ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দুধ খেতে গিয়েই হাঁপিয়ে যায় শিশু, যে বিপদের সংকেত 

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
দুধ খাওয়ার সময় শিশুর বারবার হাঁপিয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ঘাম হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

সদ্যোজাত শিশু স্বাভাবিকভাবেই অনেক সময় ঘুমায়, খায় এবং আবার ঘুমিয়ে পড়ে। তাই দুধ খাওয়ার সময় সামান্য বিরতি নেওয়া বা ক্লান্ত হয়ে পড়াকে অনেক অভিভাবক সাধারণ বিষয় বলে মনে করেন। কিন্তু দুধ খাওয়ার সময় বারবার হাঁপিয়ে যাওয়া, কিছুক্ষণ পরপর খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া কিংবা কপালে ঘাম দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এসব লক্ষণ শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

জন্মের সময় কোনো শারীরিক সমস্যা ধরা না পড়লেও পরে শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর থেকে কিছু লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে পারে। তাই শিশুর খাওয়ানো, ঘুম, ওজন বাড়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে অভিভাবকদের নজর রাখা জরুরি।

দুধ খাওয়ার সময় কেন হাঁপিয়ে যায় শিশু

শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রে জন্মগত কোনো সমস্যা থাকলে দুধ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্‌যন্ত্রে ছিদ্র বা রক্ত চলাচলের সমস্যার কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

এমন শিশুরা অল্প সময় দুধ খাওয়ার পরই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ দুধ খেয়ে আবার থেমে যায়, পরে আবার খেতে শুরু করে। ক্ষুধা পুরোপুরি না মেটায় কিছুক্ষণ পর আবার কান্না করতে পারে। দুধ খাওয়ার সময় শ্বাসকষ্ট ও কপালে ঘামও দেখা দিতে পারে।

যে লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন

শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রে সমস্যা থাকলে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • দুধ খাওয়ার সময় দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া বা বারবার থেমে যাওয়া।
  • দুধ খাওয়ার সময় কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম হওয়া।
  • শরীরের ওজন ঠিকমতো না বাড়া এবং বয়স অনুযায়ী বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া।
  • হাতের নখ, জিহ্বা বা ঠোঁটে কালচে কিংবা নীলচে ভাব দেখা দেওয়া।
  • হাঁটা, হামাগুড়ি দেওয়া বা খেলাধুলার প্রতি অনীহা দেখা দেওয়া।
  • প্রচণ্ড কান্নার সময় শিশুর পুরো শরীর নীলচে হয়ে যাওয়া।
  • ঘুম থেকে ওঠার পর বা কান্নার সময় খিঁচুনি কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হওয়া।

মা যদি গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকেন, কিছু ক্ষেত্রে শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি থাকতে পারে। এমন শিশুর শরীরের হাত-পা তুলনামূলকভাবে বড় হলেও বয়স অনুযায়ী সামগ্রিক বৃদ্ধি ঠিকমতো নাও হতে পারে।

হৃদ্‌যন্ত্রে ছিদ্র থাকলে সমস্যা বাড়ে

শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রে ছিদ্র বা রক্ত চলাচলের ত্রুটি থাকলে দুধ খাওয়ার সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে। হৃদ্‌যন্ত্রের দুই প্রকোষ্ঠের মাঝখানে ছিদ্র, হৃদ্‌যন্ত্রের বড় রক্তনালির সংযোগজনিত সমস্যা কিংবা অন্য কোনো জন্মগত ত্রুটির কারণে ফুসফুসে অতিরিক্ত রক্ত যেতে পারে।

এতে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ে এবং শিশুর হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে দুধ খাওয়ার সময় অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, ঘুমিয়ে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দুধ খাওয়ানোর সময় যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

শিশু কিছুটা দুধ খাওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে দুধ ছেড়ে দিচ্ছে, আবার কিছুক্ষণ পর ক্ষুধার কারণে দুধ খেতে চাইছে—এ ধরনের ধারাবাহিকতা দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্বাভাবিকভাবে শিশু একটানা দুধ খেয়ে তৃপ্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বারবার দুধ খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং আবার দুধ খাওয়ার এই চক্র চলতে থাকলে তা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে কপালে ঘাম বা শ্বাসকষ্ট থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জন্মের পরপরই সব সমস্যা বোঝা যায় না

শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের জন্মগত সমস্যা সব সময় জন্মের পরপরই ধরা পড়ে না। জন্মের সময় ফুসফুসের ধমনিতে চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। পরে ধীরে ধীরে এই চাপ কমতে শুরু করলে হৃদ্‌যন্ত্রের কিছু সমস্যার লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।

