ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

আকাশে রকেট ওড়ার সময় কেন ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি

রকেট উৎক্ষেপণ মানেই এক শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত, যা সফল হলে মহাকাশ জয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়, আর ব্যর্থ হলে মুহূর্তেই তা খবরের শিরোনামে পরিণত হয়। গত কয়েক দশক ধরে মহাকাশ গবেষণায় রকেট উৎক্ষেপণের হার বাড়লেও আশ্চর্যজনকভাবে ব্যর্থতার কারণগুলোর মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি স্পেসএক্স-এর বিশাল রকেট ‘স্টারশিপ’-এর প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ এবং তার কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটা বিস্ফোরণ বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

যদিও স্পেসএক্স মনে করে, এই ধরণের দুর্ঘটনা কোনো ব্যর্থতা নয় বরং পরবর্তী মিশনের ত্রুটি সংশোধন করে শেখার একটি বড় সুযোগ।

মহাকাশ যানের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রকেট উৎক্ষেপণে দুর্ঘটনার সংখ্যা আসলে খুব বেশি নয়। ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে ১৮৬টি রকেট লঞ্চের মধ্যে মাত্র আটটি ব্যর্থ হয়েছে, অর্থাৎ ব্যর্থতার হার মাত্র ৪ শতাংশ।

তবে পরিসংখ্যানের এই নিচু হার সব সময় একই থাকে না। বিশেষ করে যখন কোনো নতুন মডেলের রকেট প্রথমবার উৎক্ষেপণ করা হয়, তখন ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি থাকে।

বিমা বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকদের মতে, একটি নতুন রকেট সিরিজের প্রথম বা দ্বিতীয় উৎক্ষেপণের সময় ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ১০টি সফল ফ্লাইটের পর এই ব্যর্থতার হার সাধারণত ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

রকেট দুর্ঘটনার কারণগুলো বেশ জটিল এবং সূক্ষ্ম।

আরও পড়ুন

প্রকৌশলীদের মতে, রকেটের ভেতরে থাকা অতি উচ্চচাপের উত্তপ্ত গ্যাস এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ সামলানো অত্যন্ত কঠিন। সামান্য ত্রুটির কারণে পুরো রকেটটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে মানুষবাহী মহাকাশ মিশনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয় বিধায় সেখানে ব্যর্থতার হার ২ শতাংশের নিচে।

মজার বিষয় হলো, ঐতিহাসিক তথ্যে দেখা গেছে রকেটের ষষ্ঠ ফ্লাইটে ব্যর্থ হওয়ার একটি বিশেষ প্রবণতা রয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পর নির্মাণকাজে কিছুটা একঘেয়েমি বা মান নিয়ন্ত্রণে শৈথিল্য চলে আসতে পারে, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে।

মহাকাশ দৌড়ের শুরুর দিকে ১৯৫০-এর দশকে রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থতার হার ছিল ৭০ শতাংশের বেশি। বর্তমানে উন্নত কম্পিউটার মডেলিং এবং কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার ফলে এই ঝুঁকি অনেকটা কমে এলেও প্রতিটি নতুন লঞ্চ সিস্টেম অজানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে সামনে দাঁড়ায়। রকেট ডিজাইনাররা প্রতিনিয়ত আরও উন্নত প্রযুক্তির সন্ধানে কাজ করেন বলেই প্রতিটি নতুন আবিষ্কারের শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।

মূলত অদম্য আকাঙ্ক্ষা আর বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই এই ব্যর্থতাগুলো জয় করে মানুষ পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে অজানাকে জানার পথে এগিয়ে চলেছে।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
রকেট বানিয়ে নাসায় অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৪ সেপ্টেম্বর
উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই চীনা রকেটের ভয়াবহ বিস্ফোরণ
রকেটের ধাক্কায় চাঁদে নতুন গর্ত, প্রকাশ পেল সংঘর্ষের ছবি
রকেট হামলায় ইরানে ২০ ভলিবল খেলোয়াড় নিহত