ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বাতাস থেকেই জ্বালানি তৈরি হবে 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মাটির নিচে থাকা তেলের খনির ওপর নির্ভর না করে আমাদের চারপাশে থাকা বাতাস থেকেই তৈরি হবে জ্বালানি। শুনতে অবাক লাগলেও বৈপ্লবিক এই ভাবনা বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করছে জাপানের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনিওস করপোরেশন। ইতোমধ্যে নিজেদের ইয়োকোহামা ডেমোনস্ট্রেশন প্ল্যান্টে বাতাস থেকে সংগ্রহ করা কার্বন ডাই–অক্সাইড ও হাইড্রোজেন কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম জ্বালানিও তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এনিওস করপোরেশনের বিজ্ঞানীদের জ্বালানি তৈরির এই প্রক্রিয়ার মূলে রয়েছে একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী ধারণা। তারা মাটির নিচ থেকে নতুন কার্বন উত্তোলন না করে বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান কার্বন ব্যবহার করে জ্বালানি তৈরি করেছেন। এই প্রক্রিয়ার শুরুতে বাতাস বা শিল্পকারখানার নির্গমন থেকে কার্বন ডাই–অক্সাইড সংগ্রহ করা হয়।

বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়ায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় পানি ভেঙে হাইড্রোজেন তৈরি করেন। সবশেষে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বন ও হাইড্রোজেনকে তরল হাইড্রোকার্বনে রূপান্তরিত করা হয়। ফলাফল হিসেবে তখন পাওয়া যায় কৃত্রিম ডিজেল বা এভিয়েশন ফুয়েল (জেট জ্বালানি)। এই জ্বালানির গুণাগুণ প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির মতোই। ফলে গাড়ির ইঞ্জিন, পাইপলাইন বা অবকাঠামোতে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহার করা সম্ভব।

আরও পড়ুন

কৃত্রিম এই জ্বালানি এমন সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে, যা শুধু নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দিয়ে সম্ভব নয়। পরিবহনের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যানবাহন দ্রুত জনপ্রিয়তা পেলেও বিমান চলাচল, জাহাজ বা ভারী শিল্পের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিকরণ অত্যন্ত কঠিন। আর তাই তরল জ্বালানির চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জাপানের মতো দেশগুলোর জন্য কৃত্রিম জ্বালানি অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কারণ তাদের নিজস্ব কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পদ নেই এবং তারা পুরোপুরি জ্বালানি আমদানির নির্ভরশীল।

ইয়োকোহামা প্ল্যান্টে প্রতিদিন মাত্র এক ব্যারেল জ্বালানি তৈরি করা যায়। আর তাই ২০৪০ সালের মধ্যে দৈনিক ১০ হাজার ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন করা বেশ কঠিন। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে কৃত্রিম জ্বালানি প্রতিশ্রুতিশীল হলেও বর্তমান বাস্তবতায় এর উৎপাদন শিল্প পর্যায়ে পৌঁছাতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
সৌদি-কাতারের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বৈঠক
নতুন কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির
পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই জ্বালানি উন্নয়নে এডিবির ঋণ সহায়তা
বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর