ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানি হবে ২০২১ সাল থেকে: দীলিপ আগরওলা

এ এম সাজ্জাদ হোসেন

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৪ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২২ পিএম
দীলিপ কুমার আগরওলা

চলতি বছরের শুরু থেকে বিশেষ করে করোনাকালের শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম দ্রুত উঠা নামা করে। তবে সম্প্রতি বিশ্ববাজারে কয়েক দফায় দাম কমেছে মূল্যবান এই ধাতুর। স্বর্ণের এই অস্বাভাবিক দাম উঠা নামায় দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত। একই সাথে ব্যবসায় চরম মন্দা যাচ্ছে বলেও জানান অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী।

করোনাকালে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি বাড়ে সাড়ে তিনশ থেকে চারশ ডলার। তবে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার কমানোয় এবং মার্কিন নির্বাচনের আগে ডলার শক্তিশালী করার চেষ্টা করায় স্বর্ণের দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চেষ্টা চালাচ্ছে ডলারকে শক্তিশালী করতে। আর ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার কমিয়েছে। এছাড়া জুয়াড়িরা স্বর্ণ বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। এ সবকিছু মিলেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দীলিপ কুমার আগরওলা আরটিভি নিউজকে বলেন, স্বর্ণের বাজারে এমন দ্রুত দাম উঠা নামা আমার বিশ বছরের ব্যবসায়ীক জীবনে দেখিনি। এভাবে দাম উঠা নামা করায় ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত। তিনটি কারণে এই দাম উঠা নাম করছে বলে মনে করেন তিনি।

এক. নিরাপদ বিনিয়োগ। করোনার এই মহামারির সময় শেয়ারবাজার, আবাসন খাত সহ সব ধরনের সেক্টরের বিনিয়োগে ধস পড়ে। শুধুমাত্র স্বর্ণের বাজারই ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এই মহামারির মাঝে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, ২০১৯ থেকে চীন আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধ, তিন. মার্কিন নির্বাচন। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ডলারকে শক্তিশালী করতে।

স্বর্ণের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ‍জুয়াড়িরা, দীলিপ কুমার আগরওলার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি শেয়ারবাজার জুয়ারিরা নিয়ন্ত্রণ করে, এ কথা বিশ্বাস করতে হয়, তাহলে স্বর্ণের বাজার জুয়ারির হাতে এই বিষয়টিও বিশ্বাস করতে হবে। এই মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তবে কীভাবে জুয়াড়িরা নিয়ন্ত্রণ করছে সে বিষয়ে জানি না।

দেশে স্বর্ণের চাহিদা কত এবং এই চাহিদা কিভাবে পূরণ হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে দীলিপ আগরওলা বলেন, ১৯৪৭ সালের আইন অনুযায়ী স্বর্ণ ব্যবসা চলছিল। দেশ ভাগ এবং স্বাধীন বাংলাদেশেও এতদিন স্বর্ণ ব্যবসায় কোনও নীতিমালা ছিল না। তবে ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার একটি নীতিমালা করেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। এখন আর স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কালোবাজারি বা চোরাকারবারী বলার আর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জুন মাসের ২১ ২২ ২৩ তারিখে স্বর্ণ কর মেলায় প্রায় ১৪ হাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রত্যেকের কাছে থাকা স্বর্ণের ওপর কর দিয়ে তা বৈধ করে নেয়। সরকারকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা কর দেয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। এরপর একই বছরের ডিসেম্বরে স্বর্ণ আমদানির জন্য আবেদন করা হলে, বাংলাদেশ ব্যাংক ১৮টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও একটি ব্যাংককে লাইসেন্স দেয়। কিন্তু তখন দেখা গেল একজন ব্যাগেজে করে স্বর্ণ এনে ভরি প্রতি টেক্স দেয় ২ হাজার টাকা, আর বৈধভাবে আমদানি করে ভরি প্রতি দিতে হয় ১৭ হাজার টাকা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সাথে আবার দেখা করে আমরা বললাম, আপনি নীতিমালা করে দিলেন কিন্তু আমরা বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি করতে পারছি না। এ্ররপর তিনি অর্থমন্ত্রীকে ব্যাগেজ ও আমদানি ট্যাক্স যেন সমান হয় তা করতে বলে দিলেন, এবং অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় তা ঘোষণা করেন।

এরপর ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড দেশের ইতিহাসে প্রথম স্বর্ণ আমদানির ঘোষণা দেয়। পরে আরেকটি প্রতিষ্ঠানও স্বর্ণ আমদানি করে। আমরাই দেশের ইতিহাস প্রথম স্বর্ণ আমদানি করি। দুই প্রতিষ্ঠান প্রায় ২৫ কেজি স্বর্ণ আমদানি করে। যদিও দেশে প্রতি বছর স্বর্ণের চাহিদা ১৫ থেকে ২০ টন।

দীলিপ আগরওলা আরও জানান, তবে একবার আমদানি করেই আমাদের থামতে হয়। কারণ আমদানি স্বর্ণের মান যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাংকের জটিলতা তৈরি হয়। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে, আমরা আশা করছি অক্টোবর মাস থেকেই আবার স্বর্ণ আমদানি শুরু হবে।

শুধু আমদানি নয় স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানির কথাও জানান দীলিপ আগরওলা। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। সেজন্য বন্ড সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকেই স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।

দীলিপ আগরওলা বলেন, বাংলাদেশের স্বর্ণালঙ্কার বিশ্ব মানের। হাতে তৈরি স্বর্ণালঙ্কারে পারদর্শী একমাত্র বাঙালিরাই। বিশ্বব্যাপী তাদের সুনাম রয়েছে। যদি সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করে তাহলে স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানির মাধ্যমে দেশ যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। তেমনি এটি একটি শিল্পে পরিণত হবে। এছাড়া এই খাতে যত বেশি শিক্ষিত যুবক আসবে ততই এই খাত সমৃদ্ধ হবে। সে জন্য স্বর্ণালঙ্কার তৈরি ও বিপণন বিষয়ে একটি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কর দরকার। আমরা সে বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

এসএস/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ম্যারাডোনাকে ঢাকায় আনতে না পারার আক্ষেপ সালামের কণ্ঠে
‘আমার মতো খেলোয়াড়দের তার খেলা নিয়ে মন্তব্য করা খুব কঠিন কাজ। তিনি ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের স্বপ্নের রাজা। রাজ সিংহাসন থেকে সরে গেছেন। এই আসনে কে বসবে সেই অপেক্ষাই আমরা থাকবো।’ ম্যারাডোনাকে নিয়ে বলছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি। একাধিকবার আর্জেন্টাইন জাদুকরকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল বর্ষীয়ান এই ক্রীড়া সংগঠকের। কিংবদন্তিকে নিয়ে কথা বলেছেন আরটিভি নিউজের সঙ্গে।  চলতি বছরই বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ম্যারাডোনার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ঢাকায় পা রাখার কথা ছিল ‘দ্য গোল্ডেন বয়’ খ্যাত ডিয়েগোর। যদিও কোভিড-নাইনটিন অতিমারিতে ভেস্তে যায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পরিকল্পনা। ফেডারেশনের সিনিয়র সহ সভাপতি বলেন, ‘মুজিববর্ষে আমাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পরিকল্পনা ছিল। তবে করোনা সব নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা শুরু করেছিলাম। চার জাতীর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ব্রাজিলের সাবেক গোলরক্ষক জুলিও সিজারকে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে পেয়েছিলাম। বিশ্বের জনপ্রিয় দুটি ক্লাব নিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে একটি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল আমাদের। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছিল আমাদের। ওই ম্যাচের দূত হিসেবে সেরাদের সেরা ফুটবলার ম্যারাডোনাকে নিয়ে আসা হবে। তবে আমাদের সেই আশা আর পূরণ হলো না।’ এর আগে বিশ্বকাপ জয়ী জিনেদিন জিদান এবং লিওনেল মেসি নেতৃত্বাধীন পুরো আর্জেন্টিনা দল ঢাকার মাঠ মাতিয়েছে। গেল বছরের শেষ দিকে দিনক্ষণ চূড়ান্ত না করলেও বাফুফের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, বাংলাদেশি ফুটবল প্রেমীরা কাছ থেকে দেখতে পাবেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনাকে।  বাফুফের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে খেলোয়াড় থেকে ক্লাব পর্যন্ত সবার সঙ্গে এজেন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে ভারতে আসার কথা ছিল ম্যারাডোনার। আমরা তার এজেন্টের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করে রেখেছিলাম। সুযোগ বুঝে ম্যাচ আয়োজন করে তাকে ঢাকার মাঠে নিয়ে আসার চেষ্টায় ছিলাম।’ দেশের ফুটবলের অন্যতম প্রাণপুরুষ সালাম। ১৯৮২ সালে ঢাকা লিগে মোহামেডানের হয়ে রেকর্ড ২৭টি গোল করেছিলেন। যা দেশি ফুটবলার হিসেবে এখনও সর্বোচ্চ।  তিনি বলেন, ‘ম্যারাডোনার খেলা দেখার অনেক স্মৃতি রয়েছে। তবে বল নিয়ে তিনি নিচে না তাকিয়েই এগিয়ে যেতেন। যার কারণে তাকে ঠেকানো যে কতটা কঠিন ছিল সেটা তার প্রতিপক্ষরাই বার বার জানিয়েছেন। ছিয়াশিতে দুর্বল একটি দল নিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছেন। সে সময় ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ওই ম্যাচটির কথা অবশ্যই বলতে হয়। একটি হাত দিয়ে স্বপ্নের গোল আরেকটি বিশ্বের ইতিহাসের সেরা গোল। এক ম্যাচেই এমন দুটি গোল তুলে আজীবন নিজের নাম বিশ্ব দরবারে মনে করিয়ে দিয়েছেন ম্যারাডোনা।’ আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়ককে পরিপূর্ণ ফুটবলার হিসেবে দেখেছেন সালাম মুর্শেদী। ‘ম্যারাডোনাই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি যখন যেই রূপে খেলেছেন সেখানেই ছিলেন সফল। গোল করতেন আর নিয়মিত গোল করানো ছিল তার কাজ। একাই আর্জেন্টাইনদের বিশ্ব সেরার মুকুট পড়িয়েছেন। অন্যদিকে নেপোলির মতো দলকে ইতালিয়ান লিগে সেরা করেছেন। শুধু খেলোয়াড় নয় আমার চোখে নেতা হিসেবেও তিনি ছিলেন সফলতম।’  মাঠের বাইরে নানা কর্মকাণ্ডের জন্য শিরোনামে এসেছিলেন ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা। তবে সালাম মুর্শেদী মনে করেন বিশ্বে তার মতো এমন চরিত্র আর কখনই পাওয়া যাবে না। ‘মহাতারকা বলেই তাকে নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা ছিল। যারা বিশ্ব ভূখণ্ডে বেঁচে আছেন খেলোয়াড়, অধিনায়ক ও ব্যক্তি হিসেবে তাকে নানা রূপে দেখেছেন। ম্যারাডোনা একটি ঘটনা, ম্যারাডোনা একটি ইতিহাস। পৃথিবীতে অনেক ফুটবলার এসেছেন, অনেকেই আসবেন। তার মতো দ্বিতীয় কেউই আসবেন না।’ ওয়াই
ম্যারাডোনাকে ঢাকায় আনতে না পারার আক্ষেপ সালামের কণ্ঠে
দায়িত্ব পেলে ধর্ষণকে যাদুঘরে পাঠাতে চান বিদিশা এরশাদ
দেশজুড়ে চলমান ধর্ষণ মহামারি নিয়ে এবার আরটিভি নিউজের সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদ। ধর্ষণ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। কেবল তাই-ই নয়, আগামী ৩ মাসের আল্টিমেটামের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছেন, “দায়িত্ব অর্পণ করুক, আমি বাংলাদেশ থেকে ধর্ষণ নামক শব্দটিকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস”। সাবেক রাষ্ট্রপতির সাবেক এই স্ত্রী আরটিভি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে যদি প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন আমার পরামর্শ নেবেন, তাহলে আমি অবশ্যই আমার পলিসি নিয়ে কথা বলবো। যেমন একটি পলেসি হলো, মেয়েদের সুরক্ষার জন্য প্রতিটি জেলার প্রত্যেকটি থানায় নারীদের স্পেশাল অভিযোগ বক্স স্থাপন করবো। ওই বক্সে বা সরাসরি নারীরা যে অভিযোগ করবেন, তা যেন কেবল পড়ে না থাকে, বরং সেইসব অভিযোগ ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত করে পুলিশ যেন ব্যবস্থা নেয়। বিশেষ করে ধর্ষণ, ইভটিজিং, শ্লীলতাহানিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। কেবল তদন্ত করে থেমে থাকা যাবে না, এর জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণের মতো অপরাধের শাস্তি অবশ্যই জনসম্মুখে হতে হবে, যার ফলে মানুষ ভয় পায়। এই ভয়ের কারণে যেন তারা এমন জঘন্য অপরাধে আর না জড়ায়। এমনটি করলেই এসব ঘটনা অনেক কমে যাবে। আমি দায়িত্ব পেলে এমনটিই করে দেখাতাম। এখানে তো কেবল একটি পলেসির কথা বললাম, আমার এমন অনেক পলেসি রয়েছে, যে কারণে আমি ৩ মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, অবশ্য এসব অপরাধ দমন কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়। পরিবার, বিশেষ করে মা-বাবা’রও দায়িত্ব রয়েছে তার সন্তানকে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করার। এছাড়াও আমাদের গণমাধ্যমগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণাও থাকতে হবে। কেবল আমাদের দেশে নয়, প্রতিবেশী দেশ ইন্ডিয়াসহ পৃথিবীর সকল দেশেই ধর্ষণের ঘটনা আছে। পার্থক্য হলো, পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে ধর্ষণের বিচারের হার বেশি, কিন্তু আমাদের দেশে ধর্ষণের বিচারের হার খুবই কম। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশ পরিচালনার সময়ে ধর্ষণ ও দুর্নীতির পরিসংখ্যান খুবই কম ছিলো উল্লেখ করে বিদিশা এরশাদ আরটিভি নিউজকে বলেন, ওই সময়ে কেবল ধর্ষণ-দুর্নীতি নয়, অন্যান্য অপরাধও অনেক কম ছিলো। ওই সময়ে কোনো নারী ধর্ষিত বা নির্যাতিত হলে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হতো। এদিকে আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মধ্যরাত ১ টা ১০ মিনিটে ধর্ষণ সংক্রান্তে সরকারের সমালোচনা করে বিদিশা এরশাদ তার ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটস পোস্ট করেছেন। নিচে বিদিশা এরশাদের সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- “ধর্ষণ নির্মূলে বিদিশার তিন মাসের আল্টিমেটাম। রাষ্ট্র চাইলে সবই সম্ভব। আমি হলফ করে বলতে পারি সরকার যদি আন্তরিক হয় তাহলে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ বাংলাদেশের বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলা সম্ভব। আসলে রাষ্ট্রযন্ত্র বিকল হয়ে গেছে,,,,পঁচে গেছে রাষ্ট্রের সকল সচল ইউনিটগুলো। কে কার কথা ভাবছেন,,,,,,? সবাই নিজের আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ত। কে কাকে ধর্ষণ করলো বা কে ধর্ষিত হলো তা জেনে লাভ কী ,,,,,,? মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলছি,,,, রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার উপর ন্যস্ত, আপনি যদি তা পালন করতে ব্যর্থ হন তাহলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো উচিৎ, এভাবে আর কত তামাশা দেখবে জাতি,,,,, আপনাকে আগে মনে রাখতে হবে আপনি কোনো দলের দায়িত্ব পালন করার জন্য এ-ই আসনটিতে বসেননি, গোটা জাতির নিরাপত্তা আপনার হাতে,,,,, নিজের পরিবারে কথা, এদেশের নিরীহ মানুষের কথা চিন্তা করে আপনাকে কঠোর থেকে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ, আর যদি আপনি অপারগতা প্রকাশ করেন তাহলে নিজ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করুণ। গণমাধ্যম কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই,,,, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতা বলে আমাকে মাত্র তিন মাসের প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করুক,আমি বাংলাদেশ থেকে ধর্ষণ নামক শব্দটিকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস,,,,। পরিশেষে বলতে চাই মানববন্ধন আর মিটিং মিছিল করে ধর্ষণ দমানো সম্ভব নয়, ধর্ষণ কমাতে হলে ধর্ষকদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে l” কেএফ/এম
দায়িত্ব পেলে ধর্ষণকে যাদুঘরে পাঠাতে চান বিদিশা এরশাদ
যারা ফেসবুকে গালি দিচ্ছে তাদের যোগ্যতা কী, প্রশ্ন সালাউদ্দিনের
কাজী মো. সালাউদ্দিন স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানোর পাশাপাশি কোচ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০৮ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। চতুর্থবারের মতো বাফুফের প্রধান পদে লড়ছেন তিনি। আগামী ৩ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচন। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বেশ সরব। ‘বয়কট সালাউদ্দিন ‘হ্যাশট্যাগে তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন চলছে। ফুটবল প্রেমী হিসেবে ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধনও করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে আরটিভি নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন কাজী সালাউদ্দিন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার কুশল ইয়াসির। প্রশ্ন: প্রতিবারের তুলনায় এবারের নির্বাচন নিয়ে বেশি আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই নির্বাচন নিয়ে সরব। এগুলো কি বাড়তি প্রভাব ফেলে? কাজী মো. সালাউদ্দিন: আমার ফেসবুক আইডি নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারও করি না। এই বিষয়ে আমার জ্ঞান খুব কম। আমি যেটা জানি, আমাকে অনেকে গালিগালাজ করে। এক হাজার লোক আমাকে গালি দেয়ার পাশাপাশি নামটা ভুল লিখেছে। কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ লিখেছে। নামতো একজন ভুল করতে পারে। কিন্তু এক সঙ্গে হাজার মানুষ একইভাবে নাম ভুল করছে। অর্থাৎ একটি পক্ষই এসব নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই আমি বলি এসব ভুল তথ্য। আমার প্রতিপক্ষ শুরু করেছে। প্রশ্ন: বাফুফের নেতৃত্বে পরিবর্তনের জন্য রাস্তায় নেমেছে মানুষ। ব্যারিস্টার সুমনের নেতৃত্বে  ‘আমরাও একদিন ফুটবল বিশ্বের শক্তিশালী খেলুড়ে দেশ হতে চাই’ শীর্ষক এই মানববন্ধন আয়োজন করে ‘প্রজন্ম, ফুটবল যাদের চেতনায় ও অস্তিত্বে’। কাজী মো. সালাউদ্দিন: টিভিতে দেখলাম দাবি উঠেছে, সালাউদ্দিনকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচনের বাকি মাত্র ১৫ দিন। আপনি কেনো নির্বাচন করতে আসছেন না? আমি তো নির্বাচিত হয়েই এখানে এসেছি। আমি তো আমার নির্বাচন করছি। আপনি নির্বাচনে না এসে আমাকে পদত্যাগ করতে বলছেন। আপনি কে, আপনার যোগ্যতা কী? যদি এমন হতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আপনার সাংগঠনিক কোনো বড় অবদান আছে তাও মেনে নিতাম। গণমাধ্যমে এসে গালাগালি করলেন। কিন্তু গণমাধ্যমও তার কথা তুলে ধরছে, যা ভিত্তিহীন। আজকে আমি যদি অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করি। তাহলে দেখতে হবে অর্থনীতিতে আমার জ্ঞান কতটুকু। যারা আমাকে গালি দিচ্ছে, বলছে পদত্যাগ করতে তাদের যোগ্যতা কী? ফুটবলে আমার ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা। খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠক হিসেবে কাজ করছি। প্রশ্ন: গেল ১২ বছরে জাতীয় দলের ম্যাচ জয়ের সংখ্যা খুবই কম। চতুর্থবারের মতো সভাপতি পদে জয়ী হলে কোন কোন বিষয়ে আমূল পরিবর্তন আনবেন? কাজী মো. সালাউদ্দিন: দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৫০ বছর। আমরা সময়টাকে সোনালী অতীত বলি। মাঠে দর্শক ছিল। তখন কিন্তু ঢাকায় জাতীয় দল আসতো না। ক্লাবগুলো আসতো। আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে জিতেছি। বিষয়টি গৌরবের হলেও আমরা আসলে দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয় দলের বিপক্ষে জিতেছিলাম। এখন আমরা কোরিয়ান জাতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামি। গেল ৪০ বছরের মধ্যে ৫ শতাংশ বেশি জয় রয়েছে আমার সময়ে। আমাদের সবার স্বপ্ন দল ভালো করুক। জাতীয় দলে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই। কোচিং স্টাফকেই কয়েক কোটি টাকা বেতন দিচ্ছি। আমাদের সময় এগুলো ছিল না। আগে ম্যাচের আগের দিন বিদেশ পৌঁছতাম। এখন সাত/আটদিন আগে পৌঁছে যাই। প্রস্তুতি ক্যাম্প গ্রহণ করি। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করছি। খেলোয়াড়দের ভালো করতে হবে। গণমাধ্যমেরও ভূমিকা রয়েছে। আমি সভাপতি, তবে ফুটবলকে এগিয়ে নিতে পুরো দেশকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। প্রশ্ন:  নতুন মেয়াদে নির্বাচিত হলে এমন কোনও কিছু করতে চান যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যা দেশের ফুটবলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে? কাজী মো. সালাউদ্দিন:  আমি কোনও চমক দেখাতে আসিনি। ১২ বছর ধরে ১১টা লিগ হয়েছে। খেলোয়াড়রা এখন দামি গাড়ি চালায়। আগে ১/২ লাখ টাকা পেতো। এখন ৬০/৭০ লাখ টাকা পায়। আমার নিয়ত হচ্ছে লিগের যে মান সেটাকে দিনের পর দিন আরও বড় করে তোলা। ওয়াই/ এমকে
যারা ফেসবুকে গালি দিচ্ছে তাদের যোগ্যতা কী, প্রশ্ন সালাউদ্দিনের
বাঙালি বেশি আনন্দ পায় কান্না করে: প্রাণ রায় 
অভিনেতা প্রাণ রায়। অভিনয় জগতের এক অনন্য নাম। রোমান্টিক, ট্রাজেডি, কমেডি সব ধরণের নাটক কিংবা চলচ্চিত্রে তার অভিনয় হয় প্রশংসনীয়। প্রাণঘাতী করোনার কারণে দীর্ঘদিন নীরব ছিল লাইট-ক্যামেরা- অ্যাকশন দৃশ্য। তখন গৃহবন্দী থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন প্রাণ রায়। আবারও পুরোদমে চালু হয়েছে শুটিং কার্যক্রম। অভিনয়শিল্পীরা ফিরেছেন চিরচেনা সেই কর্মস্থলে। অভিনেতা প্রাণ রায়ও ব্যস্ত আছেন ক্যামেরার সামনে। সামসময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আরটিভি নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।    কেমন আছেন, করোনায় মধ্যে কীভাবে কাজ চলছে- ভালো আছি। করোনায় সময়ে অনেক দিন ঘরে ছিলাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক কাজ করার চেষ্টা করেছি। যেহেতু অভিনয়টা একটা পেশা। আর কতদিন ঘরে থাকা যায়। এক সময় কাজে নামতে হয়েছে। তবে এখনো সচেতনতার সঙ্গে চলার চেষ্টা করছি। বাসায় যেয়ে কস্টিউমগুলো আলাদা রাখার চেষ্টা করি। অন্য কস্টিউমের সঙ্গে যেন মিলে না যায় সেটা খেয়াল রাখতে হচ্ছে। হাত ধোয়া, খাবারের দিকে নজর দেয়া। ইউনিটেও অনেক সচেতনতা আসছে। কেউ এখন নরমাল চা দেন না, লাল চা দিলে তার সঙ্গে মশলা, লেবু মিশিয়ে দেন। ইউনিটের প্রত্যেক মেম্বার চেষ্টা করছেন যতটুকু মেনে চলা যায়। তারপরেও মনোবলটা ওষুধ হিসেবে নিয়েছি।  ফেসবুক পোস্টে দেখা যাচ্ছে অনেকগুলো কাজ করছেন। আরটিভির দীর্ঘ ধারাবাহিকেও কাজ শুরু করেছেন।  হ্যাঁ। বেশ কিছু কাজে যুক্ত হয়েছি। আর আরটিভির ধারাবাহিক নাটকের নাম ‘গোলমাল’। শুনেই বোঝা যায় স্বাভাবিক কোনো নাটক না। তিন ফ্যামিলির গোলমাল লেগেই আছে। এক ধরণের মজা তো আছেই। এই নাটকে আমার চরিত্রের নাম জালাল। এই চরিত্রটি একজন ঘর জামাইয়ের চরিত্র। একটি পরিবারে ঘর জামাই থাকাটা বড় মুশকিল। কষ্ট করে এই পর্যায়ে থাকতে হয়। পরিবার যখন ইচ্ছে তখন বের করে দিতে পারে। তবে আমি শাশুড়ির প্রিয় পাত্র যদিও বউয়ের অতটা প্রিয় না। চরিত্রের মধ্যে এক ধরণের ভাঙা, গড়া আছে। অন্যান্য ধারাবাহিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি গল্প, আশা করি দর্শক মজা পাবেন। শোনা যায় অনেক অভিনয়শিল্পী কাজ পাচ্ছেন না- মিডিয়ার প্রতি সবার একটা কমপ্লেইন আছে। কিছু আর্টিস্টদের ওপর ভিত্তি করে নাটকগুলো চালানো হয়। চ্যানেলগুলোকে এক ধরণের দোষারোপ করা হয় যে অনেকেই সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে দীর্ঘ ধারাবাহিক তৈরি হলে এই সুযোগ হবে বলে মনে করি। বর্তমান নাটকের অবস্থা নিয়ে বলুন...  আমরা অনেকে ক্ষেত্রে টাকার কারণে অভিনয় করছি, নাটক করছি। সেটা শুধু আমার ক্ষেত্রে না- পরিচালক, রাইটার, আর্টিস্ট সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু আমাদের এই নাটকের শুরু তো এক ধরণের ভালোবাসা থেকে শুরু। চাইলে ব্যবসা কিংবা চাকরি করতে পারতাম, তা তো করছি না। আমরা একটা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আছি। এখানে সামাজিক একটা দায়বদ্ধতা থেকেই যায়। সব সময় সেটা পালন করা হয়ে উঠছে না।  এখনকার নাটকগুলো কি একই ধাঁচের?  আস্তে আস্তে কমেডি নাটক বেশি বেশি হচ্ছে। এতে মানুষের আগ্রহও তৈরি হচ্ছে। এটা হতেই পারে কিন্তু এমন কিছু করা উচিৎ না যাতে সমাজের উপকার না হয়ে ক্ষতি হয়। দর্শকের রুচি নষ্ট হয় এমন কিছু করা উচিৎ না। তবে এই ধরণের নাটকের পরিমাণ বাড়ছে।   এখন তো ইউটিউবের জন্যে অনেক নাটক তৈরি হচ্ছে। ইউটিউব আর টিভি দুইটা আলাদা মাধ্যম। কিন্তু কোথায় জানি মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। টিভি মাধ্যম আর ইউটিউব মাধ্যমকে এক করে দেখাটা বোধ হয় ঠিক না। ভিউয়ের ওপর নির্ভর করে আসলে নাটক চলতে পারে না। ইউটিউবের দর্শক এক রকমের আর টিভির দর্শক আরেক রকমের। ভিন্নতা আছে। সবাই কিন্তু ইউটিউব দেখেন না। ইউটিউবের ছাড়াও টিভির দর্শক আছেন, যাদের আমরা মাথা থেকে ফেলে দিই। আমাদের পরিবারের অনেক প্রবীণ আছেন- আমাদের মা খালা তারা হয়তো ইউটিউব দেখেন না। তাদের ভিউ কিন্তু কাউন্ট হচ্ছে না। আমরা ভিউয়ের জন্য এক ধরণের কনটেন্ট তৈরি করছি। এটা নেগেটিভ তা বলছি না। সবার জন্য কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। যাদের ভিউ গুনতে পারছি না তাদের নিয়েও ভাবতে হবে।  কোন ধরণের অভিনয় মানুষ মনে রাখেন?  আমাদের বাঙালি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় কান্না করে। বেশি বিনোদন পায় কান্না করে। যেই মুভি দেখে দর্শক কাঁদতে কাঁদতে বের হয়, সেটা দেখার জন্য ওই দর্শক আরও দুজনকে বলেন। কখনো কখনো তিনি ওই মুভিটা আবারও দেখতে যান। এর অর্থ হলো সিরিয়াস গল্পেরও দরকার আছে। করোনা নবীন অভিনয়শিল্পীদের জন্যও হুমকি, তাদের উদ্দেশে বলুন… যারা অভিনয় জগতে আসতে চাচ্ছেন, শুধু শুধু ঘরে বসে থাকলে চলবে না; পাশাপাশি চর্চাটা ধরে রাখতে হবে। একটু সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা। ভোকাল প্র্যাকটিস ও ব্যায়াম করতে হবে। সারা রাত মোবাইল টিপলাম, দেরিতে ঘুমিয়ে দুপুর ১২টায় জাগলাম, এভাবে চললে হবে না। সকালে জাগলে অনেক সুন্দর ও স্বচ্ছ ভাবনা আসে। যা কাজে লাগানো যায়।  জিএ/এম
বাঙালি বেশি আনন্দ পায় কান্না করে: প্রাণ রায় 
নারায়ণগঞ্জে আরও ৬০ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ১
নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। আর আক্রান্ত হয়ে সুরাইয়া বেগম (৫৩) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি শহরের পাঠানটুলি এলাকার বাসিন্দা। আজ শুক্রবার জেলা করোনা ফোকাল পার্সন জাহিদুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৩৫ জন। আর এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৬০ জন। তিনি আরও জানান, নতুন আক্রান্তদের অধিকাংশ সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার বাসিন্দা। তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬৪ জন। সদর উপজেলায় ৫০৫ জন। রূপগঞ্জে ৯৯, আড়াইহাজারে ৪৯, সোনারগাঁয়ে ৮৩ আর বন্দরে ৩৫ জন। এজে
নারায়ণগঞ্জে আরও ৬০ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ১
আরও পড়ুন
শুরুতেই বড় দরপতন শেয়ারবাজারে
পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগকারী এসেছে ৪২ হাজার
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন ১০ সেপ্টেম্বর