মিশরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

মিশর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০২:১১ পিএম


মিশরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস
মিশরের রাজধানী কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত : ছবি আরটিভি

প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরের রাজধানী কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের বাণী পাঠ, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, চেতনা ও তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং দেশ ও জাতির অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মো. নোমান উদ্দিন আজহারী।

দোয়া শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে দিবসটি উপলক্ষে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন, দূতালয় প্রধান আতাউল হক, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাসুদ করিম চৌধুরী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা (হিসাব) মুহাম্মদ রেজাউল করিম খান।

আরও পড়ুন

এরপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইত্তিহাদ’-এর সভাপতি নোমানুল করিম, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল আমিন আকন্দ এবং ইয়াসমিনা টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপক ইব্রাহীম হাসান। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও দৃষ্টিশক্তি হারানো সাহসী জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্য, দুর্নীতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক এবং স্বাধীন মতপ্রকাশ নিশ্চিতকারী একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। এই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের এক ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ন্যায়বিচার, সাম্য, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এই অগ্রযাত্রায় দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

আলোচনা সভার আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি দূতাবাস প্রাঙ্গণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ভিত্তিক একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে অতিথিদের সঙ্গে প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং প্রতিটি আলোকচিত্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে মিশরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তা, অধ্যাপক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, নারী উদ্যোক্তা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে নৃত্যসহ একটি সমবেত সংগীত পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবারে আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission