-1793621796-413363_1793621838.jpg)
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন) এবং সদস্যসচিব হয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার কথা জানানো হয়। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই শাখার পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমিনুল হক ও মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি এসব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
এদিকে, মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠিত হবার পরেই মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
যুবদলের নেতৃত্বে আলোচনায় যারা
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে চালাচ্ছেন জোর তৎপরতা।
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব ও সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আইয়ুব আলী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তাকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছিল। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে কয়েকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে।
এ পদে আলোচনায় রয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মিজানুর রহমান রাজ, মনিরুল ইসলাম স্বপন এবং তসলিম আহসান মাসুমের নামও।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক হিমেল, যুগ্ম আহ্বায়ক জুলহাস আহমেদ, রফী উদ্দিন ফয়সাল, কামরুল ইসলাম, তানভীর আহম্মেদ ইকরাম, আবু সালেহ চৌধুরী মানিক, ফরহাদ আলী সজীব, আরিফ হোসেনের নাম। এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক নেতা মেহেদী হাসান রুয়েল, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আবুল হাসান চৌধুরীর নামও শোনা যাচ্ছে।
তবে আলোচনায় থাকা নামগুলো এখনও সম্ভাব্য হিসেবেই রয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটিতে কারা স্থান পাবেন, সে বিষয়ে বিএনপি বা যুবদলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের সঙ্গে জড়িত নন, এমন নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোও দ্রুত পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন নেতৃত্বের সামনে চ্যালেঞ্জ
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর একটি। নতুন নেতৃত্বের সামনে তাই থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সংগঠন শক্তিশালী করার চ্যালেঞ্জ থাকবে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি ফেরানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দলীয় নেতাদের মতে, বিতর্কিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা হলে কিংবা থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন দুর্বল ও বিভক্ত থাকলে নির্বাচনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, এমন নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নতুন কমিটিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করা নেতাকর্মীরা যেন নিজেদের বঞ্চিত মনে না করেন বা দল থেকে দূরে সরে না যান, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দীর্ঘদিনের নিবেদিত নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়লে বা তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে নির্বাচনের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
একই মত দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং পার্লামেন্টারি রাজনীতির গবেষক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে নিবেদিত ও যোগ্য নেতাদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় হতাশা তৈরি করা এড়িয়ে চলা উচিত।
আরটিভি/এসএস




