
ইন্দোনেশিয়ার একটি অভয়ারণ্যে অতিবিপন্ন প্রজাতির দুটি সুমাত্রান গণ্ডার গর্ভবতী হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বিরল ও বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের একটি এই প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে এ ঘটনা নতুন আশার সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সুমাত্রা দ্বীপের ওয়ে কামবাস জাতীয় উদ্যানের স্ত্রী গণ্ডার রতু তার চতুর্থ শাবকের গর্ভধারণের ২৩৮তম দিনে রয়েছে। অর্থাৎ তার গর্ভধারণের মোট সময়ের প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যেই পার হয়েছে।
ইন্দোনেশীয় ভাষায় রতু শব্দের অর্থ ‘রানি’।
রতুর মেয়ে দেলিলাহও দ্বিতীয় শাবকের গর্ভধারণের ২৫০ দিনের বেশি সময় পার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের মে মাসে মা হবে রতু ও দেলিলাহ—দুজনই।
ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আহমাদ মুনাওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই দুই সুমাত্রান গণ্ডারের গর্ভধারণ শুধু ইন্দোনেশিয়ার জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই সুখবর।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিকল্পিত প্রজনন, প্রজননস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রতিটি প্রাণীর ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সুমাত্রান গণ্ডারের সংখ্যা টিকিয়ে রাখার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টারই অংশ এই দুই গণ্ডারের গর্ভধারণ।’
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্ত্রী গণ্ডার দুটির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা চিকিৎসক দল, পরিচর্যাকারী ও জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ইন্টারন্যাশনাল রাইনো ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নিনা ফ্যাসিওন এক পৃথক বিবৃতিতে বলেন, ‘গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতিই গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে। বিপন্ন এই প্রজাতিকে রক্ষার লড়াইয়ে এই ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
তিনি আরও বলেন, ‘রতু ও দেলিলাহর গর্ভধারণ আরও দুটি নতুন প্রাণীর জন্মের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যারা সুমাত্রান গণ্ডারকে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে।’
প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) সুমাত্রান গণ্ডারকে ‘অতি বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সংস্থাটির হিসাবে জানা গেছে, বনে বর্তমানে এই প্রজাতির গণ্ডারের সংখ্যা ৮০টিরও কম।
সুমাত্রান গণ্ডার শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই পাওয়া যায়। দেশটির উত্তর সুমাত্রা, লামপুং, বেংকুলু ও পূর্ব কালিমান্তানের বিভিন্ন জাতীয় উদ্যান এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে এদের বসবাস রয়েছে।
আরটিভি/ এসকেডি


