ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

‘৫ আগস্টের পর হঠাৎ গজিয়ে ওঠা নেতা নয়, কমিটিতে মূল্যায়ন পাবেন ত্যাগীরা’

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আগামী দিনে তাদের নিয়েই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ও ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার ধামরাইয়ে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সভা ও র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, দীর্ঘ সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে ধামরাই, সাভারসহ সমগ্র দেশেই যুবদলের অনেক সাংগঠনিক কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নকে ডেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে বর্তমানে সারা দেশে জেলা, উপজেলাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ইউনিট কমিটি পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

দলে প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে যুবদলের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘দলের পদ-পদবি না নিয়েও অনেকে রাজপথে লড়াই করেছেন। আমরা চাই, যুবদলের নেতৃত্বে যারা আসবেন, তারা যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আদর্শবান হন। ৫ আগস্টের পর এখন অনেক নেতা দেখা যাচ্ছে, যাদের সাড়ে ১৫ বছরের আন্দোলনে রাজপথে পাওয়া যায়নি। কোনো মনগড়া কমিটি করা হবে না। ৫ আগস্টের আগে ও পরে যারা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে আছেন, তাদের সামনে নিয়েই পরীক্ষিত কমিটি করা হবে।’

খুব দ্রুতই ঢাকা জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটিসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ইউনিট কমিটি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, সংগঠনের মূলনীতি ‘সবুজ, ঐক্য, প্রগতি’কে ধারণ করেই আগামী দিনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারকে যেভাবে বিতাড়িত করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে আগামী দিনেও যে-কোনো নিষিদ্ধ ও গুপ্ত রাজনীতিকে প্রতিহত করা হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সুলতানা আহমেদ, ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান, ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আপত্তিকর ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে যা বললেন এমপি আজিজ
ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে ছেলের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার নাটোর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ভুয়া বলে দাবি করছেন এমপি।
আপত্তিকর ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে যা বললেন এমপি আজিজ
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫০০ শ্রমজীবীর মধ্যে খাবার বিতরণ
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরের সদরপুরে পাঁচ শতাধিক অসহায়, হতদরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আজিজুল ইসলাম নান্নুর পক্ষ থেকে এ খাবার বিতরণ করা হয়।
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫০০ শ্রমজীবীর মধ্যে খাবার বিতরণ
বিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আ. লীগ: রিজভী
বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণসংলাপে সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। এ সময় ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম, গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।  রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে হবে। কোনো খাতই জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না। বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরূপণের যে গবেষণা করা হয়েছে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে। গবেষণাটির মূল প্রবন্ধ যতটুকু আমি পড়েছি, তাতে আমার কাছে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠ মনে হয়েছে। সেখানে প্রচলিত পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে, সেই তথ্যের ভিত্তি ও যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা বিবেচনা করে কাউকে হতদরিদ্র বা চরম দরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত করা কতটা যথাযথ, তা যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো একটি সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ধরে নেয়ার পরিবর্তে বিকল্প ব্যাখ্যা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়া জরুরি। গবেষণায় প্রশ্ন তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশ্ন করা। পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা প্রশ্নের মধ্য দিয়েই এগিয়েছে। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না, কিন্তু তিনি প্রশ্নের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা করেছেন। পরবর্তী সময়ে প্লেটো একাডেমি এবং অ্যারিস্টটল লাইসিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রশ্ন করার এই চর্চাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রিজভীর মতে, আলোচ্য গবেষণারও উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যানকে ভিত্তি হিসেবে নেয়া হলেও সেই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে দারিদ্র্যের প্রকৃত চিত্র কতটা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়েছে। বিশেষ করে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মধ্যে কারা প্রকৃত অর্থে চরম দরিদ্র, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কোথাও বিদ্যুৎ পৌঁছালেও আশপাশের তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারগুলো সুবিধা পেতে পারে, কিন্তু অনেক পরিবার সেই সুযোগের বাইরে থেকে যায়। ফলে দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ সমান নয়। দারিদ্র্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী ঢাকার বস্তি এলাকার বাস্তবতার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে অনেক দরিদ্র মা-বাবা কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের পড়াশোনা করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের সদস্যদের বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। একজনের পড়াশোনা শেষ হলে অন্যজন পড়তে বসে। কখনো দিনের বেলায় পড়াশোনার সুযোগ না পেয়ে রাতে পালা করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। এমনকি কিছু পরিবারকে হারিকেন জ্বালিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। তিনি বলেন, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে কেবল বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ভিত্তিতে হতদরিদ্র মানুষের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন। তাই এ ধরনের গবেষণায় মানুষের জীবনযাত্রা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ এবং বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি গবেষণাটির উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রিজভী বলেন, বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসেবে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা ক্রমেই সামনে আসছে। এ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একটি কোম্পানির প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশে আসা এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার বিষয়টি তিনি পত্রিকায় পড়েছেন। এ ছাড়া জাপানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রিজভী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিবার ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারলে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এ খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের সমস্যার কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ফলে দেশের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং রান্নার চুলা জ্বালানোর মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা গেলে জ্বালানি খাতে আরও সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর কয়েক মাস অতিবাহিত হয়েছে। বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। তবে নির্বাচিত সরকারের বৈধতা, দেশপ্রেম এবং অঙ্গীকার রক্ষার তাগিদ থাকলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। আরটিভি/টিআর
বিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আ. লীগ: রিজভী
গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন: রাশেদ খাঁন
‘গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।  বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের বিবৃতি ও গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের সমালোচনা করে এ মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জামায়াতের এই বিবৃতির ভাষা কি প্রমাণ করে না যে, মিয়া গোলাম পরওয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেছেন? বিবৃতিতে কোথাও বৈঠক না হওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে নাই এবং বিবৃতিতে কোথাও ভারত শব্দটা পর্যন্ত আনে নাই! কেন?  ‘শোনেন, মিয়া গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছে, জামায়াত তাকে রক্ষা করতে গেলে পুরো দলকে এর দায় নিতে হবে। আর এখন থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দিল্লি না ঢাকা স্লোগান দিলে জনগণ উত্তর দিবে মুনাফেক মুনাফেক! দিল্লি না ঢাকা.... মুনাফেক, মুনাফেক!’ তিনি লেখেন, গতকাল নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, সাংবাদিক যে সময় বলছিলো মিয়া গোলাম পরওয়ার ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন করতে চাইলো, তিনি বা পাশ থেকে কেউ বললেন, না আজকে অন্য প্রশ্ন না! আবার তিনি তড়িঘড়ি করে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অন্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য চলে গেলেন! তিনি যদি ঐদিন অন্য প্রশ্ম না নিবেন, তবে কেনো প্রথম প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না দিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিলেন? তিনি আরও লেখেন, এর মূল কারণ হলো, প্রথম প্রশ্নে তিনি ইতস্তত অনুভব করছিলেন যে, টুপি মাথায় দিয়ে আর কতো মিথ্যা বলা যায়! আমিও অবাক হলাম, জামায়াত যে ইসলামের কথা বলে! তাদের ইসলাম মানে কি টুপি মাথায় দিয়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো? আরটিভি/এসআর
গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন: রাশেদ খাঁন
ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশ করলেন রাশেদ খাঁন
ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।  এ অভিযোগের পক্ষে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে এবং এতে থাকা গাড়িতে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন। ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ওই গাড়িতে করে বেরিয়ে আসেন। পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক শেষে এই গাড়ি করে বের হয়ে আসে মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের প্রতিনিধি দল। আমি আবারও বলছি, মিয়া গোলাম পরওয়ার চাইলে আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন। এর আগে সোমবার (২৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসেও একই অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, গত ১৬ অক্টোবর মাগরিবের পর রাজধানীর বারিধারার একটি বাড়িতে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াত নেতা এটিএম মাছুমসহ তিনজন। যারা প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন, তারা কোন স্বার্থে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন- এমন প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তার ভাষ্য, ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করা এবং দেশটির উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করা এক বিষয় নয়। জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে রাশেদ খাঁন বলেন, মিয়া গোলাম পরওয়ার নৈতিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করলে কথিত বৈঠকের বিষয়টি স্পষ্ট করবেন বলে তিনি আশা করেন। তা না হলে জামায়াত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত- এমন ধারণা তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। আরটিভি/এসআর
ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশ করলেন রাশেদ খাঁন
আরও পড়ুন
ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের
যুবদল নেতার সঙ্গে মৎস্য কর্মকর্তার অডিও ভাইরাল
ধামরাইয়ে দুই ইটভাটাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকায় বর্ণাঢ্য মিছিল