ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে, প্রতিরোধ করতে জানে: রিজভী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
রুহুল কবির রিজভী-ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টের পতন হলে পরে তাকে ফেরত আনা যায় না। যে রক্তের আলপনা সে এঁকেছে, সেই রক্তের আলপনা মাড়িয়ে আবার সে এ দেশে রাজনীতি করবে—এটা কী করে সম্ভব? এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে প্রতিরোধ করতে জানে। শেখ হাসিনা যদি এ দেশে ফেরত এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া খানের যে উত্তরসূরি আছে, টিক্কা খানের যে উত্তরসূরি আছে, তাদেরও আনতে হবে।’

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন কমিটি।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের পর তাকে আবার ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে চাইলে তা জনগণ মেনে নেবে না।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার দায় কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। ইতিহাসে হিটলার কিংবা মুসোলিনির মতো শাসকদের পতনের পর তাদের রাজনৈতিক ধারাও আর ফিরে আসতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ রক্তপাত ও দমন-পীড়নের রাজনীতি মেনে নেয় না।

ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী মত দমনে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মানুষের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতারণা ও জনগণকে বিভ্রান্ত করাই তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন কেউ কেউ দেখি টক শোতে একটু একটু করে গলার আওয়াজ করছে, এই শেখ হাসিনার আমলে এই হয়েছে, সেই হয়েছে এত উন্নতি হয়েছে। কেন একটা বড় দল তাকে কেন ইয়ে (নিষিদ্ধ) দেওয়া হবে, রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না, শেখ হাসিনার চলে আসতে হবে, শেখ হাসিনা যদি এতই পাওয়ারফুল হন, তে পালালেন কেন?’

এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘মইন ইউ আহমেদ, ফখরুদ্দীন আহমদ সাহেব কত চেষ্টা করেছে, থ্রেট করেছে, হুমকি দিয়েছে, নিজে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন তবুও শেখ হাসিনার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি, ওনার অন্যায় আবদারের কাছে মাথা নত করেননি বেগম জিয়া। আপনি তো সেই দৃষ্টান্ত রাখেননি।’

আরও পড়ুন

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করা দলটির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে সত্য, ন্যায় ও আত্মত্যাগের যে শিক্ষা রয়েছে, জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘গোটা দেশের জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে, আপনারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান করলেন ’৭১ সালে। ’৮৬ সালে আপনারা হাসিনার সঙ্গে গিয়ে এরশাদের অধীনে নির্বাচন করলেন। অথচ অঙ্গীকার ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনের। ৫ আগস্টের পরে বলে দিলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সব মাফ করে দেব। আবার বললেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলব।’

রাজনৈতিকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী বারবার নিজেরাই সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে দলটির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘আপনারা (জামায়াত) সম্পর্ক গড়ে তুলুন, আপত্তি নেই। কিন্তু বলুন, আপনারা কি আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন? আমাদের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন? আমাদের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করেন?’

জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবেই।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান প্রমুখ।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জামায়াত কোনো দিনই জাতীয় স্বার্থে রাজনীতি করেনি, দলীয় স্বার্থে করেছে: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জামায়াত কোনো দিনই জাতীয় স্বার্থে রাজনীতি করেনি, জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করেনি; তারা দলীয় স্বার্থে রাজনীতি করেছে।
জামায়াত কোনো দিনই জাতীয় স্বার্থে রাজনীতি করেনি, দলীয় স্বার্থে করেছে: রিজভী
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মরদেহ দাফনের সাহসও আ.লীগের কারও নেই: রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ভারতের এক্সটেনশন ছিল। দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ লোক ভারতে পালিয়ে গেছে। দেশে তাদের কিছু দোসর রয়েছে, যাদের হম্বিতম্বি দেখা যাচ্ছে। এসব দোসরকে মোকাবিলা করার জন্য ছাত্রদলই যথেষ্ট।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মরদেহ দাফনের সাহসও আ.লীগের কারও নেই: রাশেদ খাঁন
তুরস্কের স্পিকারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক
তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, রোহিঙ্গা সংকট ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে তুরস্কের বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তুরস্ক পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশ।  বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ডা. শফিকুর রহমান এমপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সম্পর্কে তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারকে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট এবং এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতা ও মানবিক ভূমিকার জন্য তিনি তুরস্কের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান এমপি। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সংসদীয়, শিক্ষাগত, প্রযুক্তিগত, শিল্প-সাহিত্য ও মানবিক কার্যক্রমে পিপল-টু-পিপল সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। উভয়পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমান ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। আরটিভি/টিআর
তুরস্কের স্পিকারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক
সবচেয়ে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়: সাবেক ছাত্রদল নেতা
‘বাবা-মায়ের সবচেয়ে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়’-এমন মন্তব্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন নরসিংদী ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা। তার ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়: সাবেক ছাত্রদল নেতা
‘শিশির মনিররা ছিলেন কাপুরুষ, শিবির তখন বেঁচে ছিল ছাত্রলীগ হয়ে’
বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রসঙ্গ নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
‘শিশির মনিররা ছিলেন কাপুরুষ, শিবির তখন বেঁচে ছিল ছাত্রলীগ হয়ে’
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মরদেহ দাফনের সাহসও আ.লীগের কারও নেই: রাশেদ খাঁন
অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা কখনো বাংলাদেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত