
পিলখানা হত্যা মামলায় কতজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, কতজনের যাবজ্জীবন বহাল থাকবে এবং কতজন খালাস পাবেন- এসব ব্যাপারে বিচারপতিরা একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আদালত।
রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের এ কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
তিনি বলেন, বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মো. নজরুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
তিনি আরো বলেন, এই মামলায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শুনানি হয়েছে। রোববার এই মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পড়তে সময় লাগতে পারে।
এদিন রায়ের উপক্রমণিকা পড়েন বিচারপতি মো. শওকত হোসেন। তারপর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী বাংলায় তার রায়ের পর্যবেক্ষণের অংশ পড়া শুরু করেন। মাঝখানে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে তিনি তার রায়ের অংশ পড়া শেষ করেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবার আদালত বসবে এবং বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার তার পর্যবেক্ষণ সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরবেন।
বিচারপতি মো. শওকত হোসেন বলেন, আশা করি, আগামীকাল (সোমবার) দুপুরের আগেই আমরা মূল রায় দেয়া শুরু করতে পারব।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।
এই মামলায় আসামি ছিলেন ৮৪৬ জন। শাস্তি হয় ৫৬৮ জনের। তাদের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছিল। খালাস পেয়েছিলেন ২৭৮ জন।
এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। শাস্তির রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিতরা জেল আপিল ও আপিল করেন। আর ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।
এসবের ওপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৩৭০তম দিনে গত ১৩ এপ্রিল। সেদিন শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
কে/জেএইচ




