
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক টানটান ভাব কমতে শুরু করে। মুখে ও চোখের নিচে ভাঁজ পড়া, ত্বক কুঁচকে যাওয়া এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়াসহ নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। এসব সমস্যা কমাতে বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের সিরাম ব্যবহার করেন। তবে ত্বকের যত্নে দামি সিরামের পাশাপাশি জীবনযাপন ও নিয়মিত পরিচর্যারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে শুরু থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে এবং নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিয়ে বয়সজনিত নানা সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, গ্রিন টি, গাজর, টমেটো, ডালিম, লেবু, বাদাম, পাকা পেঁপে ও টক দইয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন। নিয়মিত এসব খাবার খাদ্যতালিকায় রাখলে ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তবে শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করতে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। রেটিনয়েড ও হায়ালুরনিক অ্যাসিডযুক্ত পণ্যও ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়।
ঘরোয়া পরিচর্যায় ব্যবহৃত কয়েকটি উপাদানও রয়েছে। তবে সংবেদনশীল ত্বকে এগুলো ব্যবহারের আগে সতর্কতা প্রয়োজন।
নারকেল তেল
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে নারকেল তেল ব্যবহার করা হয়। রাতে ঘুমানোর আগে ত্বকের শুষ্ক অংশে অল্প পরিমাণ নারকেল তেল লাগানো যেতে পারে। তবে যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ, তাদের ক্ষেত্রে মুখে নারকেল তেল ব্যবহারে সতর্ক থাকা ভালো।
মধু
মধু ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। অল্প পরিমাণ মধু মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা যায়। তবে ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
শসা
শসায় প্রচুর পানি রয়েছে। ত্বক সতেজ রাখতে শসা ব্যবহার করা হয়। শসার রস পরিষ্কার ত্বকে লাগিয়ে কয়েক মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে পারেন।
লেবুর রস
লেবুতে ভিটামিন সি রয়েছে। তবে সরাসরি লেবুর রস মুখে ব্যবহার করলে অনেকের ত্বকে জ্বালা, শুষ্কতা বা সূর্যের আলোতে সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে। তাই ত্বকে সরাসরি লেবুর রস ব্যবহারের পরিবর্তে নিরাপদ ও পরীক্ষিত ভিটামিন সি-যুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করাই তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
আপেল সিডার ভিনেগার
আপেল সিডার ভিনেগার ত্বকে সরাসরি ব্যবহার করলে জ্বালা বা ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। তাই মুখে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা জেল ত্বকে আর্দ্রতা দিতে এবং শুষ্কতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। পরিষ্কার ত্বকে অল্প পরিমাণ অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যায়। তবে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো।
পেঁপে ও কলা
পাকা পেঁপে ও কলা ত্বকের পরিচর্যায় ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাকা পেঁপে ও কলা মিশিয়ে তৈরি প্যাক কিছুক্ষণ মুখে রেখে ধুয়ে ফেলা যায়। তবে এ ধরনের ঘরোয়া প্যাক ত্বকের বলিরেখা দূর করে—এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।
ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, ত্বকের উপযোগী ময়শ্চারাইজার এবং নিরাপদ স্কিনকেয়ার রুটিন ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
আরটিভি/এসকে


