ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কাচের মতো মসৃণ ও চকচকে চুল চান? জেনে নিন রহস্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
কাচের মতো মসৃণ ও চকচকে চুল পেতে ঘরোয়া পরিচর্যায় মেথির ব্যবহার জনপ্রিয়। ছবি: সংগৃহীত

চুল এতটাই মসৃণ ও চকচকে যে আলো পড়লে কাচের মতো ঝকঝক করবে—এমন চুলের লুক এখন অনেকেরই পছন্দ। এই ধরনের মসৃণ ও উজ্জ্বল চুলকে বলা হয় কাচের মতো চুল বা গ্লাস হেয়ার (Glass Hair)। চুলের যত্নে নানা প্রসাধনীর পাশাপাশি ঘরোয়া উপাদানও ব্যবহার করেন অনেকে। এর মধ্যে মেথি ও ডিম বেশ জনপ্রিয়।

তবে কাচের মতো চকচকে চুল পেতে মেথি নাকি ডিম—কোনটি বেশি কার্যকর?

কাচের মতো চুল কীভাবে পাওয়া যায়?

চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিক্যাল যত মসৃণ থাকে, আলো তত সুন্দরভাবে চুলের ওপর প্রতিফলিত হয়। ফলে চুল দেখতে আরও চকচকে ও ঝকঝকে লাগে। চুলের নিয়মিত যত্ন, ভালোভাবে কন্ডিশনিং, সঠিকভাবে চুল সাজানো এবং অতিরিক্ত তাপ থেকে চুলকে সুরক্ষিত রাখা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

এর পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদানও সাময়িকভাবে চুল নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।

মেথির হেয়ার মাস্ক

চুলের যত্নে মেথির ব্যবহার বহুদিনের। মেথি বীজে বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখলে আঠালো ও জেলির মতো একটি পদার্থ তৈরি হয়। একে মিউসিলেজ বলা হয়।

এই মিউসিলেজ চুলের ওপর মসৃণ একটি আবরণ তৈরি করতে পারে। ফলে চুল ধোয়ার পর তুলনামূলকভাবে নরম ও মসৃণ লাগে এবং চুল সহজে সামলানো যায়।

চুলের ওপরের স্তর মসৃণ থাকলে আলোও তুলনামূলকভাবে সমানভাবে প্রতিফলিত হয়। এতে চুল দেখতে আরও চকচকে লাগে।

অর্থাৎ, মেথি চুলের গঠন বদলে দেওয়ার কোনো জাদুকরি উপায় নয়। বরং এটি অনেকটা কন্ডিশনারের মতো কাজ করে সাময়িকভাবে চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করতে পারে।

ডিমের হেয়ার মাস্ক কতটা কার্যকর?

চুল মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই ঘরোয়া চুলের মাস্কে ডিমের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। ডিমে অ্যামিনো অ্যাসিড ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

তবে ডিম খাওয়া আর কাঁচা ডিম সরাসরি চুলে লাগানো এক বিষয় নয়। চুলের যত্নের প্রসাধনীতে নির্দিষ্ট উপায়ে প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যবহার করা হলে চুলের শক্তি ও কন্ডিশন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু সরাসরি কাঁচা ডিম চুলে লাগালেই ক্ষতিগ্রস্ত চুল মেরামত হয়ে যাবে—এমন প্রমাণ নেই।

ঘরোয়া মাস্ক হিসেবে একটি ডিমের সঙ্গে এক টেবিল চামচ দই ও এক চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নেওয়া যায়। মিশ্রণটি ভেজা চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে পারেন। এরপর শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। তবে ধোয়ার সময় খুব গরম পানি ব্যবহার না করাই ভালো।

তাহলে মেথি নাকি ডিম?

কাচের মতো মসৃণ ও চকচকে চুলের লুক পেতে চাইলে মেথির মাস্ক তুলনামূলকভাবে এগিয়ে। মেথির মিউসিলেজ চুলের ওপর মসৃণ আবরণ তৈরি করতে পারে। এতে চুল সাময়িকভাবে নরম, মসৃণ ও চকচকে দেখাতে পারে।

অন্যদিকে, ডিমের মাস্কে থাকা প্রোটিন নিয়ে অনেক আগ্রহ থাকলেও কাঁচা ডিম সরাসরি চুলে ব্যবহার করলেই ক্ষতিগ্রস্ত চুল মেরামত হবে—এমনটা বলা যায় না।

চুল যদি খুব দুর্বল, ক্ষতিগ্রস্ত বা সহজেই ভেঙে যায়, তাহলে শুধু ঘরোয়া ডিমের মাস্কের ওপর নির্ভর না করে ভালো মানের প্রোটিনসমৃদ্ধ চুলের পরিচর্যার মাস্ক বা চিকিৎসাধর্মী পরিচর্যা বেশি কার্যকর হতে পারে।

শুধু মাস্কেই মিলবে না কাচের মতো চুল

কাচের মতো চকচকে চুল পেতে শুধু কোনো একটি মাস্ক ব্যবহার করলেই হবে না। নিয়মিত চুলের যত্নের পাশাপাশি চুলকে ভালোভাবে কন্ডিশনিং করা, সঠিকভাবে সাজানো এবং অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা করাও জরুরি।

ঘরোয়া মাস্ক চুলের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা সাময়িকভাবে বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তাই দ্রুত চকচকে লুক পেতে মেথি উপকারী হতে পারে, তবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য নিয়মিত ও সঠিক পরিচর্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
টাক মাথা নিয়ে সংকোচ নয়, উদযাপনের দিন আজ 
চুল পড়ে টাক হয়ে যাওয়া কিংবা নিজের ইচ্ছায় মাথা ন্যাড়া করা যে কারণেই হোক, টাক মাথা নিয়ে সংকোচের কিছু নেই।
টাক মাথা নিয়ে সংকোচ নয়, উদযাপনের দিন আজ 
রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং শরীর সতেজ রাখার উপায়
প্রচণ্ড রোদে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং সুস্থ থাকা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যেখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়।
রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং শরীর সতেজ রাখার উপায়
ঘামের গন্ধ দূর করতে বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম কোনটি সেরা?
সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় শখ করে দামি পারফিউম স্প্রে করলেন। কিন্তু লোকাল বাসের ভিড় ঠেলে কিংবা কিছুটা হেঁটে অফিসে পৌঁছাতেই দেখা গেল, শরীর থেকে উধাও হয়ে গেছে সুগন্ধ। উল্টো ঘামের দুর্গন্ধে নিজেই অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই হয়। অনেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য সুগন্ধির ব্র্যান্ড কিংবা মানকে দায়ী করেন। তবে বাস্তবে সমস্যাটা অনেক সময় সুগন্ধির নয়, বরং ভুল ধরনের পণ্য ব্যবহারের। বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম তিনটিই সুগন্ধি পণ্য হলেও এদের কাজ এক নয়। ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা, ঘাম নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী সুবাস ধরে রাখার জন্য আলাদা ধরনের পণ্য প্রয়োজন। তাই কখন কোনটি ব্যবহার করা উচিত, তা জানা জরুরি। ডিওডোরেন্ট প্রতিদিন বাইরে বের হতে হয়, গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হয় কিংবা দীর্ঘ সময় গরমের মধ্যে থাকতে হয় এমন মানুষের জন্য ডিওডোরেন্ট বেশ কার্যকর। সাধারণভাবে ঘামের নিজস্ব গন্ধ থাকে না। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে ক্রিয়া করে দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। ডিওডোরেন্টের মূল কাজ হলো সেই দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করা। এতে সুগন্ধি উপাদানের পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক উপাদান থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি সব ডিওডোরেন্ট ঘাম বন্ধ করে না। ঘাম কমানোর জন্য ব্যবহৃত পণ্যকে সাধারণত ‘অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট’ বলা হয়। এতে ঘামগ্রন্থির কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমাতে অ্যালুমিনিয়াম-ভিত্তিক উপাদান থাকতে পারে। তাই ঘামের গন্ধ নিয়ে অস্বস্তিতে থাকলে ডিওডোরেন্ট উপকারী, আর অতিরিক্ত ঘাম কমাতে চাইলে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট বেছে নেওয়া যেতে পারে। পারফিউম বিয়ে, পার্টি, করপোরেট মিটিং কিংবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় সুবাসের জন্য পারফিউমের জুড়ি নেই। পারফিউমে সুগন্ধি তেলের ঘনত্ব সাধারণত বডি মিস্টের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এর সুবাস তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে পারফিউমের মূল কাজ ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা নয়; এটি মূলত শরীর বা পোশাকে কাঙ্ক্ষিত সুবাস যোগ করে। তাই প্রচণ্ড ঘামে ভেজা শরীরে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। বরং ঘামের গন্ধের সঙ্গে পারফিউমের তীব্র সুবাস মিশে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি করতে পারে। বডি মিস্ট বডি মিস্ট হলো তুলনামূলকভাবে হালকা ধরনের সুগন্ধি। এতে সুগন্ধি উপাদানের ঘনত্ব পারফিউমের চেয়ে কম থাকায় এর সুবাসও সাধারণত কোমল ও স্নিগ্ধ হয়। যারা তীব্র সুগন্ধি পছন্দ করেন না কিংবা হালকা সতেজ অনুভূতি চান, তাদের জন্য বডি মিস্ট ভালো বিকল্প হতে পারে। গোসলের পর, বাসায় থাকার সময় কিংবা বিকেলে হাঁটতে বের হওয়ার আগে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে বডি মিস্টের সুবাস সাধারণত পারফিউমের মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে একাধিকবার ব্যবহার করতে হতে পারে। তাহলে কোনটি আপনার জন্য? ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুধু পারফিউমের ওপর নির্ভর না করে ডিওডোরেন্ট বা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর। আর দীর্ঘ সময় শরীরে সুন্দর সুবাস ধরে রাখতে চাইলে ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের পর পছন্দের পারফিউম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কার ও শুকনো শরীরে এগুলো ব্যবহার করাই ভালো। অন্যদিকে, যারা হালকা ও স্নিগ্ধ সুবাস পছন্দ করেন, তাদের জন্য বডি মিস্ট হতে পারে আদর্শ। অর্থাৎ, তিনটি পণ্যের কাজ তিন রকম। ঘামের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ডিওডোরেন্ট, ঘাম কমাতে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট, দীর্ঘস্থায়ী সুবাসের জন্য পারফিউম আর হালকা সতেজ অনুভূতির জন্য বডি মিস্ট—ব্যবহারটা হওয়া উচিত প্রয়োজন বুঝে। আরটিভি/এসকে
ঘামের গন্ধ দূর করতে বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম কোনটি সেরা?