
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় ‘লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি।
অনুষ্ঠানে বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পেশাজীবী, বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার বলেন, লালন ফকির ছিলেন একাধারে বাউল সাধক, দার্শনিক ও শিল্পী। তার দর্শন ও সংগীত বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাউল গানকে ‘মানবতার মৌখিক ও বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মাস্টারপিস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাউল সংস্কৃতির পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা ছড়িয়ে দিতে লালন সাঁইয়ের দর্শন আজও গুরুত্বপূর্ণ। তার জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং লোকসংগীত ও লোকসংস্কৃতির চর্চা, গবেষণা ও প্রসারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে দেশের লোকসংগীত ও লোকজ ঐতিহ্যের গুরুত্ব আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত অতিথিদের লালন সাঁইয়ের প্রেম, অহিংসা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা পর্ব শেষে লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উপস্থিত অতিথিরা আগ্রহের সঙ্গে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
আরটিভি/টিআর


