
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার বাংলাদেশি গবেষক ইরফান আল হুসাইনির (৩২) রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
গত ৩১ অক্টোবর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘দ্য সাডেন ডেথ অব অ্যান এনভিডিয়া এআই প্রডিজি লিভস বিহাইন্ড বিটার অ্যাকিউজেশনস’। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাংবাদিক জুশা এলিনসন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বসন্তে জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণায় সাফল্য পাওয়া দুই তরুণ গবেষক ইরফান আল হুসাইনি ও তার স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনার প্রেমের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছিল। দুজনই পিএইচডি সম্পন্ন করেছিলেন এবং গবেষণার জন্য একাধিক পুরস্কার পেয়েছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির দুটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন তারা। ফাবিয়া যোগ দেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, আর ইরফান যোগ দেন এনভিডিয়ায়।
অল্প সময়ের মধ্যেই দুজনের পেশাগত অগ্রগতি ঘটে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে শক্তি খরচ কমানোর গবেষণার জন্য ফাবিয়া ২০২৫ সালে ফোর্বসের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ তালিকায় স্থান পান। অন্যদিকে, এনভিডিয়ায় জ্যেষ্ঠ তথ্যবিজ্ঞানী হিসেবে পদোন্নতি পান ইরফান। বেতন ও শেয়ারভিত্তিক সুবিধা মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় ছিল প্রায় পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার।
২০২৬ সালের ২২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে নিজেদের বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় ইরফানকে উদ্ধার করা হয়। ৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের বক্তব্য, ঘটনায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের এই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইরফানের পরিবার ও সমর্থকেরা। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদ ও নানা কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
গত আগস্টে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়েও ইরফানের মৃত্যু নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যরা।
আরটিভি/এসএইচএম


