ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?

গবেষণায় এ বিষয়ে মিলেছে মিশ্র ফল। কিছু গবেষণায় কন্যাসন্তানের সঙ্গে বাবার দীর্ঘায়ুর ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেলেও, অন্য গবেষণায় এমন সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০০৬ সালে আমেরিকান জার্নাল অব হিউম্যান বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় পোল্যান্ডের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মানুষের সন্তানসংখ্যা ও আয়ুর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রতিটি কন্যাসন্তানের জন্মের সঙ্গে বাবার গড় আয়ু ৭৪ সপ্তাহ বেশি হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। তবে ছেলেসন্তানের সংখ্যার সঙ্গে বাবার আয়ুর উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

একই গবেষণায় ছেলে ও মেয়ে— উভয় ধরনের সন্তানের সংখ্যার সঙ্গে মায়ের আয়ু তুলনামূলক কম হওয়ার সম্পর্ক দেখা যায়। তবে এগুলো পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণার ফল। তাই কন্যাসন্তান জন্মের কারণেই বাবার আয়ু বাড়ে— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

২০১৭ সালে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত নরওয়ের একটি বৃহৎ গবেষণায় ৬ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মা এবং ৬ লাখ ৯১ হাজারের বেশি বাবার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি কিংবা হৃদ্‌রোগজনিত মৃত্যুঝুঁকির উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ২০১২ সালে চীন ও তাইওয়ানের প্রবীণদের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও সন্তান ছেলে না মেয়ে—তার ভিত্তিতে বাবা-মায়ের মৃত্যুঝুঁকি ধারাবাহিকভাবে কমার প্রমাণ মেলেনি। যদিও কিছু বিশ্লেষণে কন্যাসন্তানের সম্ভাব্য সুবিধার ইঙ্গিত ছিল।

সন্তানের লিঙ্গের পাশাপাশি বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক, মানসিক সমর্থন ও নিয়মিত যোগাযোগও বার্ধক্যে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ২০১৬ সালে চীনের প্রবীণদের নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায় কন্যাসন্তানের কাছ থেকে পাওয়া আবেগগত যত্নের সঙ্গে জ্ঞানীয় সক্ষমতা বজায় থাকা এবং মৃত্যুঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক দেখা যায়। তবে এই ফল নির্দিষ্ট সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপটের; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা সরাসরি প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, ধূমপান, রোগের নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সামাজিক সমর্থন মানসিক সুস্থতা এবং জীবনযাপনের মান উন্নত করতে পারে। তবে এসব সুবিধা শুধু কন্যাসন্তানের কাছ থেকেই আসে, এমন নয়।

‘মেয়ে সন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে’—এমন ধারণার পেছনে একটি গবেষণার ইতিবাচক ফল থাকলেও অন্য গবেষণায় তা সমর্থিত হয়নি। তাই এটিকে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য বলার সুযোগ নেই। কন্যাসন্তানের জন্ম বাবার আয়ু নির্দিষ্টসংখ্যক সপ্তাহ বা বছর বাড়িয়ে দেবে—এমন নিশ্চয়তাও বিজ্ঞান দেয় না।

দীর্ঘ জীবনের জন্য সুস্থ জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্কই গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের লিঙ্গ যা-ই হোক, ভালোবাসা, যত্ন ও পারস্পরিক সমর্থন জীবনের মান উন্নত করতে পারে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
নাসার নতুন গ্যালারিতে মহাকাশের ১৬ ‘গ্যালাকটিক রত্ন’
মহাকাশের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য তুলে ধরে নতুন একটি গ্যালারি প্রকাশ করেছে নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি। এতে বিভিন্ন টেলিস্কোপের তথ্য মিলিয়ে তৈরি ১৬টি গ্যালাক্সির ছবি রয়েছে।
নাসার নতুন গ্যালারিতে মহাকাশের ১৬ ‘গ্যালাকটিক রত্ন’
প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও কৃষিজ বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ কুকিজে রূপান্তরের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। নাসার নেতৃত্বে গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য খাদ্য তৈরির একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট মোকাবিলা ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকেরা নতুন এই খাবারের নাম দিয়েছেন ‘µBites’। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে রয়েছে ফেলে দেওয়া পিইটি (PET) প্লাস্টিক (সাধারণত পানীয় ও পানির বোতল তৈরিতে যে প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়)। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ভুট্টার ডাঁটা ও পাতার মতো কৃষিজ বর্জ্য। গবেষণা প্রক্রিয়ায় পানি ও অক্সিজেন ব্যবহার করে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের মাধ্যমে প্লাস্টিক ও উদ্ভিজ্জ বর্জ্যকে ভেঙে ক্ষুদ্র উপাদানে পরিণত করা হয়। পরে বিশেষভাবে প্রস্তুত অণুজীবের সাহায্যে এসব উপাদানকে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন অ্যাসিডে রূপান্তর করা হয়। আরও পড়ুন পৃথিবীতে মানুষের আগেও কি ছিল উন্নত সভ্যতা? যা বলছেন বিজ্ঞানীরা এরপর থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে ওই মিশ্রণকে কুকিজের আকার দেওয়া হয়। কুকিজের স্বাদ ও পুষ্টিমান বাড়াতে আলাদাভাবে তৈরি ইস্টও ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকদের তৈরি এক ধরনের ইস্ট উদ্ভিজ্জ বর্জ্য থেকে সরাসরি ভ্যানিলার স্বাদ তৈরি করতে পারে। অন্য একটি ইস্ট পিইটি প্লাস্টিকে থাকা ইথিলিন গ্লাইকোলকে বিটা-ক্যারোটিনে রূপান্তর করে। মানবদেহে বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়। গবেষক দল জানিয়েছে, ‘µBites’ খাওয়ার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাদ পরীক্ষার জন্য এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি। এর আগে পরিচালিত গন্ধ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সম্পদের সংকট রয়েছে— এমন পরিস্থিতিতে তারা এই কুকিজ খেতে রাজি। গবেষক লাহিরু জয়াকোডি জানান, ভবিষ্যতে কুকিজে স্টার্চ, ফাইবার ও মিষ্টিকারক উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এগুলো সাধারণ মানুষের খাওয়ার উপযোগী করে তোলার আশা করছেন তারা। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা শুধু মহাকাশ অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানবিক সংকটের সময় খাদ্যসংকট মোকাবিলা, সীমিত সম্পদের পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর ক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগতে পারে। বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে বর্জ্যকে পুষ্টিকর খাবারে রূপান্তরের এই প্রযুক্তিকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। তাদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষ যে বর্জ্য তৈরি করছে, অণুজীবের সাহায্যে সেটিকেই আবার খাদ্যের উপযোগী উপাদানে পরিণত করা সম্ভব হতে পারে। সূত্র: ফোর্বস আরটিভি/এমএইচজে
প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
আরও পড়ুন
উৎপাদন বাড়লেও পুষ্টিমান হারাচ্ছে ফসল, যা বলছে গবেষকরা
বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় রাবির ১৬ গবেষক 
হাবিপ্রবিতে ব্লাস্ট প্রতিরোধী ও চরাঞ্চল উপযোগী ধানের জাত উদ্ভাবনে নতুন সম্ভাবনা
চোখের সামনে যা দেখছি, সেটাই কি সত্য