ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে যা বললেন মাহ্‌দী আমিন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্‌দী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্‌দী আমিন বলেছেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ কোনো ধরনের বন্যা, জলাবদ্ধতার বা দুর্ভোগে পড়েনি। তবে কিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েরেছন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সরকারের অবস্থানসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এ কথা বলেন তিনি।

নিচে ড. মাহ্‌দী আমিনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

দেশজুড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ চলমান রয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে কেন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও যথেষ্ট ভেবেছে। পারিপার্শ্বিক সব পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে, বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে জানা গেছে, দেশজুড়ে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা একটি দায়বদ্ধতা। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয় সেটি যেমন সরকারের লক্ষ্য, ঠিক তেমনি তাদের দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করে যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করাও দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার।

এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিগত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। আজ সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। সর্বসম্মত মতামত এসেছে যে, চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের সকল বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তবে একইসাথে সীমিতসংখ্যক হলেও, যেকোনো শিক্ষার্থীর ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২,৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি- এই পাঁচ জেলায় ইতোমধ্যে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য জেলায় পরীক্ষা আয়োজনে অনুকূল পরিবেশ থাকায়, বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বস্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সামনের দিনগুলোতেও বিরূপ আবহাওয়ার জন্য একদিকে দেশজুড়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীবান্ধব যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেন। যদি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের কোথাও কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল পাওয়ার তথ্য এসেছে। উক্ত প্রশ্নের জন্য সবাইকে ফুল মার্কস দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত, সেটি শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন।

গতকাল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে, মূলত এই একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন এবং শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত সিদ্ধান্তে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য আলোচিত সেই ছবির মতো বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনিক পদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। কেবল একটি কেন্দ্রের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও, কুমিল্লা বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রের প্রায় সকল শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সারা দেশে ২,৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও নিশ্চয়ই পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। মিথ্যা-পুরানো ছবি ও ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার চালানো, কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও উস্কানি প্রদান গণআকাঙ্খার সাথে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে কোমলতি শিক্ষার্থীরা নিশ্চয় সজাগ রয়েছে।

গণতান্ত্রিক যে মূল্যবোধ আমরা ধারণ করি, সেখানে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সমালোচনা অবশ্যই থাকবে। মতের পার্থক্যও থাকবে, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের ঐকমত্য থাকতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিটি মানুষের ঐক্য প্রয়োজন। কারণ দেশটা আমাদের সবার। এই শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের সবার। এই শিক্ষার্থীরাই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সহযোগিতা করা ও প্রেরণা জোগানো আমাদের সবার সমন্বিত দায়িত্ব।

শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রবল দায়বদ্ধতা ও অবারিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় বর্তমান সরকার ব্রত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিপুলসংখ্যক জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর কষ্ট হয়েছে, এটি যেমন সত্য; তেমনি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে, এটিও সত্য। কিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে অনেক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, এটি যেমন সত্য; দেশের বিরাট অংশের শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বন্যা, জলাবদ্ধতার বা দুর্ভোগে পড়েনি, এটিও সত্য।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাই আগামীর দেশ বিনির্মাণের কারিগর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দায়বদ্ধ। তাই সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে, নিজের মেধা ও যোগ্যতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে, দেশের সকল পরীক্ষার্থীদের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা। এই পরীক্ষা কেবল একটি সার্টিফিকেট পাওয়ার লড়াই নয়, বরং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছার এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব, এমন পরিবেশ অটুট রাখা, যেন শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত না হয় বা তাদের আত্মবিশ্বাস কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়। আগামী দিনের পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অংশগ্রহণ করবে, নিজেদের সাফল্যে নিশ্চিত করবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, ইনশাআল্লাহ।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একদিনে ৩ বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী
একদিনে দেশের তিনটি বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানাবেন তিনি। এ সফর ঘিরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।
একদিনে ৩ বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী
হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যোগ দিতে দেশ ছাড়লেন ৫০ সেনা
হাইতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সে (জিএসএফ) যোগ দিতে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী দলের ৫০ সদস্য।
হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যোগ দিতে দেশ ছাড়লেন ৫০ সেনা
সংসদ ভবন এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা, সবুজায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক এ কথা জানান। তিনি জানান, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সহকারী প্রেস সচিব জানান, জাতীয় সংসদ প্লাজার সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠ ও বাগান পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান গাছপালার সঠিক পরিচর্যা এবং সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও তিনি দেন। এছাড়া সংসদ প্লাজা ও এর আশপাশের এলাকায় যেসব স্থানে সংস্কার দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক আরও জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ও এর সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি। আরটিভি/টিআর
সংসদ ভবন এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পায়রা বন্দরে আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতুর ডেক নির্মাণ সম্পন্ন
পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সেতুটির সর্বশেষ কংক্রিট ঢালাই সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ডেক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর ফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পথ আরও সুগম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা সেতুটি চালু হলে রাবনাবাদ নদীর তীরবর্তী চরিপাড়ায় অবস্থিত পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে খালাস করা পণ্য সরাসরি সড়কপথে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এর ফলে পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরাও সরাসরি সড়কপথে বন্দরে যাতায়াত করতে পারবেন। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায় যে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বন্দরের আওতাধীন শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন কলকারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এসব শিল্পকারখানায় বন্দরের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে  বিদ্যুৎ সরবারহ নিশ্চিত করা হবে।এর ফলে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের পাশাপাশি বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে। নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে টার্মিনাল এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনের মাত্র কয়েক দিন আগেই পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিগত ৭ অক্টোবর সকালে চীনের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ফান ঝৌ-৬ (Fan Zhou-6) সরাসরি প্রথম টার্মিনালে নোঙ্গর করেছে। জাহাজটিতে আধুনিক পণ্য ওঠানো-নামানোর পাঁচটি সরঞ্জাম আনা হয়েছে। দুই বছর পর এই প্রথম টার্মিনালে বড় ধরনের পরিচালন সরঞ্জাম পৌঁছাল।  নদীর উপযোগী বিশেষ নকশায় নির্মিত সেতু আন্ধারমানিক নদীর উপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৮০ মিটার। এক্সট্রাডোজড প্রযুক্তিতে নির্মিত সেতুটির টাওয়ারের উচ্চতা ৫৮ দশমিক ৫ মিটার। সেতুর মূল ডেকের প্রস্থ ২৩ দশমিক ২ মিটার এবং সংযোগ ডেকের প্রস্থ ২১ দশমিক ২ মিটার। সেতুতে প্রতিটি দিকে দুটি করে মোট চারটি লেন রয়েছে । আন্ধারমানিক নদীতে নৌযান চলাচল সব সময় সচল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেতুটি মাত্র দুটি প্রধান পিলারের ওপর নির্মাণের নকশা করা হয়েছে। ফলে জাহাজ ও লঞ্চের নির্বিঘ্ন চলাচলের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও ঠিক থাকবে। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম পাইল স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিসিইসিসি) এবং চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণ করছে। নির্মাণকাজ তদারকি করছে একটি কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। নতুন সম্ভাবনার প্রতীক  নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে পৌঁছানোয় সেতুটি স্থানীয় মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা নির্মাণস্থলের পাশের ছয় লেনের সড়কে জড়ো হচ্ছে নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণ অগ্রগতি দেখতে। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, রাতে সেতুটিতে এমনভাবে আলোকসজ্জা করা হবে, যাতে তা শাপলা ফুলের আকৃতি ফুটিয়ে তোলে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সেতুটি শুধু যান চলাচলের সুবিধা বাড়াবে না; পায়রা বন্দরের সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থানীয় পরিবহন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং বন্দরের কার্যক্রম ও সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, সেতুটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।  আরটিভি/টিআর
পায়রা বন্দরে আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতুর ডেক নির্মাণ সম্পন্ন
অধ্যক্ষ সম্মেলন ২৯ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘অধ্যক্ষ সম্মেলন-২০২৬’। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামের এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অধ্যক্ষ সম্মেলন ২৯ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন
এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাফিসার ঘাতক সেই ক্রেনচালক গ্রেপ্তার
এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ২১ ওএমআর শিট উধাও
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, দিতে পারলেন না পরীক্ষা
ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিলেন ৪২ এইচএসসি পরীক্ষার্থী