
সকাল থেকে অফিসে বসে কাজ। একবার চেয়ারে বসার পর কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, অনেকেই টের পান না। কাজের ব্যস্ততায় দুপুরের খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় কোনো কাজ ছাড়া চেয়ার ছাড়ার সুযোগও হয় না। এভাবেই প্রতিদিন ৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করা এখন অনেকের জীবনের নিয়মিত অংশ।
কিন্তু দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়। দিনের শেষে কিছুক্ষণ হাঁটলেই সব ঝুঁকি দূর হয়ে যাবে—এমনটাও ভাবা ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসও কমাতে হবে।
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কেন ঝুঁকি বাড়ে
দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন হৃদ্রোগ, স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ সময় শরীরের নড়াচড়া কম থাকলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা কয়েক ঘণ্টা চেয়ারে বসে থাকলে শরীরের বড় পেশিগুলোর কার্যক্রম কমে যায়। একই সঙ্গে শরীরের শক্তি ব্যয়ও কম হয়। প্রতিদিন এমন জীবনযাপন করলে ওজন বাড়া এবং বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই শুধু দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে ব্যায়াম করলেই হবে না। দিনের বড় সময়টা কীভাবে কাটছে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
দিনে ঠিক কতক্ষণ হাঁটবেন
নিয়মিত হাঁটা শরীর ও মনের জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক হাঁটার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে।
তবে প্রতিদিন ঠিক ৮ হাজার বা ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। মানুষের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর প্রয়োজনীয় শারীরিক কার্যক্রমের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
অর্থাৎ দিনের শেষে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটা উপকারী হলেও শুধু ওই সময়টুকুর ওপর নির্ভর করে সারাদিনের দীর্ঘ বসে থাকার অভ্যাসকে নিরাপদ ভাবা ঠিক নয়।
প্রতি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টায় উঠুন
দীর্ঘ সময় ডেস্কে কাজ করতে হলে একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে চেয়ার ছেড়ে ওঠার অভ্যাস করা ভালো।
সম্ভব হলে প্রতি ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি বা শরীর নড়াচড়া করা যেতে পারে। অল্প সময় দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা হালকা শরীর টানটান করার ব্যায়ামও শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে।
কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও এমন ছোট বিরতি নেওয়া সম্ভব। এর জন্য আলাদা করে অনেক সময় বের করার প্রয়োজন নেই।
অফিসেই বাড়াতে পারেন হাঁটাহাঁটি
শারীরিক কার্যক্রম বাড়াতে সবসময় আলাদা করে ব্যায়ামের সময় বের করতে হবে—এমন নয়। অফিসের দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও কিছু পরিবর্তন আনা যায়।
যেমন—
১. সম্ভব হলে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন
২. দূরভাষে কথা বলার সময় হাঁটুন
৩. ছোটখাটো অফিসের কাজে নিজে উঠে যান
৪. দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকুন
৫. কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন
৬. সুযোগ পেলে হালকা শরীর টানটান করার ব্যায়াম করুন
এসব ছোট অভ্যাস দিনের মোট নড়াচড়া বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
শুধু দিনের শেষে হাঁটলেই হবে না
ব্যস্ত কর্মজীবনে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করা মানুষের জন্য আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুধু দিনের শেষে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটলেই দায়িত্ব শেষ নয়।
সারাদিনে যতটা সম্ভব বসে থাকার সময় কমাতে হবে। কাজের ফাঁকে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো, কয়েক মিনিট হাঁটা কিংবা শরীর নড়াচড়া করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
অর্থাৎ সুস্থ থাকার জন্য নির্দিষ্ট কোনো হাঁটার সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শেষে হাঁটার পাশাপাশি পুরো দিনজুড়েই শরীরকে যতটা সম্ভব সচল রাখুন।
আরটিভি/জেএমএ