এ কারণে জন্মের প্রায় দেড় মাস পর থেকে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে লক্ষণ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে। সাধারণত ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে কিছু সমস্যার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

যেসব হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা হতে পারে

শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে হৃদ্‌যন্ত্রের নিচের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝের দেয়ালে ছিদ্র, ওপরের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝের দেয়ালে ছিদ্র এবং জন্মের পর বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা থাকা একটি রক্তনালি খোলা থেকে যাওয়া।

এছাড়া কিছু শিশুর নীলাভ হৃদ্‌যন্ত্রের রোগও থাকতে পারে। এর একটি জটিল ধরনে একই সঙ্গে চার ধরনের ত্রুটি দেখা যায়। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের নিচের দুই প্রকোষ্ঠের মাঝের দেয়ালে ছিদ্র, ফুসফুসে রক্ত যাওয়ার পথ সরু হয়ে যাওয়া, হৃদ্‌যন্ত্রের ডান পাশের পেশি মোটা হয়ে যাওয়া এবং মহাধমনির অবস্থানে ত্রুটি থাকতে পারে।

শিশুর শরীর নীল হলে সতর্ক

হৃদ্‌যন্ত্রের কিছু সমস্যায় শিশুর জিহ্বার নিচে, ঠোঁটে কিংবা নখের কাছে নীলচে বা কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। আবার প্রচণ্ড কান্নার সময় পুরো শরীর নীল হয়ে যেতে পারে।

কখনো কান্না বা ঘুম থেকে ওঠার পর খিঁচুনি কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাও তৈরি হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

শিশুর ওজন ঠিকমতো না বাড়লে, দুধ খাওয়ার সময় বারবার হাঁপিয়ে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, অস্বাভাবিক ঘাম হলে কিংবা ঠোঁট ও জিহ্বা নীলচে হয়ে গেলে দেরি না করে শিশুর চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।

প্রয়োজনে হৃদ্‌যন্ত্রের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হতে পারে। চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হৃদ্‌যন্ত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।

জন্মের পর পরীক্ষা করলে আগেই ধরা পড়ে

জন্মের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে শিশুর হৃদ্‌যন্ত্র পরীক্ষা করানো উপকারী হতে পারে। কোনো লক্ষণ না থাকলেও পরীক্ষা করলে কিছু জন্মগত সমস্যা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব।

তবে সব জায়গায় একই ধরনের পরীক্ষা করার সুযোগ নাও থাকতে পারে। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসক স্টেথোস্কোপ দিয়ে শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের শব্দ শুনেও অনেক অস্বাভাবিকতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। পরে প্রয়োজন হলে আরও পরীক্ষা করা হয়।

শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব। তাই দুধ খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক হাঁপিয়ে যাওয়া, বারবার থেমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, ওজন না বাড়া বা শরীর নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণকে সাধারণ বিষয় ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রতিদিন হাততালি দিলে মিলতে পারে ৫ উপকার
হাততালি সাধারণত আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেই পরিচিত। তবে নিয়মিত হাততালি দেওয়াকে অনেকে সহজ এক ধরনের শরীরচর্চা হিসেবেও দেখেন।
প্রতিদিন হাততালি দিলে মিলতে পারে ৫ উপকার
যে ভুলে অজান্তেই বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
বাসে বসে জানালা দিয়ে কিনে নিলেন আমড়া, শসা কিংবা পেয়ারা মাখা।
যে ভুলে অজান্তেই বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণে ছড়িয়ে পড়া নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণ শিশুর পরবর্তী জীবনে অটিজম ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু
চোখে হঠাৎ অন্ধকার দেখছেন? যে বিপদের সংকেত হতে পারে
চোখের সামনে হঠাৎ অন্ধকার বা কালো বা ধূসর ছায়া দেখা, কিংবা দৃষ্টির কোনো অংশ পর্দার মতো অন্ধকার হয়ে আসাকে অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান।
চোখে হঠাৎ অন্ধকার দেখছেন? যে বিপদের সংকেত হতে পারে
সুস্থ থাকতে আজ থেকেই বদলান এই ১৭ অভ্যাস
সুস্থ থাকতে শুধু অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়াই যথেষ্ট নয়, প্রতিদিনের জীবনযাপনেও কিছু ভালো অভ্যাস তৈরি করা জরুরি।
সুস্থ থাকতে আজ থেকেই বদলান এই ১৭ অভ্যাস
আরও পড়ুন
লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে মিল্কভিটা দুধের দাম, নেপথ্যে যে কারণ
কফিতে দুধ মিশিয়ে খেলে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে
ফ্যাটি লিভার থাকলে দুধ-চা খাওয়া যাবে? জেনে নিন
গোসল ফরজ অবস্থায় সন্তানকে দুধ পান করানো কী জায়েজ?