ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সংবিধান মানলে সরকার হলেন কীভাবে, বিএনপিকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান মানলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে ওই নির্বাচন না হলে সরকার গঠন হলো কীভাবে, সেই প্রশ্ন রেখে বিএনপি সরকারকে সংবিধানের নেশা থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেছেন, আমি বারবার বলি, সংবিধান মানলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা নয়। তাহলে ওই নির্বাচন না হলে আপনারা সরকার হলেন কীভাবে? আর আমরা বিরোধীদল হলাম কীভাবে? সংবিধানের এই নেশা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই সংবিধান শুধু ফ্যাসিবাদের জন্মই দেয়নি, ফ্যাসিবাদকে স্থায়ী রূপ দিতে চেয়েছিল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা তিনি।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমার প্রশ্ন, আপনারা এখন সংবিধান খুঁজছেন কেন? সংবিধান মেনে সাড়ে ১৫ বছর সরকারের সদয় অনুমতি নিয়ে কিছু মিটিং ও মিছিল করেছেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদকে তাড়াতে পারেননি। আমরাও পারিনি, আপনারাও পারেননি। এটাই বাস্তবতা।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অনেকেই জেলে ছিলেন। একসঙ্গে অনেকের সঙ্গে ছিলাম। তখন আলোচনা হচ্ছিল, ২০৪১ সালের আগে শেখ হাসিনাকে বিদায় দেওয়া সম্ভব নয়। আমি বলেছিলাম, এতদিন অপেক্ষা করতে হবে না। এরপর তার উত্তরসূরিরা সেই পতাকা বহন করবেন। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। জেলে বসে বিএনপির বন্ধুদের মুখে এসব কথা শুনেছি। আমি বলেছিলাম, আল্লাহর ইচ্ছায় কি পরিবর্তন হতে পারে না? পরিবর্তনের জন্য অনেক চেষ্টাই তো করলাম, কাজে তো লাগল না।

জামায়াত আমির বলেন, নেতৃবৃন্দ ক্ষমতায় গিয়ে অতীতের সবকিছু ভুলে গেলেন। সংবিধান মেনেই তো আন্দোলন হয়েছে, মিছিল হয়েছে, মিটিং হয়েছে। অনুমতি নিয়ে এসব করতে হয়েছে। যদিও সরকার আমাদের কোনো অনুমতি দেয়নি, দিতে চায়নি। সাড়ে ১৫ বছরে মাত্র দুটি মিটিং করার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছিল। তাও কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মিটিংয়ে আমরা জানিয়ে দিয়েছিলাম, অনুমতি না দিলেও মিটিং করব।

তিনি বলেন, যেসব জায়গায় পরিবর্তন দরকার, সেসব জায়গায় আপনারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছেন। আবার যেসব জায়গায় নোট অব ডিসেন্ট দেননি, সেগুলোও এখন এড়িয়ে চলছেন। জুলাই জাতীয় সনদের স্বাক্ষর দক্ষিণ প্লাজায় হলো কেন? গণভবনে হলো না কেন? অন্য কোনো জায়গায় হলো না কেন? এর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এই সংসদে বসে জনগণের অধিকার খুন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যেন একই প্রক্রিয়া চালু না থাকে, সে জন্যই এই জায়গা নির্বাচন করা হয়েছিল। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিল।

ডা. শফিকুর রহমান এরপর বলেন, জনগণের অধিকারের দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমাদের প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা অতীতের গুনে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চান না। তারা পরিবর্তন ও সংস্কার চান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি সফল গণবিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। সরকার কার্যক্রম শুরু করার পরপরই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর অংশীজন ছিলেন। সিভিল সোসাইটির সম্মানিত সদস্যরাও ছিলেন। দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় ধরে দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিন-রাত আলোচনা করে বেশির ভাগ বিষয়ে একমত হয়ে অল্প কিছু বিষয় বাদে একটি সনদ তৈরি হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার সবারই ছিল। এর ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর অংশীজনেরা স্বাক্ষর করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তখন স্বাক্ষর করেনি। তবে পরবর্তী সময়ে এনসিপিও স্বাক্ষর করেছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা শুনেছেন, একই দিনে দুটি ভোট হয়েছে। আমরা কিন্তু একই দিনে ভোট চাইনি। আমাদের স্পষ্ট দাবি ছিল, আগে গণভোট হবে, তারপর সংসদ নির্বাচন হবে। আমাদের আশঙ্কা ছিল, দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হলে বিষয় দুটি গুলিয়ে ফেলা হবে। শেষ পর্যন্ত আমাদের আশঙ্কাই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। তারা মূল জায়গা থেকে চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছে।

জামায়াতের আমির বলেন, বিএনপির দাবি ছিল একই দিনে ভোট হোক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অযৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে একই দিনে ভোটের ব্যবস্থা করল। তারা এটিকে অভিনন্দন জানাল। অন্তত একবার হলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চাইলেন। আমরাও চেয়েছি। জনগণ জানে এবং বলে, বিএনপি আসলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়নি। তারা দেশে-বিদেশে তাদের লোকদেরকে নির্দেশনা দিয়েছিল ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার কাছে তারা মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে। ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা অতীতের গুনে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চান না। তারা পরিবর্তন ও সংস্কার চান। আমাদের সন্তানেরা এ জন্য জীবনও দিয়েছেন। তারা বলেছিলেন, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। তারা বলেছিলেন, বৈষম্যের বাংলাদেশ আর দেখতে চান না। কিন্তু এখনো জাস্টিস প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বৈষম্য আরও বেড়ে চলেছে।

বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত আমির আরও বলেন, জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা তো রাখলেন না। এখন নানা কথা বলে বলছেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছেন। আসুন, এখানে কথা বলুন। নোট অব ডিসেন্ট থেকে কোনো সমঝোতা করতে হলে আমাদের সঙ্গে এই কমিটিতে বসতে হবে। আমি জানতে চাই, আপনারা ৭০ ভাগ জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করেছেন। আপনারা কি চান, বিরোধী দলও ধোঁকাবাজি করুক? আমরা এটা মেনে নেব না। জনগণের সঙ্গে দেওয়া ওয়াদার জায়গায় আমরা অটল। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলতে পারি, গণভোট বাস্তবায়নে আপনারা বাধ্য থাকবেন।

তিনি বলেন, আইনজীবী, আইনপ্রণেতা ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা বলেছেন, এর আগেও বহুবার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। কিন্তু আদালতে গিয়ে সেগুলো পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। আমরা প্রক্রিয়ায় যেতেই চাই। আবার একটি সংশোধন করবেন, আরেকটি আদালত সেটিকে একেবারে ধুয়ে-মুছে দেবে। অতীতের ভুলের ধারায় চলতে আমরা অভ্যস্ত নই, রাজিও নই। এ জন্যই আমরা সংস্কার চাই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভালোবাসা আমাদের সঙ্গে আছে। কারণ, আমরা জনগণের জন্য লড়াই করে চলছি। এই লড়াইয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা বিজয়ী হব। জনগণের বিজয় হবে। কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়, কোনো পরিবারের নয়। এই বিজয় হবে জনগণের বিজয়।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় লাঞ্চ করেন। ভাই, আরেকটু ভালো করে করেন এবং ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেশটাকে সুস্থভাবে চালান। আপনাকে তো জনগণ বলেনি যে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে লাঞ্চ শেষ করতে হবে। আপনি যেটা উপযুক্ত মনে করেন, সেটাই খান। কোনো সমস্যা নেই। পছন্দ না হলে বাসার খাবার খান, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু জনগণকে দুমুঠো ভাত স্বস্তিতে খেতে দিন। শান্তিতে থাকতে দিন। আপনার লোকেরা মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, আগামী লংমার্চ ইনশাআল্লাহ ঢাকা থেকে শুরু হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। এই লংমার্চকে ঘিরে যেন কোনো ষড়যন্ত্র করা না হয়। যদি কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে লংমার্চের কাফেলা চট্টগ্রামে গিয়েছিল। সাইনবোর্ডে গিয়ে কেউ কেউ বসে পড়লেও আমরা অনড় ছিলাম যে এই কাফেলা চট্টগ্রাম যাবেই। সবকিছু মোকাবিলা করে সেদিন চট্টগ্রাম গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরাও যেহেতু ন্যায়ের পথে আছি, আল্লাহর সাহায্য পাব, ইনশাআল্লাহ। সেই সাহায্য সঙ্গে নিয়ে জনগণের জন্য আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাব। কোনো বাধা আমাদের আটকাতে পারবে না। কোনো ষড়যন্ত্র আমরা মানব না, কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি, বিস্ফোরক মন্তব্য মাসুদ সাঈদীর
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেছেন, তার লাশ দাফনে বা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না, জনগণের আপত্তি ছিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে, যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবমাননা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।  মাসুদ সাঈদী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পোষ্য ও সুবিধাভোগী দালাল কুখ্যাত মানিক পশারী আজ (শনিবার) দিনের কোনো এক সময় গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মারা যায়। মৃত্যুর পর তাকে পিরোজপুরে আনা হয় এবং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের চেষ্টা করা হয়।  ‘জনগণ বিষয়টি জানতে পেরে তাকে কথিত ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে বাধা প্রদান করে এবং কুখ্যাত মানিক পশারী যে মুক্তিযোদ্ধা নন তা প্রশাসনকে অবহিত করেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি ‘গেজেটপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা!’ এরপরও জনগণ একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা প্রদান করে। আমরা জনগণকে শান্ত করেছি, ধৈর্য ধারণ করতে বলেছি। অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব অন্যায় করেছে, সেসব অন্যায় কোনোভাবেই যেন আমাদের দ্বারা না হয় সে বিষয়ে জনগণকে বুঝিয়েছি।’  তিনি বলেন, আমি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি (বরিশাল রেঞ্জ) থেকে শুরু করে পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলগত অবস্থান থেকে উভয়ে একযোগে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বরাবরই নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে জনগণের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ সত্যিই খুব কঠিন ছিল।’ সাঈদীপুত্র আরও বলেন, ‘কুখ্যাত মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য বা বাধা ছিল না, নেইও। আপত্তি ছিল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে। যদিও প্রশাসন মিথ্যাচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে।’ তিনি বলেন, এ ঘটনাটি দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের অপমান ও মহান স্বাধীনতার অবমাননা এবং দেশের আইনি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি চরম এক উপহাস বলে মনে করছি। যে ব্যক্তি স্বয়ং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরায় স্বীকার করেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন— সেই রকম প্রতারক ব্যক্তিকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া এবং বছরের পর বছর সরকারি ভাতা ভোগ করতে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ডিও লেটার জালিয়াতির বিষয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হলো যখন মানিক পশারীকে ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী প্রশ্ন করেন যে, ‘আপনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা?’ তখন সে স্পষ্ট করেই বলেছিল- ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করিনি।’  ‘ট্রাইবুনালে তার বক্তব্য আমি এখানে হুবহু তুলে ধরছি— ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই, তবে সহযোগিতা করেছি। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি। এ জন্য বর্তমান এমপি একেএমএ আউয়াল সাহেব আমার নামে একটি ডিও লেটার দিয়েছে, আমার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। আমি পিরোজপুরে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা করার পর না আগে আমার ওই ডিও লেটার দিয়েছে তা আমার স্মরণ নাই।’ মাসুদ সাঈদী বলেন, এখানে মানিক পশারী অকপটে স্বীকার করেছে যে, সে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নয়। তবে এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে আসার আগে তৎকালীন আওয়ামী দোসর কুখ্যাত এমপি আউয়াল তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিল। অর্থাৎ স্রেফ মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল। মানিক পশারী কীভাবে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেন সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাসে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, একটি দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব ও সম্মানের জায়গা হলো ‘মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব। মানিক পশারীর মতো একজন কুখ্যাত ও স্বঘোষিত অ-মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রমাণিত মিথ্যাবাদীকে কারা গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বানাল? কোন কুচক্রী মহল তাকে রাষ্ট্রের করের টাকায় বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার সুযোগ করে দিল? মাসুদ সাঈদী বলেন, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাকে অবৈধভাবে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার পেছনে যে সব কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত ছিল, তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ‘একজন ভুয়া ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন করে ডিও লেটার দেওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষীর বিনিময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম উঠানোর অপরাধে সাবেক অবৈধ এমপি একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’ মানিক পশারীর নাম দ্রুত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল করার দাবি জানান বিরোধী দলের এই এমপি। তিনি বলেন, তাকে দেওয়া সব রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। পোস্টের শেষে মাসুদ সাঈদী বলেন, মিথ্যা ও জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো অপশক্তি চিরদিন সত্যকে ধামাচাপা দিতে পারে না। মানিক পশারী ও তার পৃষ্ঠপোষকদের এই জালিয়াতি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ আরটিভি/এসআর  
সাঈদীর মামলার বাদী মানিককে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি, বিস্ফোরক মন্তব্য মাসুদ সাঈদীর
আ.লীগের লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক, কর্মসূচি দিলো জামায়াত
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতের সব শাখাকে এ দিবস উপলক্ষে উক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ঘোষিত কর্মসূচি সার্বিকভাবে সফল করতে আমরা দেশের কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
আ.লীগের লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক, কর্মসূচি দিলো জামায়াত
জামায়াতের নায়েবে আমিরের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে।  এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাকড করেছে একটি দুর্বৃত্ত চক্র। এতে আরও বলা হয়, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে কোনও ধরনের লেনদেন করা থেকে বিরত থাকাসহ সার্বিক বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আরটিভি/এসআর
জামায়াতের নায়েবে আমিরের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড
আসিফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আসিফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি
ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন ঘিরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের কড়া হুঁশিয়ারি
আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা হলে মাগুরার নির্বাচনের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট।  
ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন ঘিরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের কড়া হুঁশিয়ারি
আরও পড়ুন
চসিকের পূর্ণকালীন প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন
মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির মৃত্যুতে এমপির শোক
হঠাৎ বিক্ষোভে কাঁপছে নেতানিয়াহুর সরকার!
মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান মারা গেছেন