ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সড়কে এআই ক্যামেরা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১০:৫১ এএম

রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রযুক্তি-নির্ভর নজরদারি জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের ফলে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইন মানার ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড় এবং ব্যস্ত সড়কগুলোতে এআই-ভিত্তিক আধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, স্টপ-লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, বেআইনিভাবে লেন পরিবর্তন, জেব্রা ক্রসিং দখল, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, সিটবেল্ট না বাঁধা এবং অননুমোদিত ভিআইপি লাইটের ব্যবহার প্রভৃতি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।

ডিএমপির মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ১২০টি এআই-চালিত ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বর্তমানে ২০টিরও বেশি ক্যামেরা পুরোপুরি সচল রয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকার ২০টিরও বেশি প্রধান পয়েন্টে বর্তমানে এআই ক্যামেরা কাজ করছে, যা ট্রাফিক মনিটরিং এবং আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরকে এআই নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএমপির।

মুখপাত্র আরও বলেন, গত সোমবার পর্যন্ত এআই ক্যামেরা সিস্টেমের মাধ্যমে মোট ৫০২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের প্রভাব সম্পর্কে নাসিরুদ্দিন বলেন, এ উদ্যোগে জনগণের সাড়া উৎসাহব্যঞ্জক। এটি জনমনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। অনেক চালক ও যাত্রী এখন স্বপ্রণোদিত হয়ে ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন।

তিনি আরও জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগ ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শহরের সড়কে যানজট কমাতেও সহায়তা করছে।

তবে ডিএমপির এই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, ঢাকার ট্রাফিক পরিস্থিতির টেকসই উন্নতির জন্য আরও ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে: সড়ক অবকাঠামোর সম্প্রসারণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, রাস্তার মাঝখানে বাসযাত্রী ওঠানামা বন্ধ এবং একই রুটে বাস, ট্রাক, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজি বাইকের মতো ভিন্ন গতির যানবাহন একসঙ্গে চলাচল কমানো।

জানা যায়, যেসব মোড়ে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে, সেখানে ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে চালকদের আচরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

বিজয় সরণি মোড়ে দেখা যায়, সিগন্যাল লাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি স্টপ-লাইনের পেছনে থেমে যাচ্ছে এবং কোনো গাড়ি জেব্রা ক্রসিং দখল করে রাখছে না।

কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও হোটেলের মোড়েও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, চালকরা এখন স্বয়ংক্রিয় মামলার ভয়ে কঠোরভাবে সিগন্যাল মানছেন।

ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যামেরার নজরদারিতে চালকরা আর সিগন্যাল অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন না। কেউ লাইন পার হচ্ছে না। বেশিরভাগ চালকই সিগন্যাল মেনে চলছেন। আমরা শুধু দাঁড়িয়ে আছি এবং লাইটের সংকেত অনুযায়ী গাড়ি থামানো বা ছাড়ার ইশারা দিচ্ছি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এআই-চালিত এই পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরাগুলো ৩৬০ ডিগ্রিতে ঘুরতে পারে, দূর থেকে যানবাহনের ওপর জুম করতে পারে এবং স্পষ্টাক্ষরে গাড়ির নম্বর প্লেটও শনাক্ত করতে সক্ষম।

সিস্টেমটি এমন সফটওয়্যারের সঙ্গে সংযুক্ত, যা ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে সক্ষম এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির মালিক শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট (টিটিইউ) জানিয়েছে, বর্তমানে ক্যামেরাগুলো ৬টি ‘লজিক’ ব্যবহার করে বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধ শনাক্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ডিএমপি সার্ভারে সংরক্ষণ হচ্ছে। পরবর্তীতে টিটিইউ কর্মকর্তারা সেই ফুটেজগুলো পর্যালোচনা করেন এবং ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যার’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল মামলা দায়ের করেন।

কর্মকর্তারা জানান, এ ব্যবস্থা এখনও নতুন হওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ বর্তমানে ছোটখাটো আইন লঙ্ঘনকে কিছুটা শিথিল দৃষ্টিতে দেখছে।

ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আইন লঙ্ঘনের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে কি না কিংবা স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে কি না— মামলা করার ক্ষেত্রে আমরা বর্তমানে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিচ্ছি।

বর্তমানে পুলিশ ডাকযোগে মামলা নোটিশ পাঠাচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসএমএস ও অ্যাপভিত্তিক নোটিফিকেশন চালু করার পরিকল্পনা করছে। চালকরা তাদের আইন লঙ্ঘনের ভিডিও ফুটেজ সরাসরি দেখার জন্য লিঙ্কও পাবেন। পুলিশ বলছে, এ পদক্ষেপ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে।

গত ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এআই-ভিত্তিক আইন প্রয়োগের উদ্যোগটি শুরু হয়। এর আগে ২৯ এপ্রিল পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির ডিএমপি সদর দপ্তরে সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এআই নজরদারির এই সম্প্রসারণ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশিং ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করার দেশব্যাপী বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। এর লক্ষ্য হলো নগর নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিক সেবা প্রদান ব্যবস্থা উন্নত করা।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এআই প্রযুক্তি এখন স্মার্ট সিসিটিভি সিস্টেমেও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি, পরিত্যক্ত বস্তু, অস্ত্র, সহিংস আচরণ এবং সম্ভাব্য হুমকি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।

কর্মকর্তারা আরও জানান, সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি, ডিপফেক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং অপপ্রচার মোকাবিলায় বাংলাদেশ ক্রমশ এআই টুলস-এর ব্যবহার বৃদ্ধি করছে।

সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সরকারের অবস্থান জানালেন শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সৌদি সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় আছে সরকার। সৌদি আরবের সাথে আমাদের মিশন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। শিগগিরই সৌদি সরকারের পক্ষ  থেকে জবাব পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।  সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এখন পর্যন্ত সৌদি সরকারের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া গেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, না, কাজ চলছে। কাজ চলছে, সময় লাগবে, সময় লাগছে। তো আমরা আশা করছি যে, সৌদি সরকারের কাছ থেকে আমরা দ্রুত কিছু খবর পাব। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা। সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানতে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে গত ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি আরবের পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তথ্য ও বিস্তারিত জানতে চায়। জেদ্দার পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি পাঠানোর তিন দিন পর ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এ সময় একই চিঠি পুনরায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরটিভি/ এসকেডি
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সরকারের অবস্থান জানালেন শামা ওবায়েদ
কোনদিকে যাচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কবে?
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে এসেছেন পোশাক শ্রমিকরা। গত কয়েকদিন ধরে চলমান এই আন্দোলনে অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশ। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। 
কোনদিকে যাচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কবে?
সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের জরুরি বার্তা
সোমবার (২ নভেম্বর) নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংবলিত জরুরি বার্তা প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের জরুরি বার্তা
২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ওই বছর মোট ২৯ দিন ছুটি থাকবে। 
২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন
‘পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে’
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কখনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা আরও বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
‘পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে’
আরও পড়ুন
ঢাকার আরও যেসব মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা
চালকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জিপিএস নজরদারিতে বদলাচ্ছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
অপরাধ দমনে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে এআই ক্যামেরায় নজরদারি
এবার ঢাকার ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা