ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস; বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা গণ্ডার সংরক্ষণে প্রয়োজন সচেতনতার আহ্বান। ছবি: সংগৃহীত

আজ ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবস। গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এই প্রাণী রক্ষায় মানুষকে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর দিনটি পালিত হয়। ২০১১ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গণ্ডার দিবস পালন করা হচ্ছে।

প্রায় ৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে গন্ডার। কিন্তু মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই প্রাণী। অবৈধ শিকার, আবাসস্থল ধ্বংস এবং প্রজননের সুযোগ কমে যাওয়ায় বর্তমানে বিশ্বে সব মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার গন্ডার টিকে আছে। পাঁচ প্রজাতির মধ্যে চারটিই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে গন্ডারের পাঁচটি প্রজাতি রয়েছে। এগুলো হলো সাদা গন্ডার, কালো গন্ডার, সুমাত্রান গন্ডার, জাভান গন্ডার ও একশৃঙ্গ গন্ডার। সাদা ও কালো গন্ডার আফ্রিকায় পাওয়া যায়। অন্য তিন প্রজাতির আবাস এশিয়ায়।

আন্তর্জাতিক গন্ডার ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, বন্য পরিবেশে সাদা গণ্ডার রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৭৫২টি। কালো গন্ডার রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭৮৮টি। একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৭৫টি। জাভান ও সুমাত্রান গন্ডারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বিশেষ করে সুমাত্রান গন্ডার বিলুপ্তির অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে।

গণ্ডারের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি অবৈধ শিকার। মূলত শিংয়ের জন্য শিকারিরা গন্ডার হত্যা করে। গন্ডারের শিং কেরাটিন নামের একটি উপাদানে তৈরি। মানুষের চুল ও নখেও একই উপাদান রয়েছে।

গন্ডারের শিং বিভিন্ন প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যবহারের দাবি থাকলেও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তারপরও শিংয়ের চাহিদার কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গণ্ডার অবৈধ শিকারের শিকার হয়।

গন্ডারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোও সহজ নয়। আফ্রিকান গন্ডারের গর্ভধারণের সময় প্রায় ১৬ মাস। সাধারণত দুই থেকে তিন বছর পরপর একটি করে বাচ্চা জন্ম দেয় তারা। ফলে অতিরিক্ত শিকার বা অন্য কোনো কারণে গন্ডারের সংখ্যা কমে গেলে তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হয় না।

তবে গন্ডার সংরক্ষণে কিছু আশার খবরও রয়েছে। সংরক্ষণ উদ্যোগের কারণে কিছু অঞ্চলে কালো গন্ডার ও একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা বেড়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় গন্ডারকে তাদের পুরোনো আবাসস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব গন্ডার দিবস উপলক্ষে গন্ডারের আবাসস্থল রক্ষা, অবৈধ শিকার বন্ধ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গন্ডার একসময় আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিচরণ করত। বর্তমানে তারা মূলত আফ্রিকার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের সুরক্ষিত এলাকা এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশে সীমিত হয়ে পড়েছে।

প্রায় ২৭ হাজার গন্ডারকে পৃথিবীতে টিকিয়ে রাখতে অবৈধ শিকার বন্ধের পাশাপাশি নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতিগুলোর সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
মানুষের কর্মকাণ্ডের বিস্তারে বদলে যাচ্ছে হিমালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পাখি মোনালের জীবনযাপন। অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন ও শব্দদূষণের কারণে পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে আরও উঁচু এলাকায় সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে যোগাযোগ বজায় রাখতে ডাকের ধরনও বদলাচ্ছে মোনাল।
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
মানুষের কর্মকাণ্ডের বিস্তারে বদলে যাচ্ছে হিমালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পাখি মোনালের জীবনযাপন। অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন ও শব্দদূষণের কারণে পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে আরও উঁচু এলাকায় সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে যোগাযোগ বজায় রাখতে ডাকের ধরনও বদলাচ্ছে মোনাল।
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
বন্যপ্রাণীর গায়ে মাইক্রোচিপ বসাবে বন বিভাগ, কিন্তু কেন?
দেশের বন্যপ্রাণীর পাচার ঠেকাতে এবং সুরক্ষিত রাখতে এবার জন্তুদের গায়ে মাইক্রোচিপ বসানোর কথা ভাবছে বাংলাদেশ বন বিভাগ।
বন্যপ্রাণীর গায়ে মাইক্রোচিপ বসাবে বন বিভাগ, কিন্তু কেন?
আজ ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’, ঘরহীন প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর দিন 
সেপ্টেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে রিমেম্বার মি থার্সডে।
আজ ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’, ঘরহীন প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর দিন 
ছয় মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, দাবানল ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ছয় মাসে বিশ্ব জুড়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ছয় মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
আরও পড়ুন
ইন্দোনেশিয়ায় ২ সুমাত্রান গণ্ডারের গর্ভধারণ, মহাবিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় আশার আলো