ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

দুধ খেতে গিয়েই হাঁপিয়ে যায় শিশু, যে বিপদের সংকেত 

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
দুধ খাওয়ার সময় শিশুর বারবার হাঁপিয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ঘাম হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

সদ্যোজাত শিশু স্বাভাবিকভাবেই অনেক সময় ঘুমায়, খায় এবং আবার ঘুমিয়ে পড়ে। তাই দুধ খাওয়ার সময় সামান্য বিরতি নেওয়া বা ক্লান্ত হয়ে পড়াকে অনেক অভিভাবক সাধারণ বিষয় বলে মনে করেন। কিন্তু দুধ খাওয়ার সময় বারবার হাঁপিয়ে যাওয়া, কিছুক্ষণ পরপর খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া কিংবা কপালে ঘাম দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এসব লক্ষণ শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

জন্মের সময় কোনো শারীরিক সমস্যা ধরা না পড়লেও পরে শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর থেকে কিছু লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে পারে। তাই শিশুর খাওয়ানো, ঘুম, ওজন বাড়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে অভিভাবকদের নজর রাখা জরুরি।

দুধ খাওয়ার সময় কেন হাঁপিয়ে যায় শিশু

শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রে জন্মগত কোনো সমস্যা থাকলে দুধ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্‌যন্ত্রে ছিদ্র বা রক্ত চলাচলের সমস্যার কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

এমন শিশুরা অল্প সময় দুধ খাওয়ার পরই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ দুধ খেয়ে আবার থেমে যায়, পরে আবার খেতে শুরু করে। ক্ষুধা পুরোপুরি না মেটায় কিছুক্ষণ পর আবার কান্না করতে পারে। দুধ খাওয়ার সময় শ্বাসকষ্ট ও কপালে ঘামও দেখা দিতে পারে।

যে লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন

শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রে সমস্যা থাকলে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • দুধ খাওয়ার সময় দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া বা বারবার থেমে যাওয়া।
  • দুধ খাওয়ার সময় কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম হওয়া।
  • শরীরের ওজন ঠিকমতো না বাড়া এবং বয়স অনুযায়ী বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া।
  • হাতের নখ, জিহ্বা বা ঠোঁটে কালচে কিংবা নীলচে ভাব দেখা দেওয়া।
  • হাঁটা, হামাগুড়ি দেওয়া বা খেলাধুলার প্রতি অনীহা দেখা দেওয়া।
  • প্রচণ্ড কান্নার সময় শিশুর পুরো শরীর নীলচে হয়ে যাওয়া।
  • ঘুম থেকে ওঠার পর বা কান্নার সময় খিঁচুনি কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হওয়া।

মা যদি গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকেন, কিছু ক্ষেত্রে শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি থাকতে পারে। এমন শিশুর শরীরের হাত-পা তুলনামূলকভাবে বড় হলেও বয়স অনুযায়ী সামগ্রিক বৃদ্ধি ঠিকমতো নাও হতে পারে।

হৃদ্‌যন্ত্রে ছিদ্র থাকলে সমস্যা বাড়ে

শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রে ছিদ্র বা রক্ত চলাচলের ত্রুটি থাকলে দুধ খাওয়ার সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে। হৃদ্‌যন্ত্রের দুই প্রকোষ্ঠের মাঝখানে ছিদ্র, হৃদ্‌যন্ত্রের বড় রক্তনালির সংযোগজনিত সমস্যা কিংবা অন্য কোনো জন্মগত ত্রুটির কারণে ফুসফুসে অতিরিক্ত রক্ত যেতে পারে।

এতে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ে এবং শিশুর হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে দুধ খাওয়ার সময় অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, ঘুমিয়ে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দুধ খাওয়ানোর সময় যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

শিশু কিছুটা দুধ খাওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে দুধ ছেড়ে দিচ্ছে, আবার কিছুক্ষণ পর ক্ষুধার কারণে দুধ খেতে চাইছে—এ ধরনের ধারাবাহিকতা দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্বাভাবিকভাবে শিশু একটানা দুধ খেয়ে তৃপ্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বারবার দুধ খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং আবার দুধ খাওয়ার এই চক্র চলতে থাকলে তা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে কপালে ঘাম বা শ্বাসকষ্ট থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জন্মের পরপরই সব সমস্যা বোঝা যায় না

শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের জন্মগত সমস্যা সব সময় জন্মের পরপরই ধরা পড়ে না। জন্মের সময় ফুসফুসের ধমনিতে চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। পরে ধীরে ধীরে এই চাপ কমতে শুরু করলে হৃদ্‌যন্ত্রের কিছু সমস্যার লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।

এ কারণে জন্মের প্রায় দেড় মাস পর থেকে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে লক্ষণ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে। সাধারণত ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে কিছু সমস্যার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

যেসব হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা হতে পারে

শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে হৃদ্‌যন্ত্রের নিচের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝের দেয়ালে ছিদ্র, ওপরের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝের দেয়ালে ছিদ্র এবং জন্মের পর বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা থাকা একটি রক্তনালি খোলা থেকে যাওয়া।

এছাড়া কিছু শিশুর নীলাভ হৃদ্‌যন্ত্রের রোগও থাকতে পারে। এর একটি জটিল ধরনে একই সঙ্গে চার ধরনের ত্রুটি দেখা যায়। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের নিচের দুই প্রকোষ্ঠের মাঝের দেয়ালে ছিদ্র, ফুসফুসে রক্ত যাওয়ার পথ সরু হয়ে যাওয়া, হৃদ্‌যন্ত্রের ডান পাশের পেশি মোটা হয়ে যাওয়া এবং মহাধমনির অবস্থানে ত্রুটি থাকতে পারে।

শিশুর শরীর নীল হলে সতর্ক

হৃদ্‌যন্ত্রের কিছু সমস্যায় শিশুর জিহ্বার নিচে, ঠোঁটে কিংবা নখের কাছে নীলচে বা কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। আবার প্রচণ্ড কান্নার সময় পুরো শরীর নীল হয়ে যেতে পারে।

কখনো কান্না বা ঘুম থেকে ওঠার পর খিঁচুনি কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাও তৈরি হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

শিশুর ওজন ঠিকমতো না বাড়লে, দুধ খাওয়ার সময় বারবার হাঁপিয়ে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, অস্বাভাবিক ঘাম হলে কিংবা ঠোঁট ও জিহ্বা নীলচে হয়ে গেলে দেরি না করে শিশুর চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।

প্রয়োজনে হৃদ্‌যন্ত্রের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হতে পারে। চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হৃদ্‌যন্ত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।

জন্মের পর পরীক্ষা করলে আগেই ধরা পড়ে

জন্মের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে শিশুর হৃদ্‌যন্ত্র পরীক্ষা করানো উপকারী হতে পারে। কোনো লক্ষণ না থাকলেও পরীক্ষা করলে কিছু জন্মগত সমস্যা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব।

তবে সব জায়গায় একই ধরনের পরীক্ষা করার সুযোগ নাও থাকতে পারে। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসক স্টেথোস্কোপ দিয়ে শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের শব্দ শুনেও অনেক অস্বাভাবিকতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। পরে প্রয়োজন হলে আরও পরীক্ষা করা হয়।

শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব। তাই দুধ খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক হাঁপিয়ে যাওয়া, বারবার থেমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, ওজন না বাড়া বা শরীর নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণকে সাধারণ বিষয় ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
আজ জাতীয় আপেল দিবস, জানুন ইতিহাস ও আপেলের ৬ মজার তথ্য
ফলের মধ্যে আপেল বেশ জনপ্রিয়। সুস্বাদু এই ফলটি লাল, সবুজ ও হলুদসহ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি আপেলের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, নানা জাত ও পরিবেশগত গুরুত্ব। এসব বৈচিত্র্য তুলে ধরতে প্রতিবছর ২১ অক্টোবর পালিত হয় অ্যাপল ডে, যা ন্যাশনাল অ্যাপল ডে নামেও পরিচিত। অ্যাপল ডে কী ও কেন পালিত হয়? অ্যাপল ডে শুধু আপেল খাওয়ার আনন্দ উদ্‌যাপনের দিন নয়। আপেলের বিভিন্ন জাতের পরিচিতি বাড়ানো, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরিও দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। বাজারে সাধারণত কয়েক ধরনের আপেল বেশি দেখা গেলেও বিশ্বজুড়ে রয়েছে হাজার হাজার জাত। এসব আপেলের রং, আকার, স্বাদ ও গন্ধে রয়েছে ভিন্নতা। দিবসটি মানুষকে আপেলের এই বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করে। এ ছাড়া ফলের বাগান বিভিন্ন পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আপেল দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অ্যাপল দিবসের ইতিহাস অ্যাপল দিবসের সূচনা হয় ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে। পরিবেশ ও স্থানীয় ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা কমন গ্রাউন্ড (Common Ground) ওই বছরের ২১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি আয়োজন করে। লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেনের পুরোনো অ্যাপল মার্কেটে অনুষ্ঠিত প্রথম আয়োজনে প্রায় ৪০টি স্টলে বিভিন্ন জাতের আপেল, আপেলগাছের চারা, আপেলের রস ও সাইডারসহ নানা পণ্য প্রদর্শন করা হয়। এতে আপেল নিয়ে কাজ করা লেখক ও চিত্রকররাও অংশ নেন। যুক্তরাজ্যে ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান কমে যাওয়া এবং স্থানীয় আপেলের অনেক জাতের পরিচিতি হারিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দিবসটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন শহর, গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে অ্যাপল দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আপেলের প্রদর্শনী, ফলের স্বাদ গ্রহণ, রান্নার আয়োজন এবং বাগান পরিচর্যা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আপেল সম্পর্কে ৬টি মজার তথ্য ১. বিশ্বে আপেলের হাজার হাজার জাত রয়েছে আপেল বলতে শুধু লাল বা সবুজ ফলকেই বোঝায় না। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বে আপেলের ৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাত রয়েছে। জাতভেদে এসব আপেলের স্বাদ, রং, আকার ও ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যায়। ২. আপেল পানিতে ভাসে আপেলের ভেতরের প্রায় ২৫ শতাংশ জায়গা বাতাসে পূর্ণ। এ কারণে আপেলের ঘনত্ব পানির তুলনায় কম হওয়ায় এটি সাধারণত পানিতে ভেসে থাকে। ৩. আপেল ও গোলাপ একই পরিবারের আপেল ও গোলাপ দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানে এরা একই পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের নাম রোজেসি (Rosaceae)। নাশপাতি, পিচ ও বরইও এই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ৪. আপেলের আদি উৎস মধ্য এশিয়া গৃহপালিত আপেলের উৎপত্তির ইতিহাস মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে বর্তমান কাজাখস্তান অঞ্চলে পাওয়া বুনো আপেলকে আধুনিক আপেলের পূর্বপুরুষের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ৫. আপেল দিয়ে তৈরি হয় নানা খাবার সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি আপেল দিয়ে জুস, জ্যাম, পাই, কেক, সালাদ ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আপেল থেকে সাইডারও তৈরি করা হয়। ৬. আপেল দিবসে থাকে নানা আয়োজন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আপেলের জাত চেনা, ফলের রস তৈরি, আপেল দিয়ে রান্না, বাগান পরিচর্যা এবং শিশুদের জন্য নানা ধরনের আয়োজন করা হয়। কোথাও কোথাও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন জাতের আপেল শনাক্ত করতেও সহায়তা করেন। আপেলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা আপেল খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস। এতে থাকা খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে ভূমিকা রাখে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে আপেল খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে শুধু আপেল খেয়ে শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা প্রয়োজন। আপেল খাওয়ার আগে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি। প্রকৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আপেল দিবসের গুরুত্ব জাতীয় আপেল দিবস একটি ফলকে কেন্দ্র করে পালিত হলেও এর গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। আপেলের বৈচিত্র্য রক্ষা, ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা দেয় এই দিবস। ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ প্রতিবছর ২১ অক্টোবর মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, একটি ফলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে কৃষি, পরিবেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির দীর্ঘ সম্পর্ক। আরটিভি/এসকে
আজ জাতীয় আপেল দিবস, জানুন ইতিহাস ও আপেলের ৬ মজার তথ্য
পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক
নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার। যদিও পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম, তবে ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমাধানে কার্যকর ৪ উপায়
সন্তান না হলে অনেক সময় এর দায় নারীর ওপর চাপানো হয়। তবে বন্ধ্যত্ব শুধু নারীর সমস্যা নয়, পুরুষেরও হতে পারে। শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণগত মান বা চলাচলের সক্ষমতায় সমস্যা থাকলে পুরুষের সন্তান জন্মদানে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পুরুষ বন্ধ্যত্বের সমাধানে কার্যকর ৪ উপায়
আরও পড়ুন
দুধে ভেজাল মেশানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর
মেয়েকে তালাক করিয়ে প্রকাশ্য বাজারে দুধ দিয়ে গোসল মায়ের
লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে মিল্কভিটা দুধের দাম, নেপথ্যে যে কারণ
কফিতে দুধ মিশিয়ে খেলে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে