ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকাসহ সারাদেশে র‍্যালির ঘোষণা বিএনপির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য র‍্যালিসহ বিস্তৃত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান দলটির দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি জানান, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন এবং বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতারা। এছাড়া আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।

কর্মসূচি সম্পর্কে রিজভী বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচির খসড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র‍্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টার প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে এবং ছাত্রদল আয়োজন করবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনী।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, সম্ভাব্য ৬ নভেম্বর একটি আলোচনা সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যানের সম্মতি পাওয়া গেলে ওই দিন সভা অনুষ্ঠিত হবে, অন্যথায় তিনি যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেদিনই সভা হবে।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনের চেতনা হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার চেতনা। ১৯৭৫ সালের আগের রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতেই ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান যেমন সংকটময় সময়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তেমনি ৭ নভেম্বরের পর তিনি জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন। এরপর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাচিব উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বহু সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো আবার মুক্তভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায়।

এরপর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা ছাত্র-জনতার ‘জুলাই আন্দোলন’কেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সেখানে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশ নেন; যার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সব মতের অধিকার রক্ষায় ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে এই ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মিষ্টির আসনে মনোনয়ন পেলেন এলিজা জামান
এলিজা জামান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। একইসঙ্গে পিরোজপুর জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক তিনি।
মিষ্টির আসনে মনোনয়ন পেলেন এলিজা জামান
শ্রেণিভেদ নির্মূল করে মানবতার কল্যাণের কথা বলেছেন গৌতম বুদ্ধ: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শ্রেণিভেদকে নির্মূল করে মানবজাতির কল্যাণের জন্য কথা বলে গেছেন গৌতম বুদ্ধ। তার কাজ ও আদর্শ অনুসরণ করলে তা গোটা মানবজাতির কল্যাণে আসবে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধ মহাবিহারে ‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা’ ও ফানুস উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, গৌতম বুদ্ধের সরল পথ ও মানবিক কাজগুলো অনুসরণ করলে জীবন সুন্দর ও শান্তিময় হয়ে উঠবে। বুদ্ধের বাণী শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একার নয়, এটি সর্বজনীন এবং সব ধর্মের মানুষকেই সঠিক পথে চলার প্রেরণা দেয়। বুদ্ধ সমাজ ও মানবতার জন্য যে কাজগুলো করে গেছেন, তা সমগ্র মানবজাতির জন্যই অনুকরণীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রবারণা পূর্ণিমাকে ‘চিত্ত পরিশুদ্ধের অনুষ্ঠান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মতো সব মানুষ যদি তাদের বছরের নানা ঘটনার (ভুলত্রুটি) স্বীকারোক্তি সহকর্মীদের কাছে দেয়, তাহলে তাদের মধ্যে নতুন করে কোনো অন্যায় করার ইচ্ছা থাকবে না। আরটিভি/এসআর  
শ্রেণিভেদ নির্মূল করে মানবতার কল্যাণের কথা বলেছেন গৌতম বুদ্ধ: রিজভী
আসিফ মাহমুদকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, বিএনপিতে যোগদান করে নির্বাচন করার জন্য পদত্যাগ করার ঠিক আগেরদিন রাতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বসেছিল আসিফ মাহমুদ। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। আরটিভির পাঠকদের সুবিধার জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো— পদত্যাগ করার ঠিক আগেরদিন রাতে আসিফ মাহমুদ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বসেছিলো বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য। মাহফুজ আলমও ধানের শীষে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলো। যেকারণে দু'জন একসাথে বিএনপিতে যোগদান ও নির্বাচনের কনফার্মেশন পাওয়ার জন্য বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাউদ্দিন আহমেদের বাসায় পর্যায়ক্রমে গিয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উপদেষ্টা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করুক এটা বিএনপি চায়নি। অর্থাৎ বিএনপি আসিফ মাহমুদের প্রতি আগ্রহ না দেখানোর পর সে বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগদান করেছে। মাহফুজ আলম অবশ্য বিএনপিতে সুযোগ না পেয়ে নৈতিকতা ধরে রেখেছে। তার এই সততাকে সাধুবাদ জানাই।  যাইহোক, গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার কারণে নাহিদ ইসলামের পরেই এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের অবস্থান থাকার কথা। কিন্তু অতীত বিতর্ক ও এনসিপিতে যোগদান করার বিষয়ে দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে সে বর্তমানে এনসিপির সুপার সিক্সের সর্বশেষ নেতা। অর্থাৎ অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে ব্যাপক কোনঠাসা! অন্যথায় একজন ছাগলচোর, ল্যাপটপ চোরও তার কয়েকধাপ উপরের নেতা হয় কি করে!  আবার বেশি আসন সমঝোতা করার জন্য এনসিপির শীর্ষ এক ডজন নেতা জনাব সালাউদ্দিন আহমেদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতো। কিন্তু বিএনপি এনসিপিকে ৪ টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। আর একারণেই বেশি আসন ও নির্বাচনী খরচ পেয়ে জামায়াত জোটে গেছে এনসিপি।  অর্থাৎ এনসিপির নতুন রাজনীতি হলো সুবিধাবাদী জিন্দাবাদের রাজনীতি। এখন হয়তো আলাদা কোনো সুবিধা পেতে কিংবা জামায়াতের পরামর্শে বিএনপিকে চাপের রাখার কৌশল হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পেইন শুরু করেছে এনসিপি। কিন্তু তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ ব্যর্থ কর্মসূচি।  বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেও তার কিছু করার সক্ষমতা রাখে না এনসিপি। কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কোনো সুযোগে নেতা বনে যাননি। দীর্ঘ সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার কারণেই তার আজকের এই পজিশন। জামায়াত- এনসিপির ৯০ জন এমপির মেধা ও যোগ্যতা  এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সমান নয়। আর এটা তো কারও না বোঝার কথা না যে, তাদের যন্ত্রণাটা ঠিক এখানেই!  তারা মনে করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করে বিএনপিকে চাপে রাখতে পারলে বিরিয়ানির ভাগ আদায় করা যাবে! কিন্তু বিএনপি বিরিয়ানি ভাগবাটোয়ারার রাজনীতি করেনা। বিএনপি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে। সুতরাং বিএনপির কাছ থেকে জামায়াত-এনসিপি বিরিয়ানির ভাগ চাইলেও পাওয়ার সম্ভাবনা নাই। আরটিভি/এসআর  
আসিফ মাহমুদকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাশেদ খাঁন
‘তারেক রহমানকে অবৈধ বলার আগে নাহিদের উচিত ছিলো পদত্যাগ করা’
শেখ হাসিনার সাথে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবৈধ বলার আগে নাহিদ ইসলামের উচিত ছিলো জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করা বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ খাঁন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, শেখ হাসিনার মতো তারেক রহমানও অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতের প্রক্সি সংগঠনের সভাপতি নাহিদ ইসলাম। যে জাতীয় সংসদে সরকারি দল হিসেবে বিএনপি অবৈধ হয়, সেই সংসদে বিরোধীদলের চিফ হুইপ হিসেবে নাহিদ ইসলাম কিভাবে বৈধ হন? তিনি লেখেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবৈধ বলার আগে নাহিদ ইসলামের উচিত ছিল জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করা। তবুও যেহেতু পদত্যাগ করার আগে বিএনপি সরকারকে অবৈধ বলে তিনি বক্তব্য দিয়ে ফেলেছেন, সুতরাং এই বক্তব্যের পরে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ না করলে তার কোনও নৈতিক ভিত্তি থাকবে না। আশা করি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করে নৈতিকতার প্রমাণ দেবেন এবং রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে এনসিপির জনভিত্তির প্রমাণ দেবেন। আরটিভি/টিআর
‘তারেক রহমানকে অবৈধ বলার আগে নাহিদের উচিত ছিলো পদত্যাগ করা’
যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাকে প্রধান আসামি করে মামলা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। 
যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাকে প্রধান আসামি করে মামলা
আরও পড়ুন
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৬৬২ জন ধরা
‘সরকারি উদ্যোগে’ বিশ্ববাজারে ডানা মেলতে প্রস্তুত ঢাকাই মসলিন
আংশিক মেঘলা থাকতে পারে ঢাকার আকাশ
বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে নারীর কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, অতঃপর...