিরাম এবং হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ভালো রাখতে সপ্তাহে একবার সেরামাইডযুক্ত পরিচর্যা করা যেতে পারে।
তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে
বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়া ও তৈলাক্ত ত্বক একসঙ্গে থাকলে মুখে অতিরিক্ত তেল, ব্রণ ও ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ ক্ষেত্রে দিনে দুবার মুখ পরিষ্কার করা যেতে পারে। তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এমন উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। ময়েশ্চারাইজারের ক্ষেত্রেও হালকা ও রন্ধ্র বন্ধ করে না—এমন উপকরণ বেছে নেওয়া ভালো।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষার জন্য ভারী বা তেলতেলে সানস্ক্রিনের বদলে হালকা ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
মিশ্র ত্বকে চাই ভারসাম্য
মিশ্র ত্বকে একই সময়ে মুখের কিছু অংশ তৈলাক্ত আবার কিছু অংশ শুষ্ক থাকতে পারে। তাই এ ধরনের ত্বকে এমন পরিচর্যা প্রয়োজন, যা অতিরিক্ত তেল কমাবে কিন্তু ত্বক শুষ্কও করবে না।
মৃদু মুখ পরিষ্কার করার উপকরণ, নায়াসিনামাইড বা প্যানথেনলযুক্ত সিরাম এবং হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। সপ্তাহে একবার হালকা করে মৃত কোষ পরিষ্কার করাও উপকারী হতে পারে।
ত্বক ভালো রাখতে মূল কথা নিয়মিত পরিচর্যা
বর্ষায় ত্বক ভালো রাখতে অনেক ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। নিজের ত্বকের ধরন বুঝে সহজ ও নিয়মিত পরিচর্যা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বকে ব্রণ, নিস্তেজ ভাব কিংবা শুষ্কতার সমস্যা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যার ধরন বদলাতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার না করে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ঠিক রাখার দিকে নজর দিতে হবে।
সূত্র: ফিক্স ডার্মা
আরটিভি/জেএমএ


