ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

হুইলচেয়ারে থাকা বেন্থাসের মহাকাশে ১০ মিনিট

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৩ পিএম
মিকেলা বেন্থাস ও তার সফরসঙ্গীরা। সংগৃহীত ছবি

স্বপ্নের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা মানুষকে কতটা উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জার্মান ইঞ্জিনিয়ার মিকেলা বেন্থাস। সম্প্রতি তিনি প্রথম হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী নভোচারী হিসেবে মহাকাশের প্রান্ত ছুঁয়ে পৃথিবীতে ফিরে এসে ইতিহাস গড়েছেন।

সাত বছর আগে এক মাউন্টেন বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া ৩৩ বছর বয়সী এই পক্ষাঘাতগ্রস্ত নভোচারী জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন’-এর রকেটে চড়ে এই অসাধ্য সাধন করেন। পশ্চিম টেক্সাস থেকে পাঁচজন সহযাত্রীর সঙ্গে শুরু হওয়া এই যাত্রায় তার সঙ্গী ছিলেন স্পেসএক্স-এর অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী হ্যান্স কোয়েনিগসম্যান, যিনি এই সফরের আয়োজনে বিশেষ সহায়তা করেছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার উঁচুতে নিউ শেপার্ড ক্যাপসুলে চড়ে যখন তিনি ওজনহীনতার অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন, তখন তার হুইলচেয়ারটি পড়ে ছিল পৃথিবীতে।

বেন্থাস জানান, মহাকাশযানের ভেতরে ওপরে ওঠার পুরো সময়টা তিনি হেসেই কাটিয়েছেন এবং সেখানে ওজনহীন অবস্থায় উল্টো হয়ে ঘোরার চেষ্টাও করেছিলেন।

আরও পড়ুন

এই ঐতিহাসিক ভ্রমণটি কেবল ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে প্রতিবন্ধকতা কখনো স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না। ব্লু অরিজিন এই ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের জন্য বেন্থাসের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী রকেটে বিশেষ ‘পেশেন্ট ট্রান্সফার বোর্ড’ যুক্ত করেছিল, যাতে তিনি সহজেই ক্যাপসুলের প্রবেশপথ থেকে নিজের সিট পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারেন।

অবতরণের পর মরুভূমির বুকে উদ্ধারকারী দল দ্রুত একটি কার্পেট বিছিয়ে দেয় যাতে তিনি সরাসরি তার হুইলচেয়ারটি ব্যবহার করতে পারেন।

এর আগে ২০২২ সালে প্যারাবোলিক প্লেনের মাধ্যমে ওজনহীনতার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা নেওয়া বেন্থাস ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। অবতরণের পর উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি বলেন, এটি ছিল তার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। তার এই লক্ষ্য কেবল নিজের জন্য নয়, বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মহাকাশ জয়ের পথকে আরও সহজ ও সুগম করে তোলা।

মিকেলা বেন্থাসের এই সফল অভিযান বিশ্বজুড়ে শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা কোটি মানুষের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বরফের নিচের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার পরই নিখোঁজ সাবমেরিন
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ আর বিজ্ঞানীদের কাছে অ্যান্টার্কটিকা এক পরম রহস্যের নাম। জলবায়ু পরিবর্তন আর বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে দক্ষিণ মেরুর বরফ যেভাবে গলছে, তা বুঝতে প্রতিবছরই সেখানে পাড়ি জমান গবেষকরা। কিন্তু এই বরফ সাম্রাজ্যের গভীরে লুকিয়ে আছে মারাত্মক বিপদ। সম্প্রতি গোটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনা ওয়াহলিন তার এক গবেষণায় এমন এক রহস্যময় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। খবর দ্য মিররের। পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার ডটসন আইস শেল্ফ মানচিত্রায়নের জন্য ‘রান’  নামের একটি চালকবিহীন সাবমেরিন পাঠিয়েছিলেন অধ্যাপক ওয়াহলিন। সমুদ্রের তলদেশের উষ্ণ স্রোত কীভাবে বরফকে নিচ থেকে গলিয়ে দিচ্ছে, তা খুঁজে বের করাই ছিল এর কাজ। ২০২২ সালের এক মিশনে টানা ২৭ দিন বরফের নিচে কাটিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছিল এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যানটি। রান-এর পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, বরফের নিচে তৈরি হয়েছে বিশাল মালভূমি আর গভীর সব গর্ত, যা মূলত সমুদ্রের নিচের বরফ গলার এক স্পষ্ট সংকেত। আরও পড়ুন হুইলচেয়ারে থাকা বেন্থাসের মহাকাশে ১০ মিনিট টানা ১৪টি সফল মিশনের পর আবারও যখন রান-কে বরফের নিচের গহীন অন্ধকারে পাঠানো হয়, তখনই ঘটে সেই রহস্যময় বিপত্তি। নির্ধারিত সময়ের ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও সাবমেরিনটি আর পানির উপরে ভেসে ওঠেনি। এমনকি কোনো ইলেকট্রনিক সিগন্যাল বা ধ্বংসাবশেষের চিহ্নও খুঁজে পায়নি অনুসন্ধানকারী দল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ১০ মাইল গভীর বরফের নিচে রান-এর এই চিরতরে হারিয়ে যাওয়াকে ‘ভয়াবহ এক শূন্যতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অধ্যাপক ওয়াহলিন। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি কোনো বিশাল হিমশৈলের সাথে ধাক্কা লেগে এটি হারিয়ে গেছে, তা আজও এক রহস্য। রানের আকস্মিক অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কেবল একটি সাবমেরিন হারানো নয়, এটি বড় এক বিপদের সংকেত দিচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব বনের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অ্যান্টার্কটিকার চারপাশের সমুদ্রস্রোতের গতি ও শক্তি ক্রমশ কমে আসছে। যেটি মূলত বিশ্বের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।  ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের গবেষক ড. বিশাখদত্ত গায়েন সতর্ক করে বলেছেন, পৃথিবীর এই ‘জলবায়ু ইঞ্জিন’ যদি ভেঙে পড়ে, তবে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া এবং ভয়াবহ উষ্ণায়ন শুরু হবে। মহাসাগরগুলোর কার্বন শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যার ফল হবে ভয়াবহ। আরটিভি/এআর 
বরফের নিচের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার পরই নিখোঁজ সাবমেরিন
বছরের দীর্ঘতম রাত আজ
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে আজ রবিবার (২১ ডিসেম্বর) উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে নেমে আসছে বছরের দীর্ঘতম রাত। একই সাথে আজকের দিনের দৈর্ঘ্য হবে বছরের সবচেয়ে কম। অন্যদিকে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে দেখা যাবে ঠিক বিপরীত চিত্র; সেখানে আজ বছরের দীর্ঘতম দিন এবং ক্ষুদ্রতম রাত। বিজ্ঞানের ভাষায় এই দিনটিকে বলা হয় ‘শীতকালীন অয়নান্ত’ বা ‘উইন্টার সলসটিস’। জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্যমতে, আজ সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থান করছে। পৃথিবী তার কক্ষপথে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকার কারণে এই বিশেষ দিনে উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে অবস্থান করে। ফলে উত্তর গোলার্ধে সূর্যালোক পৌঁছায় বেশ বাঁকাভাবে এবং খুব অল্প সময়ের জন্য। এই কারণেই উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। আরও পড়ুন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যত রহস্য ২১ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধে সূর্য দিগন্তের খুব নিচু দিয়ে উদিত হয় এবং দ্রুত অস্ত যায়। দিনের আলো কম থাকায় মনে হয় যেন সন্ধ্যা খুব তাড়াতাড়ি নেমে এসেছে। তবে এই দীর্ঘতম রাতের পর থেকেই পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ ধীরে ধীরে সূর্যের দিকে ঝুঁকতে শুরু করবে। ফলে আগামীকাল থেকেই দিন আবার বড় হতে থাকবে এবং রাতের দৈর্ঘ্য কমতে শুরু করবে। পৃথিবীর ঘূর্ণন ও ঋতু পরিবর্তনের এই চক্র আবহাওয়া ও জীববৈচিত্র্যের ওপর যেমন প্রভাব ফেলে, তেমনি প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সভ্যতায় দিনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। ইউরোপ থেকে শুরু করে এশিয়া ও আমেরিকা—সবখানেই ‘উইন্টার সলসটিস’ কেন্দ্র করে রয়েছে নানা উৎসব ও ধর্মীয় আচার।  কৃষিভিত্তিক প্রাচীন সমাজগুলো এই দিনের মাধ্যমেই শীতের কঠিন দিনগুলোর সমাপ্তি এবং নতুন ফসলি ঋতুর আগমনের সংকেত পেত। উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন পালন করা হয়, যাকে বলা হয় ‘সামার সলসটিস’। ঠিক ছয় মাস পরেই আসে আজকের এই দীর্ঘতম রাত। প্রকৃতির এই সুন্দর ভারসাম্য আমাদের পৃথিবীর ঋতুচক্র ও জীবনের গতিময়তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আরটিভি/এআর 
বছরের দীর্ঘতম রাত আজ
শিশুদের মস্তিষ্কে ঘটেচলা বিষয়গুলো জানতে চায় বিজ্ঞানীরা
শিশুদের শৈশবকালীন মস্তিষ্কের বিকাশের প্রক্রিয়া এবং তাদের ভবিষ্যতের সামাজিক ও অ্যাকাডেমিক সক্ষমতা নির্ধারণে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ‘দ্য চিলড্রেন অফ দ্য ৯০ জি’ নামক এক অনন্য ও অগ্রণী গবেষণা। এই প্রকল্পে মূলত ১৯৯০-এর দশকে অংশগ্রহণকারী মায়েদের সন্তানদের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। দুই বছর বয়সী হেনরি বা জ্যাকসনের মতো শিশুদের বিশেষ সেন্সরযুক্ত ‘ব্রেইন-স্ক্যানিং’ টুপি পরিয়ে আইপ্যাড গেম বা ধাঁধার মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্কের সক্ষমতা পরীক্ষা করছেন বিজ্ঞানীরা। প্রধান গবেষক ড. কার্লা হোম্বের মতে, এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের ‘ইনহিবিটরি কন্ট্রোল’ বা বাধা নিয়ন্ত্রণ এবং ‘ওয়ার্কিং মেমরি’র মতো মৌলিক দক্ষতাগুলো কখন এবং কীভাবে তৈরি হয় তা বোঝা। এই দক্ষতাগুলো শিশুদের কোনো কাজে ফোকাস করতে এবং নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা দেখছেন, একটি শিশু কতটা দ্রুত তার সিদ্ধান্ত গ্রহণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য মাথায় রাখতে পারে। এই দক্ষতাগুলোই পরবর্তী জীবনে তাদের পঠন ও সামাজিক আচরণের ভিত্তি বা ‘বিল্ডিং ব্লক’ হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু স্কুল জীবন শুরুর সময় শিখতে গিয়ে বা মনোযোগ দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়, সেই সমস্যা অনেক সময় তাদের যৌবনকাল পর্যন্ত চলতে পারে। তাই শিশুদের বিকাশের এই প্রাথমিক সময়কালকে সঠিকভাবে বোঝা জরুরি, যাতে প্রয়োজনের সময় তাদের সঠিক সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হয়। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত এমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে তাদের ক্রমবিকাশমান মস্তিষ্কের প্রকৃত চিত্র তৈরি করা হচ্ছে। আরও পড়ুন শিশুদের ৩০ মিনিটের বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলেই বিপদ! প্রকল্পটির একটি বিশেষত্ব হলো এটি একটি জীবনব্যাপী তথ্য সংগ্রহের অংশ। বর্তমানে অংশগ্রহণকারী ৩০০ শিশুর মায়েরা যখন নিজেরা শিশু ছিলেন, ১৯৯০-এর দশক থেকেই তাদের স্বাস্থ্য ও জেনেটিক্স মনিটর করা হচ্ছে। এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার শিশুদের বিকাশ এবং তাদের অভিভাবকদের স্বাস্থ্য ও অভিজ্ঞতার মধ্যকার গভীর যোগসূত্র উন্মোচন করতে সাহায্য করছে। এর আগে এই প্রকল্পের মাধ্যমেই জানা গিয়েছিল যে শিশুদের ডায়েটে তৈলাক্ত মাছের অভাব তাদের সামাজিক ও দয়ালু হওয়ার গুণাবলিকে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, গেমগুলো আপাতদৃষ্টিতে একঘেয়ে মনে হলেও প্রতিটাই সযত্নে ডিজাইন করা হয়েছে শিশুদের ভাষার বিকাশ এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি মূল্যায়ন করতে। ড. হোম্বে জানান, যখন বাচ্চারা স্কুলে যাওয়া শুরু করে, ততদিনে তাদের মধ্যে অনেক দক্ষতা ও অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। তাই শৈশবের এই মৌলিক ভিত্তি তৈরির কাজগুলো সঠিক সময়ে শিশুদের এগিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাহায্য করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এএইচ
শিশুদের মস্তিষ্কে ঘটেচলা বিষয়গুলো জানতে চায় বিজ্ঞানীরা
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যত রহস্য
ভারতের চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্যের পর চাঁদের রহস্যময় দক্ষিণ মেরু নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তুঙ্গে। যে অঞ্চলে মানুষের তৈরি কোনো যান আগে পৌঁছাতে পারেনি, সেখান থেকে প্রজ্ঞান রোভার একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য পাঠাচ্ছে। এই মেরু অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোও তাদের ভবিষ্যৎ মিশনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর প্রধান আকর্ষণ হলো এর চরম প্রতিকূল পরিবেশ এবং সেখানে বরফ আকারে পানির অস্তিত্বের সম্ভাবনা। ভারতের পাঠানো প্রজ্ঞান রোভারের সেন্সরগুলো চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার এক অদ্ভুত চিত্র তুলে ধরেছে। পৃষ্ঠের তাপমাত্রা যেখানে প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মাত্র ৩ ইঞ্চি গভীরে তা নেমে গেছে মাইনাস ১০ ডিগ্রিতে। এই বিশাল তাপমাত্রার পার্থক্য বিজ্ঞানীদের রীতিমতো অবাক করেছে। এর আগে নাসার পর্যবেক্ষণে উত্তর মেরুর একটি গর্তে মাইনাস ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা সৌরজগতের অন্যতম শীতলতম স্থান। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অসংখ্য গভীর গর্ত রয়েছে যেগুলোতে কোটি কোটি বছর ধরে সূর্যের আলো পৌঁছায়নি। এই ‘অনন্ত অন্ধকারের গর্ত’ বা চিরস্থায়ী ছায়াচ্ছন্ন এলাকায় প্রচুর পরিমাণে বরফ জমা থাকতে পারে বলে জোরালো ধারণা বিজ্ঞানীদের। আরও পড়ুন দিনের দৈর্ঘ্য হতে পারে ২৫ ঘণ্টা, গ্রহান্তরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! ২০০৯ সালে নাসার একটি পরীক্ষায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন টেলিস্কোপিক পর্যবেক্ষণে এই অঞ্চলে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি ও পানির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রজ্ঞান রোভারের রাসায়নিক বিশ্লেষণে চাঁদের মাটিতে সালফার, অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং টাইটানিয়ামের মতো মূল্যবান খনিজ উপাদানের উপস্থিতিও নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণার জন্য এই বরফ বা পানি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদি সেখান থেকে বড় আকারে বরফ সংগ্রহ করা যায়, তবে তা ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরি করা সম্ভব। এটি রকেটের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি চাঁদে মানুষের বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে পানীয় জল এবং অক্সিজেনের প্রধান উৎস হতে পারে। এর ফলে চাঁদকে মহাকাশ ভ্রমণের একটি ‘রিফুয়েলিং স্টেশন’ হিসেবে ব্যবহার করে সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান চালানো সহজ হবে। বর্তমানে চাঁদের দক্ষিণ মেরু দখলের এক অলিখিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আরটিভি/এএইচ
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যত রহস্য
পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা ভূগর্ভস্থ ‘দুবাই লুপ’
আগামী ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দুবাইয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ইলন মাস্কের বোরিং কোম্পানির উচ্চাভিলাষী ভূগর্ভস্থ পরিবহন প্রকল্প ‘দুবাই লুপ’। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব এই পরিবহন ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের নগর যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুবাই রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (আরটিএ) ও বোরিং কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই লুপ প্রকল্পটি প্রাথমিক ধাপে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এবং ১১টি স্টেশনের মাধ্যমে যাত্রীসেবা প্রদান করবে। অত্যাধুনিক এই টানেল ব্যবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় ২০ হাজারেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন, যা পরবর্তী সময়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দুবাই লুপ মূলত একটি উচ্চগতির ভূগর্ভস্থ টানেল ব্যবস্থা, যেখানে টেসলা ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো সরাসরি যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। প্রচলিত মেট্রো রেলের মতো প্রতিটি স্টেশনে থামার প্রয়োজন না থাকায় ভ্রমণ সময় যেমন কমবে, তেমনি যাত্রীরা পাবেন নিরবচ্ছিন্ন ও পরিচ্ছন্ন যাতায়াতের অভিজ্ঞতা। সর্বোচ্চ ১০০ মাইল বা ১৬০ কিলোমিটার গতিবেগে চলা এসব যানবাহন দুবাইয়ের প্রধান বাণিজ্যিক ও পর্যটন এলাকাগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। দুবাইয়ের ‘ক্লিন এনার্জি স্ট্রাটেজি ২০৫০’ এবং ‘আরবান মাস্টার প্ল্যান ২০৪০’-এর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই শূন্য-নির্গমন পরিবহন ব্যবস্থাটি গ্রহণ করা হয়েছে। আরও পড়ুন বজ্রপাত আটকাতে স্কুল ছাত্রদের কম খরচের যন্ত্র তৈরি  নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দুবাই লুপে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি টানেলে জরুরি নির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ২৪ ঘণ্টা কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে বোরিং কোম্পানির সফল ‘ভেগাস লুপ’ প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে দুবাইয়ে এই প্রযুক্তি আনা হচ্ছে, যা ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে। ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এই ভূগর্ভস্থ টানেলগুলো অত্যন্ত নিরাপদ থাকবে বলে দাবি করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৬ সালে চালুর পর এই প্রকল্পটি দুবাইকে আবারও বিশ্বের ভবিষ্যৎমুখী পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আরটিভি/এএইচ 
পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা ভূগর্ভস্থ ‘দুবাই লুপ’
আরও পড়ুন
হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী নারী যাচ্ছেন মহাকাশে
প্রথম বাংলাদেশী নারী মহাকাশচারী প্রার্থী সারাহ করিম
মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
মহাকাশ থেকে তোলা ছবিতেও আলোকিত পবিত্র কাবা