ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ইশতেহারে কৃষি উন্নয়নে আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার

অধ্যাপক ড. মো. মোতাহার হোসেন

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৫৫ পিএম
লেখক : অধ্যাপক ড. মো. মোতাহার হোসেন 

কৃষিবান্ধব নীতি-কৌশল প্রণয়ন ও অঙ্গীকারের জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের খ্যাতি যেমন সুবিদিত, তেমনিভাবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দক্ষতা ও প্রতিপালনের আন্তরিকতা সন্দেহাতীত। বঙ্গবন্ধুর কৃষি ভাবনা প্রসূত নীতি ও দর্শন কৃষিতে আজকের পরিকল্পনা ও রূপরেখার অন্যতম মাপকাঠি।

বঙ্গবন্ধু কৃষির যে ভিত তৈরি করেছিলেন তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে দেশের পুরো কৃষি খাত। সে কারণেই গত দেড় দশকে বাংলাদেশের কৃষি খাত অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে দেশের প্রধান খাদ্য শস্য ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে। চাল উৎপাদনে দেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ-এ কথা কারো অজানা নয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সূত্রে, টানা ষষ্ঠ বছরে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন ক্রমাগত বেড়েছে এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে চালের উৎপাদন সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। মোট চাল উৎপাদন বছরে ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩.৯১ কোটি টন হয়েছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।

বর্তমানে অন্যান্য কৃষি পণ্য উৎপাদনেও বাংলাদেশের সাফল্য বিস্ময়কর। সবজি ও পেঁয়াজ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। এ ছাড়া পাট উৎপাদনে ২য়, চা উৎপাদনে ৪র্থ এবং আলু উৎপাদনে ৭ম অবস্থানে আমাদের দেশ। দেশি-বিদেশি ফল চাষেও অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে বেশ। স্ট্রবেরি, মাল্টা, ড্রাগন, রাম্বুটান, কফি, কাজুবাদাম, গোলমরিচসহ অপ্রচলিত কিন্তু লাভজনক বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে কৃষকদের।

২০০৬ সালে মাথাপিছু ফল গ্রহণের হার যেখানে ছিল ৫৫ গ্রাম, ১৫ বছরে তা বেড়ে ২০২৩ সালে হয়েছে ৮৫ গ্রাম। মাছ চাষ দেশে মৎস্য খাতের চেহারা আমূল বদলে দিয়েছে। মাংস ও ডিম সরবরাহকারী পোল্ট্রি খামার এবং দুধ ও মাংসের জন্য পশুপালন আজ সর্বব্যাপী। মৎস্য ও পশুপালনে বাংলাদেশের অসাধারণ সাফল্যের ফলে জনসংখ্যার মাথাপিছু প্রোটিন এবং দুধ গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ আজ অল্প সংখ্যক দেশের অন্তর্ভুক্ত যারা মাছের উৎস থেকে অর্ধেকেরও বেশি খাদ্য প্রোটিন গ্রহণ করে। সুতরাং এটা বলতে দ্বিধা নেই যে, বঙ্গবন্ধুর নীতি অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বাংলাদেশ এখন অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।

এই সময়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণায় এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতির প্রবর্তনে ব্যাপক অগ্রগতি দেখিয়েছে। গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে, নতুন কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে, বড় বড় কৃষি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ফলস্বরূপ ১৫ বছরে দেশে উদ্ভাবিত হয়েছে ৬৯৯টি বৈরী পরিবেশে সহনশীল জাত, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল এবং প্রায় ৭০৮টি প্রযুক্তি। এ ছাড়া যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিকে আধুনিকায়ন করার কাজ চলছে।

২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, সিডার, পাওয়ার টিলারসহ প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার কৃষি যন্ত্রপাতি ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে কৃষকদের মাঝে। তিন হাজার কোটি টাকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলমান আছে। সব মিলিয়ে দেশের কৃষিব্যবস্থা ‘জীবন নির্বাহী’ কৃষি থেকে ‘বাণিজ্যিক কৃষি’তে রূপান্তরিত হচ্ছে। সর্বোপরি, বাংলাদেশের অভূতপূর্ব কৃষি উন্নয়ন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

কৃষিখাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবার ইশতেহারে কী প্রতিশ্রুতি ও টেকসই কৌশল অনুসরণের অঙ্গীকার করছে তা নিয়ে কৃষক সমাজ ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আগ্রহ ছিল। গত ২৭ ডিসেম্বর বুধবার, বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আগামী ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তার নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচন করেন, যার শিরোনাম ছিল ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’।

এবারের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদের অর্জন এবং আগামী মেয়াদে ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়নে তাদের কর্মকৌশল ও লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে। যখন বিশ্বব্যাপী খাদ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য, জ্বালানি সংকট, করোনা মহামারি দ্বারা সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিবিধ চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের চলমান অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে এমন বেশিরভাগ প্রতিবন্ধকতার সমাধানকল্পে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

ইশতেহারে মোট ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে আওয়ামী লীগ। এই ১১টি অগ্রাধিকার বিষয়ের মধ্যে ৪র্থটি হলো কৃষিসংক্রান্ত, যার শিরোনাম- সমন্বিত কৃষিব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। সবার জন্য খাদ্য এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ইশতেহারে কৃষির উন্নয়নে জোর দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশের জন্য কৃষি উন্নয়ন

ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হবে কৃষি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা পূরণ, সবার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিসম্মত খাদ্য সরবরাহ ও প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, বাণিজ্যিক কৃষির বিকাশ, কৃষিনির্ভর শিল্পের প্রসার, গ্রামীণ ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, কৃষি ও অকৃষিজ পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসন ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এই কৌশলের লক্ষ্য।

কৃষি, কৃষক-কৃষাণি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য প্রণীত প্রেক্ষিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন কৌশল অনুসরণের ধারা অব্যাহত থাকবে। বরাবরের মতো বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে এবারো।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে গৃহীত কর্মসূচি আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে অঙ্গীকার বঙ্গবন্ধু কন্যার। কৃষিঋণ সহজলভ্য ও সহজগম্য করার লক্ষ্যে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে কৃষিঋণ দেওয়া অব্যাহত থাকবে; কেন্দ্রীয় ব্যাংক ০.৫ শতাংশ হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে পুনঃঅর্থায়ন করবে। ফলে কৃষিঋণ বিতরণে আরও উৎসাহিত হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।

এছাড়া কৃষির জন্য সহায়তা ও ভর্তুকি তথা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি উপকরণে বিনিয়োগ সহায়তা অব্যাহত রাখবে আওয়ামী লীগ। সেই সঙ্গে কৃষিতে শ্রমিক সংকট লাঘব এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহজে ব্যবহারযোগ্য কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য ও সহজপ্রাপ্য করা হবে। ভর্তুকি দেওয়া অব্যাহত থাকবে কৃষি যন্ত্রপাতিতে।

আওয়ামী লীগ সরকার ইতোমধ্যেই কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে সব জমি আবাদের আওতায় আনার নীতি বাস্তবায়ন করছে। শেখ হাসিনার অঙ্গীকার, কোনো জমিই অনাবাদি থাকবে না। সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলায় গুরুত্বারোপ করা হবে। বাণিজ্যিক কৃষিকে উৎসাহিত করা হবে। শুধু তাই নয়, আধুনিক জ্ঞান নির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জৈবপ্রযুক্তি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ন্যানো-টেকনোলজিসহ গ্রামীণ অকৃষিজ খাতের উন্নয়ন ও বিশ্বায়ন মোকাবিলায় উপযুক্ত কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষি গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ অব্যাহত থাকবে। সেইসঙ্গে কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, রফতানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ সর্বোপরি আর্থসামাজিক উন্নয়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বও অপরিসীম।

ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর প্রাণিজ চাহিদা পূরণে উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান তৈরি ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখার লক্ষ্যে তাই মৎস্য ও গবাদি পশুখাতেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।

কৃষির উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগের বিশেষ অঙ্গীকার

ইতোমধ্যে অর্জিত সাফল্য ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে কৃষির উন্নয়নের জন্য নিম্নলিখিত ১৩টি অঙ্গীকার করা হয়েছে-

১. ২০২৮ সালের মধ্যে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা দেড় গুণ বৃদ্ধি করা হবে।

২. বাণিজ্যিক দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠা, আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনীয় ভর্তুকি, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও নীতিগত সহায়তা দেয়া হবে।

৩. গুণগত মানসম্পন্ন পশুখাদ্য উপকরণের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির প্রসার ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করা হবে।

৪. উৎপাদিত প্রাণিজাত পণ্যের বহুমুখীকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানিমুখী শিল্পের প্রসার করা হবে।

৫. ৪র্থ শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি হিসেবে বাণিজ্যিক খামার ম্যাকানাইজেশন ও স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

৬. সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারপূর্বক খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনে টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টন থেকে ৫৮ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে জনপ্রতি মাছ গ্রহণের পরিমাণ ৬৭ দশমিক ৮০ গ্রাম/দিন থেকে বৃদ্ধি করে ৭৫ গ্রাম/দিনে উন্নীত করা হবে।

৭. সুনীল অর্থনীতির বিকাশ সাধনে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ ও দায়িত্বশীল মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করা হবে।

৮. জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, অভিযোজন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ডেল্টা হটস্পটভিত্তিক প্রকল্প/কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

৯. ভ্যালু চেইন উন্নয়নের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের স্থায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, বৈচিত্র্যময় ভ্যালু অ্যাডেড মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে মৎস্য অপচয় ১০ শতাংশ হ্রাস করা হবে এবং এ খাতে আগামী ৫ বছরে প্রায় ৬ লাখ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

১০. মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রফতানি বৃদ্ধিতে রফতানিমুখী মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে বেসরকারি খাতকে উদ্বুদ্ধ করা হবে; দেশের বাইরে নতুন নতুন বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমদানিকারক উদ্বুদ্ধকরণে ফিশ এক্সপো আয়োজন এবং মৎস্যপণ্য প্রক্রিয়াকরণে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রফতানি আয় ৪ হাজার ৭৯০ কোটি থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে।

১১. প্রাণিসম্পদ-গবাদিপশুর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলমান কর্মসূচিকে বিস্তৃত করা হবে। এসব পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের লক্ষ্যে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

১২. পুকুরে মাছ চাষ এবং যেখানে সম্ভব ধানক্ষেতে মাছ চাষের আরও প্রসারের জন্য উন্নত জাতের পোনা, খাবার, রোগব্যাধির চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হবে।

১৩. খামারিদের জন্য সুলভে পুঁজি সংস্থান ও বিদ্যুৎ-সংযোগসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া অব্যাহত রাখা হবে।

পরিশেষে বলা যায়, স্বাধীনতার পর খাদ্য নিরাপত্তা ও দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু দেশে সবুজ বিপ্লবের সূচনা করেন। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক চাষাবাদ ব্যবস্থা, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং মানসম্পন্ন বীজের ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে ।

বঙ্গবন্ধু বিদেশ থেকে ট্রাক্টর, সেচ যন্ত্র এনে কৃষি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, কৃষিবিদদের দিয়েছিলেন প্রথম শ্রেণির মর্যাদা।
তাই কৃষি খাতের উন্নয়নে, বঙ্গবন্ধুর নীতি অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে যুগোপযোগী লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি নির্ধারণ করেছে। আবারও দলটি ক্ষমতায় এলে, কৃষিতে এসব অঙ্গীকার ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তায় এবং গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করবে- এই বিশ্বাস কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের।

