ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস; বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা গণ্ডার সংরক্ষণে প্রয়োজন সচেতনতার আহ্বান। ছবি: সংগৃহীত

আজ ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবস। গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এই প্রাণী রক্ষায় মানুষকে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর দিনটি পালিত হয়। ২০১১ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গণ্ডার দিবস পালন করা হচ্ছে।

প্রায় ৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে গন্ডার। কিন্তু মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই প্রাণী। অবৈধ শিকার, আবাসস্থল ধ্বংস এবং প্রজননের সুযোগ কমে যাওয়ায় বর্তমানে বিশ্বে সব মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার গন্ডার টিকে আছে। পাঁচ প্রজাতির মধ্যে চারটিই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে গন্ডারের পাঁচটি প্রজাতি রয়েছে। এগুলো হলো সাদা গন্ডার, কালো গন্ডার, সুমাত্রান গন্ডার, জাভান গন্ডার ও একশৃঙ্গ গন্ডার। সাদা ও কালো গন্ডার আফ্রিকায় পাওয়া যায়। অন্য তিন প্রজাতির আবাস এশিয়ায়।

আন্তর্জাতিক গন্ডার ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, বন্য পরিবেশে সাদা গণ্ডার রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৭৫২টি। কালো গন্ডার রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭৮৮টি। একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৭৫টি। জাভান ও সুমাত্রান গন্ডারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বিশেষ করে সুমাত্রান গন্ডার বিলুপ্তির অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে।

গণ্ডারের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি অবৈধ শিকার। মূলত শিংয়ের জন্য শিকারিরা গন্ডার হত্যা করে। গন্ডারের শিং কেরাটিন নামের একটি উপাদানে তৈরি। মানুষের চুল ও নখেও একই উপাদান রয়েছে।

গন্ডারের শিং বিভিন্ন প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যবহারের দাবি থাকলেও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তারপরও শিংয়ের চাহিদার কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গণ্ডার অবৈধ শিকারের শিকার হয়।

গন্ডারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোও সহজ নয়। আফ্রিকান গন্ডারের গর্ভধারণের সময় প্রায় ১৬ মাস। সাধারণত দুই থেকে তিন বছর পরপর একটি করে বাচ্চা জন্ম দেয় তারা। ফলে অতিরিক্ত শিকার বা অন্য কোনো কারণে গন্ডারের সংখ্যা কমে গেলে তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হয় না।

তবে গন্ডার সংরক্ষণে কিছু আশার খবরও রয়েছে। সংরক্ষণ উদ্যোগের কারণে কিছু অঞ্চলে কালো গন্ডার ও একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা বেড়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় গন্ডারকে তাদের পুরোনো আবাসস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব গন্ডার দিবস উপলক্ষে গন্ডারের আবাসস্থল রক্ষা, অবৈধ শিকার বন্ধ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গন্ডার একসময় আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিচরণ করত। বর্তমানে তারা মূলত আফ্রিকার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের সুরক্ষিত এলাকা এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশে সীমিত হয়ে পড়েছে।

প্রায় ২৭ হাজার গন্ডারকে পৃথিবীতে টিকিয়ে রাখতে অবৈধ শিকার বন্ধের পাশাপাশি নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতিগুলোর সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস
বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার, পরিবেশগত গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঁশ দিবস।
আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস
আজ নীল আকাশের জন্য পরিচ্ছন্ন বায়ুর আন্তর্জাতিক দিবস 
বায়ুদূষণ রোধ এবং নির্মল বাতাসের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়াতে আজ ৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নীল আকাশ দিবস।
আজ নীল আকাশের জন্য পরিচ্ছন্ন বায়ুর আন্তর্জাতিক দিবস 
তিন মাস পর আজ খুলছে সুন্দরবন
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ (১ সেপ্টেম্বর) থেকে আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন। ফলে আজ থেকেই জেলে ও পর্যটকরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে বন বিভাগ। মাছ ও বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি, বিচরণ ও প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিবছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ, মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এ সময় মানুষের আনাগোনা কম থাকায় বনজসম্পদের ওপর চাপও কমে আসে। পাশাপাশি সুন্দরবনকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধও কমে। টানা তিন মাস পর্যটক, জেলে ও বাওয়ালিদের আনাগোনা ছিল না সুন্দরবনে। নৌযানের বাড়তি শব্দও ছিল না। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ এই বন নিজের স্বাভাবিক ছন্দে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। এ সময়ে বনের চরে নির্ভয়ে ঘাস খেয়েছে হরিণের পাল, খালপাড়ে রোদ পোহাতে দেখা গেছে কুমিরকে। গাছের ডালে ডালে পাখির কলকাকলি এবং বনের গহিনে বাঘের বিচরণে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সুন্দরবন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে সুন্দরবনে ৬৩টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে বন অপরাধের ঘটনায় ৩৯টি মামলা হয়েছে এবং ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আরও পড়ুন বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, হালনাগাদ হচ্ছে রেড লিস্ট অভিযানে ১২টি ট্রলার, ৫০টি নৌকা, ৫৫টি মাছ ধরার জাল, ২৮ বোতল ও দুই লিটার তরল বিষ এবং হরিণ শিকারের ৬ হাজার ২৯০টি ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮৬ কেজি বিষযুক্ত মাছ, ৭৩৬ কেজি কাঁকড়া, ১ হাজার ৫৬২টি চারু, ২ হাজার বড়শি, ১৭০ কেজি মধু এবং দুই বস্তায় থাকা পাঁচ কেজি শুঁটকি মাছ উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগ জানিয়েছে, গত বছরের নিষেধাজ্ঞার সময়ের তুলনায় চলতি বছর একই সময়ে বন অপরাধের পরিমাণ কমেছে। বাগেরহাট সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছের পরিমাণ বেড়েছে। বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও প্রজননের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম শব্দদূষণ, অতিরিক্ত পর্যটন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ কমে যাওয়ায় বনের গহিন এলাকায় উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশও ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ আগের চেয়ে আরও বেশি সক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে। দুর্গম বনাঞ্চলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও স্মার্ট টহল জোরদারের পাশাপাশি আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি করা হচ্ছে। এতে হরিণ শিকারি ও বিষ প্রয়োগকারী অসাধু চক্রের তৎপরতা অনেকটাই কমেছে। উল্লেখ্য, সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার সুপারিশ অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রাখা হতো। পরে ২০২২ সালে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়িয়ে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট করা হয়। এ সময়ে কর্মহীন জেলেদের মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হয়। আজ (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবন উন্মুক্ত হলেও বন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দর্শনার্থী, জেলে ও বনজসম্পদ আহরণকারীদের সতর্কতা ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আরটিভি/জেএমএ 
