ভুলে যাচ্ছেন মানুষের নাম, প্রয়োজনীয় কাজ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য? স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর সহজ একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, মাত্র কয়েক মিনিটের শারীরিক ব্যায়াম বা দ্রুত হাঁটাহাঁটিও মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্বল্প সময়ের শারীরিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে বিশেষ ধরনের স্নায়বিক সংকেত তৈরি করে, যা নতুন তথ্য সংরক্ষণ ও পরে মনে করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই জানা ছিল যে নিয়মিত ব্যায়াম মনোযোগ, চিন্তাশক্তি এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ নামের অংশকে আরও সক্রিয় করে তোলে। এই অংশটি স্মৃতি গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী মিশেল ভস। তিনি জানান, ব্যায়ামের পর মস্তিষ্কে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মতো কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। এসব কার্যকলাপ স্মৃতি সংরক্ষণ ও মনে করার প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।
গবেষণায় ১৪ জন অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। দেখা যায়, ব্যায়ামের পর হিপোক্যাম্পাস এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অংশে কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গবেষকদের ধারণা, এর ফলে মস্তিষ্ক নতুন তথ্য আরও কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দীর্ঘ সময়ের ব্যায়াম নয়, অল্প সময়ের হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চাও স্মৃতিশক্তির জন্য উপকারী। নতুন কিছু শেখার পর কিছুক্ষণ হাঁটলে তা মনে রাখার ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে মস্তিষ্কে এমন একটি প্রোটিনের উৎপাদন বাড়ে, যা নতুন স্নায়বিক সংযোগ তৈরিতে সহায়তা করে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিও কমতে পারে।
গবেষকদের পরামর্শ, সুস্থ মস্তিষ্ক ও ভালো স্মৃতিশক্তির জন্য প্রতিদিনের জীবনে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। কারণ সামান্য ব্যায়ামও মস্তিষ্কের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ




