ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সূর্যের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা উৎপন্ন করছে চীনের কৃত্রিম সূর্য!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২১, ১১:০৫ এএম
সংগৃহীত

চীনের নকল সূর্য আসল সূর্যকে টেক্কা দিচ্ছে। যেখানে সূর্যের কেন্দ্রের উষ্ণতা দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে চীনের এই কৃত্রিম সূর্য উৎপন্ন করেছে ১২ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস! যা সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার ৮ গুণ! তবে সেটা ১০১ সেকেন্ডের জন্য। তবে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও এই সাফল্য চমকে দিয়েছে সারা পৃথিবীর বিজ্ঞান‌ীদের। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

পৃথিবীর বুকে অবস্থানকারী এই সূর্য তাপমাত্রার দিক দিয়েও আসল সূর্যকে টপকে গেছে। সেটাও অল্প সময়ের জন্য। মাত্র ২০ সেকেন্ডের জন্য ১৬ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়েছে চীনের এই নকল সূর্য। যদিও আপাতত আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য এই ধরনের তাপমাত্রা উৎপন্ন করাই লক্ষ্য বিজ্ঞানীদের।

সূর্যের অভ্যন্তরে লাগাতার নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন থেকে উৎপন্ন হয় হিলিয়াম। এভাবেই উৎপন্ন হয় বিপুল তাপশক্তি। সেই পদ্ধতিকেই কাজে লাগিয়েই বাজিমাত করেছে চীনের এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাডভান্সড সুপারকনডাক্টিং টোকাম্যাক (ইস্ট) ফিউশন রিঅ্যাক্টর। গ্লোবাল টাইমস এই পরীক্ষাকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ উল্লেখ করে আরও সাফল্যের আশা ব্যক্ত করেছে।

তবে এই রিঅ্যাক্টরের কর্মকাণ্ড এখনও পরী- নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশা এক দশকের মধ্যেই নিজের পূর্ণ ক্ষমতা দেখাতে পারবে এই রিঅ্যাক্টর। সেটা নিশ্চিত করতেই প্রায় ৩০০ জন বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ার কাজ করে যাচ্ছে।

কিন্তু কেন এত বেশি তাপমাত্রা উৎপন্ন করতে চাইছে বিজ্ঞানীরা ? আসলে এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হচ্চে নিরবিচ্ছিন্ন শক্তিপ্রবাহ তৈরি করা। সমুদ্র থেকে পাওয়া ডয়টেরিয়ামের সাহায্যে সূর্যের মতোই নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটিয়েই সেই তাপপ্রবাহ তৈরি করতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়াও এমন প্রযুক্তির পরীক্ষা চালাচ্ছে। ২০২০ সালে তারা ২০ সেকেন্ডের জন্য ১০ কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রা উৎপন্ন করেছিল।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মহাকাশে যাত্রা করল বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ 
মহাকাশের পথে যাত্রা শুরু করেছে বিশ্বের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় মহাকাশ বিষয়ক টেলিস্কোপ জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডব্লিউএসটি)। মহাবিশ্বকে আলোকিত করা প্রথম নক্ষত্রপুঞ্জ আর ছায়াপথের খোঁজে শনিবার দক্ষিণ আমেরিকার ফ্রেঞ্চ গিনিতে অবস্থিত ‘ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ)’ কৌরো মহাকাশবন্দর থেকে টেলিস্কোপটির যাত্রা শুরু হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে নকশা করা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ১০০০ কোটি ডলার। চাঁদে অবতরণকারী মনুষ্যবাহী মহাকাশযান অ্যাপোলোর এক স্থপতির নাম অনুযায়ী জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের নামকরণ করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রকৌশলীরা আড়াই যুগের প্রচেষ্টায় শতগুণ বেশি শক্তিশালী নতুন এই পর্যবেক্ষক টেলিস্কোপ তৈরি করেছেন।  মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ব্যবস্থাপক বিল নেলসন বলেন, ‘জেমস ওয়েব বিস্ময়কর এক মিশন। আমরা যখন বড় স্বপ্ন দেখি তখন সেটি থেকে কতটা অর্জন করতে পারি তার উজ্জ্বল উদাহরণ এটি। আমরা জানতাম যে, প্রকল্পটি ঝুঁকিপূর্ণ হবে। কিন্তু বড় কিছু অর্জন করতে গেলে বড় ঝুঁকি নিতেই হবে।’ অপরদিকে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা মার্ক ম্যাক কারিন বলেন, এই টেলিস্কোপ মাইনাস ২৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অবস্থান করবে। শুধু তখনই এটি দৃষ্টিসীমার বাইরে যেখানে আমরা এই টেলিস্কোপকে কাজে লাগাতে চাই সেখানেই কাজ করবে। এবং তখনই কেবল এটি দূরবর্তী মহাবিশ্বের এবং অন্যান্য নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরতে থাকা গ্রহগুলোর সংবেদনশীল ছবি তুলতে সক্ষম হবে।  উল্লেখ্য, এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশে তার পরবর্তী ছয় মাসের প্রাথমিক কার্যক্রমের এক জটিল কর্মকাণ্ডের সূচনা হলো। পৃথিবী থেকে প্রায় দেড় মিলিয়ন কিলোমিটার দূরের এক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পথে টেলিস্কোপটি রাখা হচ্ছে। কক্ষপথের এই অবস্থানে ভ্রমণকালীন প্রজাপতির মতো ধীরে ধীরে মেলে ধরার এই প্রক্রিয়ায় সামান্য বিচ্যুতি ঘটলেই পুরো মিশন ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। সূত্র: বিবিসি, এএফপি। পি  
মহাকাশে যাত্রা করল বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ 
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে বিজ্ঞান মেলা 
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ভার্চুয়াল বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করেছে আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশন। শনিবার অনুষ্ঠিত এই মেলায় অংশ নিয়েছে আগামী পরিচালিত বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। মেলার এই বছরের নির্ধারিত থিম ছিল 'Celebrating Women in STEM'। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে সকাল ১১টায় শুরু হওয়া মেলাটি চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে মেলা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের ফেসবুক পেজ এবং আগামী ইনকর্পোরেটেড এর (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দক্ষ বিজ্ঞানীরা এই মেলার মূল্যায়নকারী হিসেবে অংশ নেন। আয়োজকেরা জানান, আগামী ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞান শিক্ষা উদ্যোগ ‘লাইফ ইজ ফান’ এর অধীনে বর্তমানে আটটি বিদ্যালয়ের প্রাথমিক স্তরের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় শেখানো হচ্ছে। প্রতিবছর এই বিজ্ঞান মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ এবং তাদের উৎসাহ প্রদান করা হয়। পি  
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে বিজ্ঞান মেলা 
রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
চলতি বছর রসায়নে বিশেষ অবদানের জন্য দুই বিজ্ঞানীকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। তারা হলেন জার্মান বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন লিস্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড ম্যাকমিলান। বুধবার (৬ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিস একাডেমি এই দুই নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, অপ্রতিসম অর্গানোক্যাটালাইসিস বা জৈব-অনুঘটন বিক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন এই দুই বিজ্ঞানী। তদের এটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। তাদের এই বিশেষ অবদানের জন্য ২০২১ সালের নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। পুরস্কারের ৮০ লাখ ক্রোনার (সুইডিশ মুদ্রা) তাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া হবে। তাদের আবিষ্কার ওষুধ গবেষণায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলেও জানায় নোবেল কমিটি।   সোমবার (৪ অক্টোবর) এ বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানে এবং মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বাকি বিভাগগুলোতে নোবেল পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সাহিত্যে, শুক্রবার শান্তিতে এবং অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার। ১৯০১ সাল থেকে নিয়মিত নোবেল পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। ১৮৯৫ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল যে পাঁচটি বিষয়ে নোবেল পুরস্কারের দলিল করে গিয়েছেন তারমধ্যে রসায়ন অন্যতম। এনএইচ
রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
মহাকাশে গেল চিংড়ি মাছ
মহাকাশে বসবাস করতে মানুষের মাঝে আগ্রহ ও কৌতূহল রয়েছে। বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের বিকাশে মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাই তো মহাকাশে আইসক্রিম, পাতিলেবু, চিংড়ি ও পিঁপড়ে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ২ হাজার ১৭০ কিলোগ্রাম ওজনেরও বেশি খাদ্য ও পিঁপড়ে মহাকাশে গেল। নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রোববার (২৯ আগস্ট) ভোর হওয়ার আগেই আইসক্রিম, পাতিলেবু, চিড়ড়ি ও পিঁপড়েসহ বহু জিনিসপত্র নিয়ে মহাকাশে রওনা হয়েছে ধনকুবের এলন মাস্কের সংস্থা ‘স্পেস-এক্স’ এর ‘ফ্যালকন’ রকেট। ভূপৃষ্ঠের ৩৭০ কিলোমিটার উপরে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে এসব জিনিসপত্র পৌঁছে দিতে রওনা হয়েছে। গত শনিবার ‘স্পেস-এক্স’ এর ‘ফ্যালকন’ রকেট রওনা হওয়ার কথা থাকলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে স্থগিত হয়ে যায়। স্পেস-এক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার ভোর হওয়ার আগেই ‘ড্রাগন’নামে ‘ফ্যালকন’রকেট রওনা হয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নিত্যপণ্য ও পিঁপড়া সোমবার পৌঁছে যাওয়ার কথা রয়েছে। এক দশকে নাসার পাঠানো জিনিসপত্র পৌঁছে দিতে এ পর্যন্ত ২৩ বার মহাকাশ স্টেশনে গেল স্পেস-এক্স এর শক্তিশালী রকেট। মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করা মহাকাশচারীদের জন্য আইসক্রিম, ফল আর নানা ধরনের খাবার পাঠানো হয়েছে। এবার নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার ছাড়াও মানুষ আকৃতি ‘রোবটিক আর্ম’ বা রোবট বাহু পাঠানো হয়েছে। মহাকাশে ভরশূন্য অবস্থায় এটি কতটা কার্যকর হয়, তা বুঝতেই জাপানের একটি সংস্থার বানানো বিশাল রোবট বাহুটিকে মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৪ দশক পর ২০২৪ সালে ‘আর্টেমিস’ অভিযানে মহাকাশচারীদের ফের চাঁদে নামাতে চলেছে নাসা। সেই অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে এই রোবট বাহুর ব্যাপক ব্যবহার হবে। চাঁদে সভ্যতার একটি স্থায়ী বেস বা আস্তানা গড়ে তুলতে ও খনিজ সম্পদের সন্ধান ও সংগ্রহে এই রোবট বাহুটিকে ব্যবহার করা হবে বলে জানায় নাসা। মহাকাশ স্টেশনে ভরশূন্য অবস্থায় পরীক্ষানিরীক্ষা করতে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ, পিঁপড়ে আর লবণাক্ত জলের চিংড়ি মাছ পাঠানো হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা এফএ
মহাকাশে গেল চিংড়ি মাছ
করোনায় বাবাকে হারিয়ে ছেলের অক্সিজেন জেনারেটর আবিষ্কার
চারদিকে অক্সিজেন এর অভাব নেই, শুধু বুক ভরে টেনে নিলেই হয়। কিন্তু বাতাসে থাকা সেই অক্সিজেনটুকু করোনা আক্রান্ত বাবা বুক ভরে নিতে পারছিলেন না। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাবাকে শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেননি। সেই কষ্ট থেকে নিজেই বাতাস থেকে অক্সিজেন তৈরির জেনারেটর উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহের মাহমুদ তারিফ। তার আবিষ্কৃত এই অক্সিজেন জেনারেটর প্ল্যান্ট আশা জাগিয়েছে পাবনাসহ পুরো দেশবাসীকে। তারিফের মা, তসলিমা খাতুন তারিফের এই উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে ছলছল চোখে বলেন, তারিফের সাফল্যে আমার বুকটা ভরে গেছে। যেটা বলে বোঝাতে পারব না। তার বাবার স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাচ্ছে আমার ছেলে। অক্সিজেনের অভাবে তার বাবাকে মারা যেতে দেখেছে সে।  ঈশ্বরদী শহরের কলেজ রোডে মশুড়িয়া পাড়া বকুলের মোড় এলাকার নিজ বাড়িতে বর্তমানে মা-ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করা তারিফ জানায়, গত বছরের ২ আগস্ট তার বাবা হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অক্সিজেনের অভাবে মানুষের শ্বাস নেওয়ার চেষ্টার যে যন্ত্রণা, তা সে সামনে থেকে দেখেছে। সেখান থেকেই অক্সিজেন জেনারেটর ও কনসেন্ট্রেটর উদ্ভাবন করার জন্য উঠে পড়ে লাগে সে। ঈশ্বরদী সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহের মাহমুদ তারিফ তার উদ্ভাবন সম্পর্কে বলেন, উদ্ভাবিত প্ল্যান্টে প্রথমে বাতাসকে একটি সিলিন্ডারে প্রবেশ করানো হয়। পরে বাতাস থেকে অন্যান্য উপাদান পৃথক করে বেছে নেওয়া হয় শুধু অক্সিজেনকে। ডায়নামো দিয়ে প্রথমে একটি সিলিন্ডারে বাতাস প্রবেশ করানো হয়। আর এ বাতাসে অক্সিজেন ছাড়াও অন্যান্য উপাদান থাকায় সেগুলো বের করার জন্য জিওলাইট ব্যবহার করা হয়। জিওলাইটের মাধ্যম বাতাস থেকে অক্সিজেন এক দিক দিয়ে এবং অন্যান্য উপাদানগুলো আরেক দিক দিয়ে বের করা হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়। কিশোর এ উদ্ভাবক জানায়, সাধারণত প্রতি মিনিটে ১০ থেকে ১৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করে এমন অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের দাম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি প্রতি মিনিটে ২৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম। এটি স্থানীয় উপকরণে তৈরি করলে খরচ পড়বে প্রায় ৬৫ হাজার টাকার মতো। সম্পূর্ণ স্থানীয় প্রযুক্তিতে এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ২৪ দিনের মতো। তবে সঠিক কারিগরি সহায়তা পেলে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায়ও এটি তৈরি করা সম্ভব। ইতোমধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ইনোভেশন টিমের বিশেষজ্ঞ টিম তারিফের উদ্ভাবন মেশিনটি দেখেছে। তারা কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। সেগুলো নিয়ে কাজও চলছে। এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিজের প্ল্যান্ট থেকে পরীক্ষামূলক অক্সিজেন তৈরি করে ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে তারিফ। তার এ প্ল্যান্টে প্রতি মিনিটে ২৫ লিটার অক্সিজেন উৎপাদন করা যাবে বলে দাবি করে তারিফ। ল্যাব টেস্টে উত্তীর্ণ হলে কোভিড আক্রান্ত রোগীর অক্সিজেন সরবরাহের সংকট অনেকাংশেই পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ ঈশ্বরদীবাসী আশায় বুক বেঁধেছে এ আবিষ্কার ল্যাব টেস্টে উত্তীর্ণ হয়ে করোনা রোগীদের প্রাণ বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখবে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সালেহ মুহাম্মদ আলী বলেন, যেহেতু একজন শিক্ষার্থী এটা তৈরি করেছে, তাই এর কিছু টেকনিক্যাল ত্রুটি রয়েছে। তবে এটা পরিচর্যা করলে উদ্যোগটি চমকপ্রদ হতে পারে। উদ্ভাবনটা চমৎকার, খুবই প্রশংসনীয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে অনেকেই এ জাতীয় উদ্ভাবনী যন্ত্র জমা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত শুধু তারিফের প্রকল্পই অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তার উদ্ভাবিত অক্সিজেন জেনারেটর ও কনসেন্ট্রেটর বাতাসের ২১ শতাংশ অক্সিজেনকে প্রক্রিয়াজাত করে ৯৮ শতাংশে রূপান্তর করে। এ যন্ত্র একটানা ৭ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম। ১০ মিনিটের বিরতিতে আবার টানা ৭ ঘণ্টা চলবে।  তারিফ তার নিজের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে এর নামকরণ করেছে ‘টিএলআর-সিভি ১৯’। অক্সিজেন লেভেল ৯০ থেকে ৯১-তে নেমে আসা কয়েকজনকে তার প্ল্যান্টের অক্সিজেন দিয়ে লেভেল ৯৮ থেকে ৯৯-তে ওঠানো সম্ভব হয়েছে। তার এ উদ্ভাবন ল্যাব টেস্টেও সফলতা আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারিফ। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, একদিন তারিফ তার শিক্ষকসহ এসে বিষয়টি জানালে আমি একটি প্ল্যান বাজেট দিতে বলি। প্রায় ৭০ ভাগ কাজ সম্পাদন করার পর আর্থিকভাবে সহযোগিতা করি। বর্তমানে এটির সরকারিভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারিফের মা তসলিমা খাতুন বলেন, একদিন তারিফ আমার কাছে ১৫ হাজার টাকা চায়। আমি বলি টাকা দিয়ে কী করবা? সে বলে, আমি একটা যন্ত্র আবিষ্কার করব। যেটা দিয়ে বাতাসের সাহায্যে অক্সিজেন উৎপাদন করা যায়। অনেক প্রচেষ্টার পর সে এটি তৈরি করেছে। আমার ছেলে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। পরিবার ও পাবনাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করবে বলে আমি আশা রাখি। সাঁড়া মারোয়ারী মডেল সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তারিফের মধ্যে প্রতিভা লক্ষ্য করতাম। আজ তার বাস্তব প্রমাণ পেলাম। তারিফের সাফল্যে শুধু স্কুল বা উপজেলা প্রশাসনই নয়, গোটা পাবনাবাসী আজ গর্বিত। বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে তাকে সার্বিক সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছি। পি  
করোনায় বাবাকে হারিয়ে ছেলের অক্সিজেন জেনারেটর আবিষ্কার
আরও পড়ুন
১২ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা
সূর্যের দেখা মিললেও কমেনি শীতের প্রকোপ
৫০ বছরের মধ্যে ডিসেম্বরে রেকর্ড বৃষ্টি, উঁকি দিচ্ছে সূর্য
চট্টগ্রামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, সূর্যের দেখা নেই