
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক ও সদস্যসচিব মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্যবিশিষ্ট বিদ্যমান আহ্বায়ক কমিটি নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অতিশিগগিরই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক ও মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এবার কমিটি গঠনে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা, তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিতর্কমুক্ত ‘পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি’ বা ক্লিন ইমেজ।
এদিকে, পুরোনো কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন কমিটি ঘিরে ইতোমধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আলোচনায় যারা
নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্রনেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন। মিল্টন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ছাড়াও ঢাকা মহাগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব ছিলেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক কমিশনার আনারুজ্জামান আনোয়ার, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইউসুফ ও সাবেক দফতর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে থাকতে পারেন এমন আরও কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় আছে। তারা হলেন এস এম জাহাঙ্গীর, মামুন হাসান, সাইফুল আলম নীরব এবং এস এ সিদ্দিকী সাজু।
নেতৃত্বে কী চাইছে বিএনপি
নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলটি সাংগঠনিকভাবে কার্যকর নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে পারে বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক সংগঠনে পুনর্গঠন একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। নতুন কমিটিতে রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে আমি আশাবাদী।’
তবে আলোচনায় থাকা নামগুলো এখনো সম্ভাব্য হিসেবেই রয়েছে; বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে কারও নিয়োগ নিশ্চিত নয়। দলটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন কমিটি অতি শিগগিরই ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
আরটিভি/ এসকেডি


