
খাবার খাওয়ার পর দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে অনেকেই টুথপিক ব্যবহার করেন। রেস্তোরাঁ হোক বা ঘরোয়া আড্ডা, খাওয়ার শেষে দাঁত খোঁচানো অনেকের কাছেই একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটিকে সাধারণ ও নির্দোষ মনে হলেও দন্ত বিশেষজ্ঞরা কিন্তু দিচ্ছেন ভিন্ন বার্তা।
তারা বলছেন, টুথপিক ব্যবহারের ভুল পদ্ধতি বা এর অতিরিক্ত ব্যবহার আপনার মাড়ি ও দাঁতের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সাধারণত খাবার খাওয়ার পর দাঁতের সংযোগস্থলে আটকে থাকা কণা থেকে অস্বস্তি বা দুর্গন্ধ এড়াতে আমরা হাতের কাছে পাওয়া টুথপিক ব্যবহার করি। তবে এই তাৎক্ষণিক সমাধান দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এর প্রধান চারটি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত, টুথপিক সাধারণত শক্ত ও ধারালো হওয়ায় এর ব্যবহারে মাড়িতে আঘাত লাগার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। নিয়মিত খোঁচা লেগে মাড়ির কোষ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মাড়ি ক্ষয়ে যেতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো দাঁতের ফাঁক বড় হয়ে যাওয়া। নিয়মিত টুথপিক ব্যবহারের ফলে দাঁত দুটির মধ্যকার প্রাকৃতিক দৃঢ়তা বা সংযোগ আলগা হয়ে যায়। ফলে দাঁতের মধ্যবর্তী ফাঁক বড় হয়ে সেখানে আগের চেয়েও বেশি খাবার জমতে শুরু করে। এটি একটি ক্ষতিকর চক্র তৈরি করে যা দাঁতের স্থায়ী ক্ষতি করে।
এছাড়া কাঠের টুথপিক ব্যবহারের সময় তার সূক্ষ্ম অংশ ভেঙে মাড়ির নিচে আটকে যাওয়ার ঘটনাও বিরল নয়। এর ফলে মাড়িতে তীব্র ব্যথা ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ বা ইনফেকশন হতে পারে।
পাশাপাশি দাঁতের উপরিভাগের সুরক্ষাকারী স্তর বা এনামেল টুথপিকের ঘষায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে দাঁতে শিরশিরানি ও ক্যাভিটির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
দাঁতের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে টুথপিকের পরিবর্তে নিরাপদ ও আধুনিক বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন ডেন্টিস্টরা। এক্ষেত্রে ‘ডেন্টাল ফ্লস’ বা বিশেষ সুতা ব্যবহারের মাধ্যমে মাড়িতে আঘাত না করেই পরিষ্কার করা সম্ভব।
দাঁতের ফাঁক কিছুটা বড় হলে ‘ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ’ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া খাওয়ার পর মাউথ ওয়াশ বা হালকা গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে কুলকুচি করলেও দাঁতের কোণে জমে থাকা ক্ষুদ্র কণা অনায়াসেই বেরিয়ে আসে।
তাই সুন্দর হাসি ও সুস্থ মাড়ির জন্য টুথপিক ব্যবহারের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আরটিভি/এএইচ


