ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ? শরীর সচল রাখতে দিনে কতক্ষণ হাঁটবেন 

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজের ফাঁকে নিয়মিত উঠে হাঁটাহাঁটি ও শরীর নড়াচড়া করা শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে। ছবি: সংগৃহীত

সকাল থেকে অফিসে বসে কাজ। একবার চেয়ারে বসার পর কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, অনেকেই টের পান না। কাজের ব্যস্ততায় দুপুরের খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় কোনো কাজ ছাড়া চেয়ার ছাড়ার সুযোগও হয় না। এভাবেই প্রতিদিন ৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করা এখন অনেকের জীবনের নিয়মিত অংশ।

কিন্তু দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়। দিনের শেষে কিছুক্ষণ হাঁটলেই সব ঝুঁকি দূর হয়ে যাবে—এমনটাও ভাবা ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসও কমাতে হবে।

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কেন ঝুঁকি বাড়ে

দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন হৃদ্‌রোগ, স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ সময় শরীরের নড়াচড়া কম থাকলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা কয়েক ঘণ্টা চেয়ারে বসে থাকলে শরীরের বড় পেশিগুলোর কার্যক্রম কমে যায়। একই সঙ্গে শরীরের শক্তি ব্যয়ও কম হয়। প্রতিদিন এমন জীবনযাপন করলে ওজন বাড়া এবং বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই শুধু দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে ব্যায়াম করলেই হবে না। দিনের বড় সময়টা কীভাবে কাটছে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

দিনে ঠিক কতক্ষণ হাঁটবেন

নিয়মিত হাঁটা শরীর ও মনের জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক হাঁটার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে।

তবে প্রতিদিন ঠিক ৮ হাজার বা ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। মানুষের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর প্রয়োজনীয় শারীরিক কার্যক্রমের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

অর্থাৎ দিনের শেষে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটা উপকারী হলেও শুধু ওই সময়টুকুর ওপর নির্ভর করে সারাদিনের দীর্ঘ বসে থাকার অভ্যাসকে নিরাপদ ভাবা ঠিক নয়।

প্রতি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টায় উঠুন

দীর্ঘ সময় ডেস্কে কাজ করতে হলে একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে চেয়ার ছেড়ে ওঠার অভ্যাস করা ভালো।

সম্ভব হলে প্রতি ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি বা শরীর নড়াচড়া করা যেতে পারে। অল্প সময় দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা হালকা শরীর টানটান করার ব্যায়ামও শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও এমন ছোট বিরতি নেওয়া সম্ভব। এর জন্য আলাদা করে অনেক সময় বের করার প্রয়োজন নেই।

অফিসেই বাড়াতে পারেন হাঁটাহাঁটি

শারীরিক কার্যক্রম বাড়াতে সবসময় আলাদা করে ব্যায়ামের সময় বের করতে হবে—এমন নয়। অফিসের দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও কিছু পরিবর্তন আনা যায়।

যেমন—

১. সম্ভব হলে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন
২. মোবাইলে কথা বলার সময় হাঁটুন
৩. ছোটখাটো অফিসের কাজে নিজে উঠে যান
৪. দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকুন
৫. কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন
৬. সুযোগ পেলে হালকা শরীর টানটান করার ব্যায়াম করুন

এসব ছোট অভ্যাস দিনের মোট নড়াচড়া বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

শুধু দিনের শেষে হাঁটলেই হবে না

ব্যস্ত কর্মজীবনে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করা মানুষের জন্য আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুধু দিনের শেষে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটলেই দায়িত্ব শেষ নয়।

সারাদিনে যতটা সম্ভব বসে থাকার সময় কমাতে হবে। কাজের ফাঁকে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো, কয়েক মিনিট হাঁটা কিংবা শরীর নড়াচড়া করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

অর্থাৎ সুস্থ থাকার জন্য নির্দিষ্ট কোনো হাঁটার সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শেষে হাঁটার পাশাপাশি পুরো দিনজুড়েই শরীরকে যতটা সম্ভব সচল রাখুন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে