ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মাত্র ১০ মিনিটেই করুন পুরো শরীরের ব্যায়াম

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
মাত্র ১০ মিনিটে পুরো শরীরের ব্যায়ামে ব্যবহার করা যেতে পারে এক জোড়া ডাম্বেল। ছবি: সংগৃহীত

ব্যায়াম করার সময় নেই—এমনটা মনে করার আর কারণ নেই। মাত্র ১০ মিনিট সময় এবং এক জোড়া ডাম্বেল থাকলেই পুরো শরীরের ভালো একটি ব্যায়াম করা সম্ভব। এর জন্য করতে হবে মাত্র তিনটি ব্যায়াম।

এই ধরনের ব্যায়ামকে কম পরিমাণের উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম বলা হয়। সাধারণ উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়ামে অল্প সময়ের জন্য খুব জোরে ব্যায়াম করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয় এবং এভাবে কয়েকবার করতে হয়। সাধারণত এতে চারটি বা তার বেশি ব্যায়াম থাকে এবং সময় লাগে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট।

অন্যদিকে কম পরিমাণের উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়ামে মাত্র দুই থেকে চার ধরনের ব্যায়াম কয়েক দফা করলেই হয়। ফলে ১০ মিনিট বা তারও কম সময়ে ব্যায়াম শেষ করা সম্ভব।

কম সময়ে বেশি উপকার

হার্ভার্ড-সংশ্লিষ্ট স্পল্ডিং পুনর্বাসন নেটওয়ার্কের শারীরিক চিকিৎসক বিজয় দারিয়ানানি বলেন, অল্প সময়ে এই ব্যায়াম করতে হলে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হবে। অর্থাৎ সময় কম হলেও ব্যায়ামের তীব্রতা ধরে রাখতে হবে।

এই ধরনের ব্যায়ামে মূলত এমন কিছু ভঙ্গি রাখা হয়, যেগুলো একই সঙ্গে শরীরের একাধিক বড় পেশিতে কাজ করে। ফলে একটি ব্যায়ামেই শরীরের ওপরের ও নিচের অংশকে সক্রিয় করা যায়।

শুরুতে এমন ওজনের ডাম্বেল ব্যবহার করা উচিত, যাতে ১০ থেকে ১২ বার করার পর শেষ কয়েকবার বেশ কঠিন মনে হয়। আরও বেশি বার সহজে করতে পারলে ডাম্বেলের ওজন বাড়ানো যেতে পারে। আবার শুরুতে পাঁচ-ছয়বার করেই যদি শেষবারটি কঠিন মনে হয়, তাতেও সমস্যা নেই।

প্রথম ব্যায়াম: শুয়ে মাথার ওপর ডাম্বেল তোলা

এই ব্যায়ামে পেটের পেশি, কাঁধ ও বুকের পেশি কাজ করে।

প্রথমে মেঝে বা ব্যায়ামের বেঞ্চে চিৎ হয়ে শুয়ে দুই হাতে দুটি ডাম্বেল নিন। দুই হাত সোজা করে কাঁধের ওপর ডাম্বেল তুলে ধরুন।

এরপর দুই পা একসঙ্গে শরীরের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোণে তুলে রাখুন। পুরো ব্যায়ামের সময় পা এই অবস্থায় থাকবে।

এবার ওপরের বাহু স্থির রেখে কনুই ভাঁজ করে ডাম্বেল দুটি মাথার দুই পাশে নামিয়ে আনুন। কিছুক্ষণ থেমে আবার হাত সোজা করে ডাম্বেল আগের অবস্থানে তুলুন। এটিই একটি বার।

দ্বিতীয় ব্যায়াম: বসে উঠে ডাম্বেল মাথার ওপর তোলা

এই ব্যায়ামে পা ও কাঁধের পেশি কাজ করে। পাশাপাশি শরীরের ওঠানামার কারণে হৃদস্পন্দনও বাড়ে।

প্রথমে দুই পা কাঁধের সমান ফাঁক করে দাঁড়ান। দুই হাতে দুটি ডাম্বেল নিয়ে কাঁধের কাছে রাখুন। দুই হাতের তালু একে অপরের দিকে থাকবে।

পিঠ সোজা রেখে যতটা সম্ভব নিচু হয়ে বসুন। চাইলে উরু মেঝের সমান্তরাল হওয়া পর্যন্ত নামতে পারেন।

এরপর গোড়ালিতে ভর দিয়ে জোরে উঠে দাঁড়ান। একই সঙ্গে ডাম্বেল দুটি মাথার ওপর তুলুন, যতক্ষণ না দুই হাত পুরোপুরি সোজা হয়।

পরে ডাম্বেল আবার কাঁধের কাছে নামিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিচু হয়ে বসুন। এভাবে ধারাবাহিকভাবে করতে হবে।

তৃতীয় ব্যায়াম: বসে উঠে হাত ভাঁজ করা

এই ব্যায়ামে উরু, বাহু ও পেটের পেশি একসঙ্গে কাজ করে।

দুই পা কাঁধের সমান ফাঁক করে দাঁড়ান। দুই হাতে ডাম্বেল নিন। হাত শরীরের পাশে নিচের দিকে থাকবে এবং তালু থাকবে সামনের দিকে।

চেয়ারে বসার মতো করে ধীরে ধীরে নিচু হয়ে বসুন। যতটা আরামদায়ক ততটাই নিচে নামুন। চাইলে উরু মেঝের সমান্তরাল হওয়া পর্যন্ত যেতে পারেন।

নিচে নামার সময় একই সঙ্গে দুই কনুই ভাঁজ করে ডাম্বেল কাঁধের দিকে তুলুন। এরপর গোড়ালিতে চাপ দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আবার হাত শরীরের পাশে নামিয়ে আনুন।

তিন দফাতেই শেষ ১০ মিনিটে

এই তিনটি ব্যায়াম পরপর করে মোট তিন দফা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্যায়ামের মধ্যে ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে। সব মিলিয়ে সময় লাগতে পারে প্রায় ১০ মিনিট।

তবে শুরুতেই পুরো তিন দফা করা জরুরি নয়। ব্যায়ামটি বেশ কঠিন হওয়ায় প্রথম দিকে দুই দফা করলেও সমস্যা নেই। প্রয়োজন হলে বিশ্রামের সময়ও বাড়ানো যেতে পারে।

ধীরে ধীরে শরীর অভ্যস্ত হলে কম সময়ে বেশি ব্যায়াম করা সম্ভব হবে।

ব্যায়ামের সময় সতর্ক থাকুন

কম সময়ের এই ব্যায়াম বেশ তীব্র হতে পারে। তাই প্রথম দিকে ধীরে শুরু করা জরুরি। এতে আঘাতের ঝুঁকি কমে।

ব্যায়ামের সঠিক ভঙ্গি জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্ভব হলে শুরুতে প্রশিক্ষকের কাছ থেকে সঠিকভাবে ব্যায়াম করার পদ্ধতি শিখে নেওয়া ভালো।

হৃদযন্ত্রের সমস্যা, অস্থিসন্ধির সমস্যা, সাম্প্রতিক কোনো আঘাত বা চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা থাকলে উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ব্যায়াম করার সময় বা ব্যায়াম শেষ করার পর ব্যথা কিংবা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে থেমে যেতে হবে।

সূত্র: হার্ভার্ড


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
লো প্রেশার থাকলে ব্যায়ামের আগে জানুন এই সতর্কতা 
মন ভালো রাখতে মানুন ৪ সহজ অভ্যাস
ব্যায়ামের সময় নেই? ঘরের কাজেই মিলবে উপকার
৯০ মিনিটের ওয়ার্কআউটের চেয়েও কার্যকর হতে পারে ৩ মিনিটের ব্যায়াম