ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের ৫ অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের জীবনে স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ থাকতে চাইলে সব সময় কঠিন নিয়ম বা দ্রুত ফল পাওয়ার পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না। বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই শরীর ও মন ভালো রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্য নিয়ে নানা পরামর্শ ও নতুন নতুন পদ্ধতির ভিড়ে সহজ ও দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা যায়—এমন অভ্যাসই বেশি কার্যকর। প্রতিদিনের জীবনে এমন পাঁচটি অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখুন

প্রতিদিন কিছু সময় বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন। হাঁটার সময় চারপাশের গাছপালা, পাখি বা প্রকৃতির দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে মন শান্ত হতে এবং দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ধ্যানও মন ও শরীরকে শান্ত রাখতে সহায়ক। শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস করা যায়। নিয়মিত এমন অনুশীলন দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমাতে, হৃদ্‌স্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

খাওয়ার সময়ও মনোযোগী হওয়া জরুরি। ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া এবং খাবারের স্বাদ উপভোগ করা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ঘুমকে গুরুত্ব দিন

ভালো ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, শরীর ও মনের সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ও শান্ত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্মৃতি, বিচারবোধ এবং মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।

বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্কের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে শুধু কত ঘণ্টা ঘুম হলো, তা নয়—ঘুম কতটা গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন হলো, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো ঘুমের জন্য প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জেগে ওঠার অভ্যাস করা যেতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা, বিকেল ও সন্ধ্যার পর চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর আগে বেশি খাবার না খাওয়াও উপকারী। ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে মুঠোফোন, কম্পিউটার বা অন্য পর্দার ব্যবহার বন্ধ করা ভালো।

নিয়মিত ঘুমের সমস্যা, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রাকৃতিক খাবার বেশি খান

শাকসবজি, ফল, ডাল, মটরশুঁটি, ছোলা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। এসব খাবার দীর্ঘমেয়াদে শরীর সুস্থ রাখতে এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে অনেক সময় বেশি লবণ, চিনি, কৃত্রিম মিষ্টি, রং ও অন্যান্য উপাদান যোগ করা হয়। এসব খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ভালো নয়।

তাই খাবারের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব তাজা ও স্বাভাবিক খাবারকে প্রাধান্য দেওয়া ভালো।

বেশি নড়াচড়া করুন, কম বসে থাকুন

ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় বসে থাকা খুব সহজ। কিন্তু শরীরকে সচল রাখতে দিনের বিভিন্ন সময় নড়াচড়া করার সুযোগ খুঁজে নেওয়া জরুরি।

প্রতিদিন একটানা ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা ভালো। তবে এর পাশাপাশি সারাদিন ছোট ছোট সময় হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা বা অন্যভাবে শরীর সচল রাখাও উপকারী।

কাজের ফাঁকে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা, বন্ধুদের সঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়ার পরিবর্তে হাঁটতে হাঁটতে সময় কাটানো—এ ধরনের অভ্যাস শরীরকে সচল রাখতে পারে।

বয়স, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে যাদের চলাফেরায় সমস্যা রয়েছে, তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উপযুক্ত শারীরিক কার্যক্রম বেছে নিতে পারেন।

প্রতিদিনের ক্ষতিকর উপাদান থেকে নিজেকে বাঁচান

বায়ুদূষণ, অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা এবং কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান আধুনিক জীবনে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কঠিন। এসব উপাদান শরীরে ঢুকে ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

বায়ুদূষণ বা আগুনের ধোঁয়ার অতি ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে এবং রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে হৃদ্‌রোগ, ফুসফুসের সমস্যা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

রান্নার সময় গ্যাসের চুলা থেকেও কিছু ক্ষতিকর গ্যাস ও অতিক্ষুদ্র কণা তৈরি হতে পারে। তাই রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। সম্ভব হলে বৈদ্যুতিক বা তড়িৎচৌম্বক চুলা ব্যবহার করা যেতে পারে।

পানি পরিষ্কার রাখতে উপযুক্ত পানি পরিশোধক ব্যবহার করা, রান্নাঘরের প্লাস্টিকের বদলে কাচের পাত্র ব্যবহার করা এবং পানির জন্য স্টিলের বোতল ব্যবহার করাও ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

বাইরের বাতাসে দূষণ বেশি থাকলে ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বাইরে কাজ করেন এমন মানুষের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

ছোট অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন

সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন কঠিন কোনো নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন নেই। মনকে শান্ত রাখা, ভালো ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত নড়াচড়া এবং ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শ কমানোর মতো সহজ অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় নতুন নতুন পদ্ধতির পেছনে না ছুটে প্রতিদিনের জীবনে টেকসই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সুস্থ থাকার সহজ পথ।

সূত্র: হার্ভার্ড


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অতিরিক্ত গরম চা খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?
সকালের শুরুতে এক কাপ চা, বিকেলে ক্লান্তি দূর করতে আবারও চায়ের কাপে চুমুক—এমন অভ্যাস অনেকেরই।
অতিরিক্ত গরম চা খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা, অবসর সময়ে সোফায় গা এলিয়ে মুঠোফোন দেখা কিংবা শারীরিক পরিশ্রম না করা—আধুনিক জীবনে এমন অভ্যাস অনেকেরই।
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে