ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

চুল পাকার সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন ইঙ্গিত

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
বয়সের সঙ্গে চুল পাকার পেছনে ক্ষতিগ্রস্ত কোষের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভূমিকা থাকতে পারে বলে নতুন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ছবি: সংগৃহীত

বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল পেকে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। মাথায় প্রথম সাদা চুল দেখা দিলে অনেকেই এটিকে বয়সের ছাপ হিসেবে দেখেন। কেউ আবার চুলের রং ঢাকতে নানা উপায় বেছে নেন। তবে নতুন এক গবেষণায় চুল পাকার সঙ্গে শরীরের কোষীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি অপ্রত্যাশিত সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কোষ ক্যানসারে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি এড়াতে নিজেদের পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। এর ফলে চুলের রং তৈরির কোষের মজুত কমে গিয়ে চুল সাদা বা ধূসর হয়ে যেতে পারে। গবেষণার তথ্য দ্য টেলিগ্রাফ ও সায়েন্স ডেইলির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি নেচার সেল বায়োলজি সাময়িকীতেও প্রকাশিত হয়েছে।

চুলের রং তৈরি হয় যেভাবে

চুলের রং তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মেলানোসাইট স্টেম সেল। চুলের গোড়ার গভীরে থাকা এই কোষ প্রয়োজন অনুযায়ী রঞ্জক কোষ তৈরি করে। এসব রঞ্জক কোষই চুল ও ত্বকের রং নির্ধারণ করে।

চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার চক্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই কোষগুলো বারবার সক্রিয় হয়। নতুন কোষ তৈরি করে আবার বিশ্রামে যায়। এভাবেই দীর্ঘদিন চুলের স্বাভাবিক রং বজায় থাকে।

ক্ষতিগ্রস্ত কোষের অদ্ভুত সিদ্ধান্ত

শরীরের অন্যান্য কোষের মতো চুলের রং তৈরির এই কোষগুলোও বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিবেগুনি রশ্মি, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ এবং শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় তৈরি ক্ষতির কারণে তাদের বংশগত উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মেলানোসাইট স্টেম সেলের বংশগত উপাদানে গুরুতর ক্ষতি হলে কোষটি একটি বিশেষ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়ার নাম দিয়েছেন সেনো-ডিফারেনশিয়েশন। সহজভাবে বললে, ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেল দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রঞ্জক কোষে পরিণত হয়ে যায়। এরপর সেটি আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না।

ফলে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরির মজুত ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এরই একটি ফল হিসেবে চুলে ধূসর বা সাদা রং দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ একটি সাদা চুলকে এমন একটি কোষীয় পরিবর্তনের চিহ্ন হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কোষটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই নিজের স্টেম সেল অবস্থান ছেড়ে দেয়।

চুল পাকা মানেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা নয়

তবে গবেষকেরা এমন দাবি করেননি যে চুল পেকে গেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায় বা ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। বরং তাদের ধারণা, চুল পাকার এই প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে ভবিষ্যতে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার সুযোগ কমানোর একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হতে পারে।

তবে এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সব সময় একইভাবে কাজ করে না। ক্ষতির ধরন এবং কোষের আশপাশের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে এর পরিণতি ভিন্ন হতে পারে।

একই কোষ, দুই রকম পরিণতি

গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো, সব ধরনের ক্ষতির ক্ষেত্রে কোষ একই পথ বেছে নেয়নি। কিছু পরিস্থিতিতে আশপাশের টিস্যু থেকে পাওয়া সংকেত ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেলকে আবার বিভাজিত হয়ে সংখ্যা বাড়াতে উৎসাহিত করেছে।

এর ফলে বংশগত উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও কোষগুলো টিকে থেকে বিভাজিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতি ত্বকের মেলানোমা নামের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।

বিজ্ঞানীরা এই দুই বিপরীত পরিণতিকে পরস্পরবিরোধী পরিণতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ একই ধরনের স্টেম সেল ক্ষতির ধরন ও আশপাশের পরিবেশের সংকেত অনুযায়ী কখনো চুল পাকার কারণ হতে পারে, আবার কখনো ক্যানসারের সূচনাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

বয়স বাড়লে কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কোষে বংশগত উপাদানের ক্ষতি জমতে থাকে। একই সঙ্গে ক্ষতি শনাক্ত করা, মেরামত করা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সরিয়ে ফেলার স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

নতুন গবেষণা বলছে, চুল পাকা ও ত্বকের মেলানোমার মতো বিষয়গুলোর পেছনে কিছু অভিন্ন কোষীয় প্রক্রিয়া থাকতে পারে। শরীর কোনো ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে সরিয়ে দেবে, নাকি তাকে টিকে থেকে বিভাজিত হওয়ার সুযোগ দেবে—এই সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করতে পারে।

মানুষের ক্ষেত্রে এখনও নিশ্চিত নয়

তবে গবেষণার ফল থেকে এখনই মানুষের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। ইঁদুর ও মানুষের জীববিজ্ঞানে পার্থক্য রয়েছে। মানুষের বংশগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন ও পরিবেশও এই প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই মানুষের চুল পাকার সঙ্গে মেলানোমার ঝুঁকির সম্পর্ক ঠিক কেমন, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। নতুন এই গবেষণা অবশ্য চুল পাকার মতো স্বাভাবিক একটি ঘটনাকে শরীরের কোষীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বোঝার ক্ষেত্রে নতুন একটি দিক দেখিয়েছে।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
কাজের চাপ, যানজট কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেও দীর্ঘক্ষণ তা আটকে রাখেন। তবে একবার এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলেই কি শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়?
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
জরাজীর্ণ ঘরেই ধান নিয়ে গবেষণা, ২১ বছরে ২৫ জাত উদ্ভাবন সেন্টু হাজংয়ের
‘গবেষণার লক্ষ্য শুধু স্বীকৃতি নয়, মানুষের কাজে লাগা’
ক্যানসারে আক্রান্ত ডেন্টাল ছাত্রীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার আহ্বান রামেক অধ্যক্ষের
স্তন ক্যানসার সচেতনতায় ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’