লেখক : পরিচালক, আইকিউএসি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বশেমুরবিপ্রবিতে বছরজুড়ে যা ছিল আলোচনায়
২০২৩ শেষ হয়ে ২০২৪ সালের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। বিগত ২০২৩ সালে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ঘটে গেছে নানা ঘটনা। এর মধ্যে কিছু সুখস্মৃতি, কিছু বেদনাদায়ক। সবকিছু মিলিয়ে তুলে ধরা হলো ২০২৩ এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।  জানুয়ারি বছরের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে মনোনীত হয়। প্রতিষ্ঠার একযুগ পরে বশেমুরবিপ্রবি পায় প্রথম কোষাধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. মোবারক হোসেন এই পদে নিয়োগ পান। জানুয়ারি মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো বিভাগ মেয়েদের জন্য কমন রুম চালু করে। বাংলা বিভাগের এই উদ্যোগ ভূয়সী প্রশংসা পায়। ক্যাম্পাসে ইতিবাচক সংবাদের পাশাপাশি নেতিবাচক সংবাদও প্রকাশিত হয়, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত হয় শৌচাগারে। ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে ১৫তম সহকারী জজ নিয়োগে উত্তীর্ণ হন আইন বিভাগের আনিচ মুন্সী।  ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে নিয়োগের নামে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় খবর প্রকাশিত হয়। মাস্টাররোল কর্মচারীদের নিয়োগের নামে আকাশ শিকদার ও তার সিন্ডিকেট এই বাণিজ্য করেন। ১৩ই ফেব্রুয়ারী বশেমুরবিপ্রবি ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। দীর্ঘ প্রতিরক্ষার পরে চালু হয় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া।  মার্চ এত এত খবরের মধ্যে মার্চের শুরুতে ঘটে বেদনাদায়ক ঘটনা, ভালোবেসে বিয়ের এক বছরের মাথায় পারিবারিক কলহের জেরে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নোভা ইয়াসমিন। ৪ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মত আয়োজিত হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন "বাঁধনের" আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী বইমেলা। ৮ জানুয়ারি বিশ্ব নারী দিবসে ঋতুস্রাবকালীন নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলিন্টিয়ার ফর বাংলাদেশের উদ্যোগে স্থাপিত হয় প্যাড ব্যাংক। প্রকাশিত হয় পরিবহন খাতে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে টাকা ভাগাভাগির খবর। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ৩ কোটি টাকার অডিট আপত্তি দেখানো হয়। দেশব্যাপী ১২টি আইসিটি পার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বশেমুরবিপ্রবিতে উদ্বোধন করা হয় নলেজ পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।  এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কমিটিহীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বশেমুরবিপ্রবি শাখা, কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে নোটিশ দিয়ে ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীদের সিভি আহ্বান করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। ছাত্রী হলে মেয়েদের পোষাক পরিহিত চোর আটকের ঘটনা ঘটে মাসের শেষের দিকে। মে মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয় ৪ শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটির দীর্ঘসূত্রিতায় এই পদক থেকে বঞ্চিত হয় কৃষি অনুষদ। মার্ক টেম্পারিং এর অভিযোগ উঠে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি ড. মো. আবু সালেহ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তেল ক্রয় না করেও ভুয়া ভাউচারে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠে বাস চালক আতিকুর রহমান ঝন্টুর বিরুদ্ধে, প্রেসক্লাব থেকে অডিও রেকর্ড প্রকাশের পরে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।  জুন নিজ ক্যাম্পাসে বিয়ের গায়ে হলুদ হয় এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) বিভাগের শিক্ষার্থী মিমের। জুলাই তীব্র শিক্ষক সংকটে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। শিক্ষক-কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান বশেমুরবিপ্রবির সাবেক ৩ শিক্ষার্থী। খবর প্রকাশিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ইনস্টিটিউট নিয়ে, বঙ্গবন্ধুর নামে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকতে থাকে অবহেলায়। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) নজরুল ইসলাম হীরা।  আগস্ট শোকের মাসের শুরুতেই ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি ভয়াবহ ঘটনা, লেকের পানিতে ডুবে প্রাণহানি ঘটে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষার্থী হিয়া ও ঋতুর। শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আমরণ অনশন করে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা, একাত্মতা ঘোষণা করে বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাব। প্রথমবারের মত ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের উদ্বোধন হয়। বিজিই বিভাগ থেকে বৃক্ষরোপণের পুরস্কার হিসেবে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের ঘোষণা দেওয়া হয়।  সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরির জন্য ভেঙে ফেলা প্রধানমন্ত্রীর নামফলক, শেখ হাসিনা চত্বর নামে পরিচিত ফলকটি ভাঙার ঘটনায় তদন্তে গড়িমসি করে প্রশাসন। মার্ক টেম্পারিং ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপরতা দেখা যায়, কোর্স শিক্ষক পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হালিমা খাতুন ও তৎকালীন ইইই (সি) বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ শাহজাহানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে। ল্যাব, শ্রেণি সংকটসহ পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার দাবিতে ৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থীরা।  অক্টোবর মাসের শুরুতে বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। ফার্মেসী বিভাগের আন্দোলনে বন্ধ হয় প্রশাসনিক কার্যক্রমও। বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় জায়গা করে নেয় বশেমুরবিপ্রবির দুই শিক্ষক। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে ১১ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হন। প্রতিষ্ঠার একযুগ পরে প্রথমবারের মত উপ-উপাচার্য নিয়োগ পায় বশেমুরবিপ্রবি, হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুল আলমকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।  নভেম্বর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী রিয়াজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) শীত বরণ উৎসব "উষ্ণতার খোঁজে নবনীতক" অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের কারণে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৪ শিক্ষার্থী হয় সাময়িক বহিষ্কার।  ডিসেম্বর সাহসী ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পুরস্কার পান বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি কে. এম ইয়ামিনুল হাসান আলিফ, ইউনিভার্সিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (ইউজেএফ) কর্তৃক এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দুর্বৃত্তদের হামলায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ গুরুতর আহত হয়। হাজবেন্ড্রি কাউন্সিল বাতিলের দাবিতে প্রাণিসম্পদ সচিবের কুশপুত্তলিকা দাহ করে ভেটেরিনারি বিভাগের শিক্ষার্থীরা, দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার এস এম এস্কান্দার আলী।
বশেমুরবিপ্রবিতে বছরজুড়ে যা ছিল আলোচনায়
বিচ্ছিন্নতার যুগে দারুণ এক মেলবন্ধনের গল্প
শীতের ভোর। কুয়াশা কেটে সূর্যের মিষ্টি রোদের আভাটা সবে শরীরে লাগতে শুরু করেছে। ধোঁয়া উঠতে শুরু করেছে গ্রামীণ মাটির চুলায়। তা ঘিরে বসে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বলছিলাম নোয়াখালির সূবর্ণচরের চরবাটা গ্রামের কথা। এখানে শীতের সকালগুলো এমনই। আধুনিকতার ছোয়া লাগলেও শীতের সময় গ্রামীণ আবহটা বেশ ভালো টের পাওয়া যায় এখানে। বাড়ির মুরুব্বি থেকে শিশুরা সবাই একসাথ হয়ে ধোয়া উঠা চুলার পাশে বসে অপক্ষায় থাকে গরম চিতই পিঠার জন্য। অবশ্য যে আধুনিকতার কথা বলছিলাম সেই আধুনিকতায় যৌথ পরিবারের এমন দৃশ্যগুলো এখন খুব একটা দেখা যায় না। জীবন, জীবিকার টানে পরিবারগুলো খণ্ড খণ্ড। কখনও দেখা হয় কখনও দেখা হয় না। পাশের বাড়ির আত্মীয়র খোঁজটাও এখন আর নেওয়া হয় না ব্যস্ত জীবনে।  