তিন মাস পর আজ খুলছে সুন্দরবন
বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, হালনাগাদ হচ্ছে রেড লিস্ট
বিগত কয়েক শ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অবৈধ শিকার, বন উজাড়, দ্রুত নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবই এই বিলুপ্তির প্রধান কারণ।  রোববার (৩০ আগস্ট) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে  এ তথ্য জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ৩১টি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে ১১টি স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৯টি পাখি এবং ১টি সরীসৃপ। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) ২০১৫ সালের সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বিগত কয়েক শতকে এসব বন্যপ্রাণী দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। আইইউসিএন ২০১৫ সালের ওই রেড লিস্টে দেশে মোট ১ হাজার ৬১৯টি বন্যপ্রাণী প্রজাতি চিহ্নিত করেছিল। যার মধ্যে রয়েছে ৪৯টি উভচর, ১৬৭টি সরীসৃপ, ৫৬৬টি পাখি, ১৩৮টি স্তন্যপায়ী, ২৫৩টি স্বাদু পানির মাছ, ১৪১টি ক্রাস্টেশিয়ান (কাঁকড়া-চিংড়ি জাতীয়) এবং ৩০৫টি প্রজাপতির প্রজাতি। দীর্ঘ এক দশক পর ২০২৬ সালে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্যপ্রাণীদের রেড লিস্ট হালনাগাদ করার কাজ শুরু করেছে, যা বিপন্ন প্রজাতির বর্তমান চিত্র স্পষ্ট করবে।  আরও পড়ুন দেশের পর্যটন খাত ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনা, আসছে নতুন নীতিমালা বন ও পরিবেশ মন্ত্রী জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিচালনায় গতি আনতে এ বছর একটি পৃথক ‘ওয়াইল্ডলাইফ কমিশন’ গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যপ্রাণী সম্পর্কিত অপরাধ দমন, অবৈধ পাচার রোধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন অধিদপ্তরের অধীনে ‘ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট’ কাজ করে যাচ্ছে। প্রকৃতি রক্ষায় চলমান সরকারি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বাঘ, এশীয় হাতি ও গাঙ্গেয় ডলফিনসহ বিপন্ন প্রজাতির সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ২০১৫ সালের ১০৬টি থেকে বেড়ে ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে ১২৫টিতে উন্নীত হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন মেয়াদে একটি বিশেষ হাতি সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। অতিবিপন্ন শকুন রক্ষায় সুন্দরবন ও সিলেট অঞ্চলে ৪৭ হাজার ৩৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে শেরপুর, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও রাজশাহীতে চারটি নতুন বিভাগীয় কার্যালয় অনুমোদনের কথাও জানান পরিবেশ মন্ত্রী। আরটিভি/এআর   
বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, হালনাগাদ হচ্ছে রেড লিস্ট
বনে ছাড়ার পর ৯ লজ্জাবতী বানরের ৭টিই মারা গেল, কারণ কী
উদ্ধার করা বন্য প্রাণী সংরক্ষিত বনে ছেড়ে দেওয়া হলে সাধারণত স্বস্তি ফেরে। কিন্তু উপযুক্ত আবাস, খাবার ও একই প্রজাতির প্রাণীর উপস্থিতি বিবেচনা না করে প্রাণী অবমুক্ত করা হলে সেই বনই হয়ে উঠতে পারে মৃত্যুফাঁদ। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা বেঙ্গল লজ্জাবতী বানর নিয়ে করা নতুন এক গবেষণায় এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গবেষণায় দেখা গেছে, বনে ছেড়ে দেওয়া নয়টি লজ্জাবতী বানরের মধ্যে ছয় মাসের বেশি বেঁচে ছিল মাত্র দুটি। মারা যাওয়া সাতটি বানরের মধ্যে চারটির দেহে একই প্রজাতির অন্য বানরের আক্রমণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চলতি বছর আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের গবেষক হাসান আল-রাজির নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি আরও ১০ গবেষক এতে অংশ নেন। গবেষণায় বন বিভাগসহ বাংলাদেশ, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল। যেভাবে করা হয় গবেষণা বন বিভাগ বিভিন্ন সময় শিকারি, ব্যবসায়ী, পোষা প্রাণীর মালিক ও মানুষের বসতবাড়ির বাগান থেকে লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করে। এসব প্রাণীকে বনে ছাড়ার আগে তাদের ওজন, আঘাত ও অসুস্থতার লক্ষণ পরীক্ষা করা হয়। কম ওজনের বানরগুলোকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত জানকিছড়া বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে রাখা হয়। পরে ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের রাতের চলাফেরা, খাবার গ্রহণ ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নয়টি বানরকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচটিকে জানকিছড়া এলাকার কাছে এবং চারটিকে অন্য এলাকায় অবমুক্ত করা হয়। প্রতিটি বানরের গলায় বেতার সংকেত শনাক্তকারী কলার পরিয়ে আট মাসে মোট ১৩৮ রাত তাদের অবস্থান ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা। ১০ দিনের মধ্যেই মারা যায় তিনটি গবেষণায় দেখা যায়, নয়টি বানরের তিনটি বনে ছাড়ার ১০ দিনের মধ্যেই মারা যায়। আরও চারটি এক মাসের বেশি বেঁচে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মারা যায়। ‘অনু’ নামের একটি পুরুষ বানর ১৭৯ দিন পর সংঘর্ষে মারা যায়। অন্যদিকে ডারউইন ও নিশাত নামের দুটি বানর ছয় মাসের বেশি সময় বেঁচে ছিল। মারা যাওয়া সাতটি বানরের মধ্যে চারটির দেহ পরীক্ষার উপযোগী অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের মাথা, মুখ অথবা আঙুলে অন্য লজ্জাবতী বানরের আক্রমণের চিহ্ন ছিল। বাকি তিনটির দেহ পচে যাওয়ায় মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই সাতটি বানরই অন্য লজ্জাবতী বানরের আক্রমণে মারা গেছে—এমন দাবি করেননি গবেষকেরা। গবেষণায় আরও দেখা যায়, জানকিছড়া কেন্দ্রের কাছে ছাড়া পাঁচটি বানরের একটিও বেঁচে থাকেনি। বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ওই এলাকায় মোট ১৯টি লজ্জাবতী বানর ছাড়া হয়েছিল। গবেষকদের ধারণা, একই এলাকায় বারবার বানর ছেড়ে দেওয়ার কারণে সেখানে প্রাণীর ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে খাবার ও বসবাসের এলাকা নিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। লজ্জাবতী বানরও এলাকা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান গণমাধ্যমকে বলেন, লজ্জাবতী বানর দেখতে শান্ত হলেও তারা নিজেদের এলাকা নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। আগে থেকেই কোনো এলাকা দখল করে থাকা প্রাণীর মুখোমুখি হলে নতুন বানর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মারা যাওয়া কয়েকটি প্রাণী তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্ক ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেছিল। গবেষকদের মতে, এ ধরনের আচরণ দীর্ঘস্থায়ী চাপ ও নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার ইঙ্গিত হতে পারে। গবেষক হাসান আল-রাজি গণমাধ্যমকে বলেন, বন্য প্রাণী উদ্ধার অনেক ক্ষেত্রে শুধু লোকদেখানো কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। যে যার মতো প্রাণী অবমুক্ত করেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করাই তাঁদের গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য। বন হলেই উপযুক্ত আবাস নয় গবেষকেরা বলছেন, কোনো প্রাণীকে বনে ছেড়ে দেওয়ার জন্য শুধু বনটি ঘন বা সবুজ হলেই হবে না। সেখানে একই প্রজাতির কতগুলো প্রাণী রয়েছে, খালি এলাকা আছে কি না, পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ চলাচলের সুযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও আগে জানতে হবে। গবেষকেরা প্রাণী অবমুক্তির আগে সম্ভাব্য এলাকায় প্রাণীর সংখ্যা ও চলাচল জরিপ, পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাণীটির উৎস শনাক্তকরণ, প্রজাতিভিত্তিক পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুন নাহার গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাণীকে বনে ছাড়ার আগে আধা প্রাকৃতিক বেষ্টনীতে রেখে তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা দরকার। এতে সময় ও অর্থ লাগলেও দেশে এ ধরনের চর্চা প্রায় নেই। বন বিভাগের বন সংরক্ষক (বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল) মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থায় ঘাটতির কথা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। বন্য প্রাণী গবেষকদের মতে, কোনো প্রাণীকে বনে ছেড়ে দেওয়ার ছবি দিয়ে সংরক্ষণ কার্যক্রম শেষ হয় না। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে প্রাণীটি নতুন পরিবেশে বেঁচে থাকতে ও মানিয়ে নিতে পারছে কি না, তার ওপর। আরটিভি/জেএমএ
বনে ছাড়ার পর ৯ লজ্জাবতী বানরের ৭টিই মারা গেল, কারণ কী