
ব্যস্ত জীবনে তথ্য বিভ্রাট আর ভুলে যাওয়ার সমস্যায় আমরা কমবেশি সবাই ভুগি। কখনো প্রয়োজনীয় চাবি খুঁজে পাওয়া যায় না, আবার কখনো কারো নাম মনে করতে হিমশিম খেতে হয়।
এই সমস্যা সমাধানে বিখ্যাত নিউরোলজিস্ট ও মেমোরি এক্সপার্ট ডা. চরণ রঙ্গনাথ তার গবেষণার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর কিছু অসাধারণ টিপস দিয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের মতে, আমাদের মস্তিষ্ক মিতব্যয়িতার নীতিতে চলে; অর্থাৎ এটি খুব কম তথ্য সংগ্রহ করে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়। তাই অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভিড়ে প্রয়োজনীয় বিষয় মনে রাখতে সঠিক কৌশল অবলম্বন করা জরুরি।
ডা. রঙ্গনাথের মতে, তথ্য মনে রাখার প্রধান একটি উপায় হলো নিয়মিত বিরতিতে সেটির পুনরাবৃত্তি বা রিভিশন করা। কোনো বিষয় শেখার ১ দিন, ৩ দিন এবং ৭ দিন পর পুনরায় ঝালাই করলে তা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে জমা হয়। এছাড়া যে কোনো কিছু শেখার সময় পূর্ণ একাগ্রতা প্রয়োজন।
স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিভাইসের মনোযোগ বিচ্যুতি স্মৃতি ধরে রাখার পথে বড় বাধা। কঠিন বা জটিল তথ্য মনে রাখার জন্য সেগুলোকে মজার কোনো গল্পে রূপান্তর করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণ তথ্যের চেয়ে চিত্র বা অর্থপূর্ণ গল্প অনেক বেশি সহজে মনে রাখতে পারে।
স্মৃতিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে ‘মেমোরি প্যালেস’ বা স্থানভিত্তিক কৌশলও বেশ কার্যকর। কোনো তথ্যকে পরিচিত কোনো ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে সাজিয়ে রাখার কল্পনা করলে মস্তিষ্ক তা দ্রুত গ্রহণ করে। তবে এই সব কৌশলের পাশাপাশি মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. রঙ্গনাথের মতে, পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম না হলে স্মৃতিশক্তি ক্ষীণ হয়ে পড়ে। মূলত ঘুমের সময়ই মস্তিষ্ক সারাদিনের সংগৃহীত তথ্যকে স্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তর করে।
এছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং বাদাম, মাছ বা ব্লুবেরির মতো স্বাস্থ্যকর খাবার স্মৃতিশক্তিকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
আধুনিক যুগে আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণ তথ্যের সংস্পর্শে আসি, তার সবটুকু মনে রাখা মানুষের পক্ষে অসম্ভব।
১৯৫৬ সালের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে রঙ্গনাথ জানান, মানুষ একবারে মাত্র তিন থেকে চারটি বিষয় ভালোভাবে মনে রাখতে পারে। তাই সব তথ্য গ্রহণ করার চেষ্টা না করে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
তার নতুন বই ‘হোয়াই উই রিমেম্বার’-এ তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে স্মৃতির বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের জীবনকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুলতে পারি। ভুলে যাওয়া বা হতাশা কাটিয়ে সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে যে কেউ তার স্মরণশক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিতে পারেন। তথ্য সূত্র: সিএনএন
আরটিভি/এএইচ

