
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকেরা ৫৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী ৩৬৫ জনকে নিয়ে এ গবেষণা পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের সবার শরীরে ওমেগা-৩-এর মাত্রা কম ছিল এবং তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ছিল।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের এক দলকে প্রতিদিন ২ হাজার মিলিগ্রাম ডিএইচএ (ডকোসাহেক্সাইনয়িক অ্যাসিড) সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। অন্য দলকে দেওয়া হয় নিষ্ক্রিয় সাপ্লিমেন্ট বা প্লাসিবো। দুই দলই ২৪ মাস ধরে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স গ্রহণ করেন।
পরীক্ষায় দেখা যায়, ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের রক্তে ওমেগা-৩-এর মাত্রা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১ শতাংশে পৌঁছায়। ছয় মাসে মস্তিষ্কের চারপাশের তরলে ডিএইচএর মাত্রাও গড়ে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে এসব পরিবর্তনের পরও তাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি। মস্তিষ্কের স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হিপোক্যাম্পাসের আকারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পাওয়া যায়নি।
গবেষণাটির প্রধান লেখক হুসেইন ইয়াসিনের মতে, শুধু ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর আশা করা ঠিক নয়। মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ওমেগা-৩ শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এর মধ্যে থাকা ডিএইচএ মস্তিষ্ক, চোখ ও স্নায়ুতন্ত্রের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, ইপিএ প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকেরেলের মতো তৈলাক্ত মাছ ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস। এ ছাড়া আখরোট, চিয়া ও তিসির বীজ থেকেও ওমেগা-৩ পাওয়া যায়।
গবেষকদের মতে, মাছ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার থেকে শরীর ওমেগা-৩-এর পাশাপাশি প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান পায়। তাই সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম না করা, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকার মতো অভ্যাসের পাশাপাশি শুধু সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলেই প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট ইবায়োমেডিসিন-এ প্রকাশিত এ গবেষণার ফল ওমেগা-৩ নিয়ে আগের সব গবেষণার সিদ্ধান্তকে নাকচ করে না। বরং গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয়, শরীরে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়ানো আর স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটানো এক বিষয় নয়। তাই মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আরটিভি/এসকে