সেই ব্যস্ত জীবনের পাশ কাটিয়ে দারুণ এক উদাহরণ এই গ্রামেই মিলেছে। এই গ্রামেরই হাজী নজির আহম্মদের বংশধররা ধরে রেখেছে দারুণ এক সংস্কৃতি। বিচ্ছিন্নতার এই যুগে এটিকে আপনি দারণ এক পারিবারিক মেলবন্ধন বলতে পারেন। বছরের একটা দিন ঘটা করে আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বংশের সবাই একত্রিত হন একই স্থানে।  দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত কর্ম ব্যস্ত মানুষটাও। প্রিয়জনদের সাথে খোশ গল্প আড্ডায় কাটিয়ে দেন একটা দিন। হয় নানান স্মৃতি রোমন্থন। সেখানে বার বারই ফিরে আসে ফেলা আসা সেসব ঐতিহ্যের কথা। শিশু কিশোররা নানানভাবে জানতে পারে তাদের শিকড়ের কথা। পরিচিত হয় নিজেদের চাচাতো, খালাতো কিংবা ফুফাতো ভাই-বোনদের সাথে। এমন আয়োজনেই গিয়েছিলাম। সচোখে দেখা মিলেছে খুব কাছের আত্মীয়দের এখানে এসে নতুন করে পরিচিত হতে। পুরনো স্মৃতি রোমন্থনে চোখের কোনে পানি জমতে।
বিচ্ছিন্নতার যুগে দারুণ এক মেলবন্ধনের গল্প
এক বছরে ডেঙ্গুতে ১৭০৫ জনের মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু রোগের ধরন শনাক্তের পর থেকে এ রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে বিদায়ী বছর। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭০৫। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ জন। আর ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ জন।  এ ছাড়া সারদেশে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২৫ জন রোগী। এর মধ্যে ঢাকায় ২৯৫ এবং ৪৩০ জন রোগী ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১১৭ জন। অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন।
এক বছরে ডেঙ্গুতে ১৭০৫ জনের মৃত্যু
চিকিৎসক সমাবেশে বক্তরা / শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আজকের উন্নত বাংলাদেশ
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেছি বলেই আজকের এই উন্নত বাংলাদেশ সম্ভব হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনেও আমরা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল।  আমরা অসাম্প্রদায়িক ও শান্তি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শেখ হাসিনায় আস্থা’ শীর্ষক চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত আমাদের বাংলাদেশ সবসময় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে থাকবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুধু যুদ্ধের ইতিহাস নয়, তার চেয়েও বিশাল কিছু। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস আজও রচিত হয়নি। ১৯৯১ ও ২০০১ সনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা উল্লেখ করে তিনি আগামী নির্বাচনে সকলকে ভোট কেন্দ্র গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান জানান।  সমাবেশের প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবাইকে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। সকলে মিলে ভোট কেন্দ্রে গেলেই ভোট বিরোধী ও দেশ বিরোধীরা ১% এ পরিনত হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি তথা শেখ হাসিনা হবেন ৯৯ শতাংশ।  এসময় তিনি কোভিড ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ থেকে শুরু করে অথ্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মানসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।  সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় চিকিৎসক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামূল হক ভূঁইয়া, সম্প্রীতি বাংলাদেশের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. উত্তম বড়ুয়া, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রেজাউল আমিন টিটু, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. রাহাত হোসেন, প্রামাণ্যচলচ্চিত্র নির্মাতা, সাইফ আহম্মেদ, বঙ্গবন্ধু গবেষক আফিজুর রহমান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. অনুপম সাহা প্রমুখ।
শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আজকের উন্নত বাংলাদেশ
থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ইংরেজি নতুন বর্ষকে বরণ করার লক্ষ্যে প্রতিবছরই বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালন করা হয় থার্টি ফার্স্ট নাইট। এ রাতকে ঘিরে পশ্চিমাদের আয়োজনের কোনো শেষ নেই। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জমকালো উৎসব পালনের মাধ্যমে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা নাগাদ উৎযাপিত হয় এই রাতটি। থার্টি ফাস্ট নাইট নিয়ে বাংলাদেশি ইসলামি ব্যক্তিত্ব, আলোচক ও সামাজিক সক্রিয় কর্মী শায়খ আহমাদুল্লাহ যুবক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে আবেগঘন ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যে জাতিকে ২শ’ বছর গোলাম বানিয়ে রেখেছে ইংরেজরা। আমরা তাদের কালচারকে টাকা-পয়সা দিয়ে আমদানি করে প্রোমোট করি, সেটাকে আমরা ডেভেলপ করি। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আমাদের কী হতে পারে? নতুন বছরের সূচনা যদি আমাদের আনন্দের কারণ হয়, ঠিক একই সময়ে একটি বছরের বিদায়ও হয়ে যাচ্ছে। যুবকদের কাছে আমার প্রশ্ন- তুমি কি বিদায়ী বছরে কেঁদেছো? যদি না কেঁদে থাকো তাহলে তোমার বিবেকের কাছে প্রশ্ন করো- যে নতুন বছরের জন্য আনন্দ করছো, ঠিক তার আগ মুহূর্তে একটি বছর চলে গেলো তোমার জীবন থেকে; তখন কী তুমি কেঁদেছিলে? তিনি বলেন, তাহলে যার বিদায়ে আমার কান্নার কারণ হয় না, তাহলে আগমন কেনো আমার আনন্দের কারণ হতে পারে? যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই বিজাতীয় অপসংস্কৃতি তোমার না। এটা প্রকৃতি পূজারী পেগানদের কাছ ধার করে খ্রিস্টানরা নিয়েছে। আমাদেরকে আল্লাতায়ালা নিজস্ব সংস্কৃতি দিয়েছেন। আমরা অনেক সমৃদ্ধ; কোনো কিছুর অভাব নাই। আমাদেরকে দুটো উৎসব দেওয়া হয়েছে- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এই দুটি উৎসবকে পৃথিবীর সমস্ত উৎসবের চেয়ে অনেক বেশি নির্মল, আনন্দদায়ক, সমৃদ্ধ, পবিত্র। অন্য কোনো উৎসবে এটা পাবে না। তিনি বলেন, তোমার সমস্ত উৎসবের মধ্যে ভোগ আছে, উচ্ছৃঙ্খলতা আছে, উন্মাদনা আছে, অশ্লীলতা আছে, বেহায়াপনা আছে, অপব্যায় আছে; কিন্তু ঈদুল ফিতর-ঈদুল আজহাতে তুমি এগুলো দেখবে না। ঈদুল ফিতর-ঈদুল আজহার চেতনা কী? চেতনা হলো- তুমি আনন্দদিত হও, গরিবদের মুখে হাসি ফোঁটাও। ঈদগাহে যাও নামাজ পড়ো। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম বলছে- তুমি আনন্দ করবা ঈদগাহে গিয়ে, ভালো কথা। তার আগে তুমি গরীবের বাসায় গিয়ে হাসির ব্যবস্থা করো। তারপরে তুমি হাসো। তুমি হাসতে চাও, গোস্ত খেতে চাও; তবে তোমার গোস্তের একটা অংশ দিবে গরিবদের। তাদের মুখে হাসি ফোঁটাবে। তারপরে তুমি হাসবে। তিনি বলেন, আল্লাহ যে উৎসব আমাদের দিয়েছে, সেখানে ভোগ আছে, ত্যাগ আছে, সেখানে নৈতিকতা আছে। তুমি যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নামছো; এখানে পশুদের মতো উন্মাদনা আছে, মাতলামি আছে, উচ্ছৃঙ্খলা আছে। এখানে মানবজাতির কোনো কল্যাণ দেখাতে পারবে না। যখন আকাশে ফানুস উড়িয়ে টাকা উড়াচ্ছে; তখন ওই বাড়ির ছাদ থেকে নিচে তাকালে দেখতে পাবে কোনো বনি আদম শুয়ে আছে। তার এই শীত নিবারণের কোনো কাপড় নাই। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইটে ফানুসের আগুনে বিভিন্ন জায়গায় আগুনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সারাবছরের মধ্যে এইদিনে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করে। প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট আসার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় যেনো ফানুস উড়ানো না হয়। তারপরও সে নির্দেশনা উপেক্ষা করে এগুলো করা হয়। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশে ধর্মের নামে, রাজনীতির নামে, বিনোদনের নামে যে পরিমাণ শব্দ সন্ত্রাস হয়; পৃথিবীর কোনো সভ্য সমাজে এমন হয় না। আপনি অবাক হবেন, যেসব যুবকরা নিজেদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক মনে করে, সেই সমস্ত যুবকরা যখন এইসব কাজে লিপ্ত হয়; তখন আমার কাছে অবাক লাগে এইসব শিক্ষা যাচ্ছে কোথায়? তিনি বলেন, এই কারণে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যেনো থার্টি ফার্স্ট পার্টির নামে কোনো উচ্ছৃঙ্খলা করতে না পারে। সমাজের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন হতে হবে।  
থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
আরও পড়ুন
‘স্মার্ট কৃষি সংযোজনে ইশতেহার পূর্ণতা পেয়েছে’
জাসদের ইশতেহার ঘোষণা, সংসদে-রাজপথে সংগ্রামের অঙ্গীকার
আওয়ামী লীগের ইশতেহার উন্নয়ন পরম্পরার রুপরেখা : ড. আতিউর রহমান 
নির্বাচনী ইশতেহার : দুর্নীতি ও টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি