
কান আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা শ্রবণশক্তির পাশাপাশি শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে অসতর্কতা বা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে কানের পর্দা বা টিম্পানিক ঝিল্লি ফেটে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়।
এই পাতলা ঝিল্লিটি বাইরের কান ও মধ্য কানের মাঝে অবস্থান করে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যেমন শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, তেমনি কানের অভ্যন্তরে নানা জটিলতা তৈরি হয়।
কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় এই সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়।
এছাড়া হঠাৎ কোনো বিকট বা উচ্চ শব্দ কানের ঝিল্লিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে তা ফাটিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি শারীরিক আঘাতও এই সমস্যার বড় কারণ।
অনেকে কান চুলকানোর জন্য ইয়ারবাড, দেশলাইয়ের কাঠি বা ধারালো বস্তু ব্যবহার করেন, যা অসাবধানতাবশত কানের পর্দার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
এছাড়া বিভিন্ন দুর্ঘটনাজনিত কারণে কানে আঘাত পেলেও পর্দা ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কানের পর্দা ফেটে গেলে সাধারণত কানে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। এর পাশাপাশি কান দিয়ে পানি পড়া, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, কানে গরম বোধ হওয়া এবং মাথা ঘোরার মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। কিছু ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো এককভাবে বা একত্রে দেখা দিতে পারে। এমন কোনো ইঙ্গিত দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
প্রাথমিক অবস্থায় কানে তীব্র ব্যথা হলে গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে সেক দেওয়া যেতে পারে, যা ব্যথা কমাতে সহায়ক। তবে কান দিয়ে পানি পড়লে বা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে কানের পর্দা পুনরুদ্ধারের জন্য ‘টিম্পানোপ্লাস্টি’ নামক এক ধরনের সার্জারি করা হয়, যার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ঝিল্লিকে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে কানের এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
আরটিভি/এএইচ


