ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশিদের ফেসবুকে হঠাৎ ‘মুন অ্যালার্ট’, ঘটনা কী? 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
প্রতীকী ছবি

ফেসবুক বা মেসেঞ্জার খুললেই হঠাৎ ভেসে উঠছে একটি অদ্ভুত নোটিফিকেশন— ‘Find a missing child in your area’ অর্থাৎ ‘আপনার এলাকায় নিখোঁজ শিশুকে খুঁজুন।’ নোটিফিকেশনটি দেখে কেউ অবাক হচ্ছেন, কেউ বা হয়ে উঠছেন চিন্তিত; কেউ আবার ভাবছেন—এটা নতুন কোনও স্ক্যাম নাকি ফিচার?

সম্প্রতি বাংলাদেশে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফোনে এ ধরনের নোটিফিকেশন দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে একটি নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা উদ্যোগ— মুন অ্যালার্ট (MUN Alert)।

মূলত, মুন অ্যালার্ট হলো শিশু নিখোঁজ হলে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার একটি ব্যবস্থা। এর মূল উদ্দেশ্য একটাই—নিখোঁজ শিশুর তথ্য যত দ্রুত সম্ভব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে খোঁজের কাজে সবাই অংশ নিতে পারেন। এই ব্যবস্থায় পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করে।

বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে এ বছরের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘মুন অ্যালার্ট’ চালু করা হয়েছে।

যেভাবে কাজ করে এই ‘মুন অ্যালার্ট’:

এই পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে চলে—

প্রথম ধাপ: তথ্য গ্রহণ। কোনও শিশু নিখোঁজ হলে পরিবার বা পরিচিতজন বিষয়টি পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট টিমকে জানায়।

দ্বিতীয় ধাপ: যাচাই। তথ্য যাচাই করে শিশুর ছবি, পরিচয় ও শেষ অবস্থান নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা তৈরি করা হয়।

তৃতীয় ধাপ: নোটিফিকেশন পাঠানো। এরপর এই তথ্য ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে পাঠানো হয়।

এই নোটিফিকেশনই ব্যবহারকারীরা ‘মুন অ্যালার্ট’ হিসেবে দেখেন।

অবশ্য, সবার কাছে এই নোটিফিকেশন যায় না। নিখোঁজ শিশুটি যে এলাকায় হারিয়েছে, সেই এলাকা এবং আশপাশের ব্যবহারকারীরাই এই অ্যালার্ট পান। অর্থাৎ, এটি একটি অবস্থানভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন

কেন এই ‘মুন অ্যালার্ট’ গুরুত্বপূর্ণ?

সাধারণভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও তথ্য ছড়াতে সময় লাগে—কে দেখবে, কে শেয়ার করবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কিন্তু, মুন অ্যালার্ট সরাসরি নোটিফিকেশন হিসেবে ফোনে আসে। ফলে তথ্য দ্রুত পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখোঁজ শিশু খোঁজার ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগে থেকেই এ ধরনের নিখোঁজ শিশু খোঁজার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে মুন অ্যালার্ট সেই ধরনের একটি উদ্যোগের স্থানীয় প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।

এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দিক হলো—এখানে শুধু পুলিশ নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেয়। কারণ, নোটিফিকেশন এমন অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, যারা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকেন এবং শিশুটিকে দেখে ফেলতে পারেন। তবে, এখনও এই ব্যবস্থায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে— সব এলাকায় এটি সমানভাবে কাজ করছে না; প্রশাসনিক সমন্বয় পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি; এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

মুন অ্যালার্ট শুধু একটি নোটিফিকেশন নয়। এটি প্রযুক্তি, প্রশাসন এবং মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা। ফেসবুকে যে ছোট্ট বার্তাটি আসে, সেটি অনেক সময় শুধু ডিজিটাল তথ্য নয়—বরং বাস্তব জীবনে কারও ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি করে দেয়। আর সেই কারণেই এই অ্যালার্ট এখন অনেকের কাছে শুধু একটি নোটিফিকেশন নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্কুলের তালা ভেঙে ভাড়া করা নারী নিয়ে রাতভর ‘অশ্লীল নৃত্য’, ভিডিও ভাইরাল
বরগুনার তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে কক্ষের তালা ভেঙে রাতভর অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে ফুটবল আয়োজন কমিটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকজুড়ে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্কুলের তালা ভেঙে ভাড়া করা নারী নিয়ে রাতভর ‘অশ্লীল নৃত্য’, ভিডিও ভাইরাল
পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বলে মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। পোশাকশিল্পে অস্থিরতা, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। কোনো মালিক কিংবা শ্রমিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো শ্রমিকই এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শীত মৌসুম সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা ধ্বংস করার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ পরিস্থিতিতে মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। আরটিভি/এমএম
পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
‘ডিসেম্বরকে টার্গেট করে আন্দোলনের অপচেষ্টা, উসকে দিচ্ছে জামায়াত-এনসিপি’
রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
‘ডিসেম্বরকে টার্গেট করে আন্দোলনের অপচেষ্টা, উসকে দিচ্ছে জামায়াত-এনসিপি’
সংবাদপত্র ছেঁড়ার যে ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খাঁন
‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।  তিনি বলেন, পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান তৈরির অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি সংবাদপত্র ছিঁড়েছেন। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তিনি এক হয়েছেন, এমন দাবি অসত্য বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিনগত রাতে নিজের নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন। আরটিভির পাঠকদের সুবিধার জন্য পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো: আমি একটি মিথ্যা ন্যারেটিভকে ছিঁড়েছি। হাসিনাপুত্রের সাথে আমি এক হয়েছি মর্মে আমার দেশ পত্রিকা যে মিথ্যাচার করেছে, আমি সেই অসত্যকে ছিঁড়ে ফেলেছি। আমি শেখ হাসিনাকে কটুক্তির মামলায় জেল খেটেছি। আমার কোন বক্তব্য অপছন্দ হলে, সেটিকে রাজনৈতিক ভাষায় সমালোচনা করতে পারে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। সেই সমালোচনাকে আমি অবশ্যই সাধুবাদ জানাব। কিন্তু আমার দেশ যদি একটি পত্রিকা হয়ে থাকে আমাকে ‘নব্য বিএনপি বলতে পারে না’। এই অধিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নেই। তিনি আমাকে বলতে পারেন না যে, আমি শেখ হাসিনার পুত্রের সাথে এক হয়েছি। অর্থাৎ আমি যেহেতু জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠকের তথ্য সামনে এনেছি। সেহেতু পাল্টা ন্যারেটিভ হিসেবে আমার দেশ পত্রিকা সামনে এনেছে, আমি হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে এক হয়েছি! এই অভিযোগ যদি জামায়াত কিংবা জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার করতেন, আমি রাজনৈতিক ভাষায় জবাব দিতাম। যেহেতু জামায়াত আমার দেশ পত্রিকার মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ন্যারেটিভ দাঁড় করাতে অপচেষ্টা করেছে। আমি একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হিসেবে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেছি, মিথ্যা ও অপবাদকে ছিঁড়ে ফেলেছি। আমার দেশ কোনো পত্রিকা না, আমি কোনো পত্রিকা ছেঁড়ার মতো ভুল করতে পারি না। এটা জামায়াতের পক্ষে ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর একটি হাতিয়ার। এই হাতিয়ার ব্যবহার করে কারও চরিত্র হনন করার কোনো সুযোগ নেই। পত্রিকা হতে হলে সম্পাদকীয় ও সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে চলা উচিত। আমার দেশ সেটির কোনোকিছু অনুসরণ করে না। আরটিভি/এসআর
সংবাদপত্র ছেঁড়ার যে ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খাঁন
লিফট ব্যবহারের অনুমতি নেই, মাথায় ব্লক নিয়ে ২১ তলা উঠলেন শ্রমিক
২১ তলা আবাসনে ওঠানামার জন্য রয়েছে চারটি লিফট। অথচ সেগুলোর একটিও ব্যবহারের অনুমতি নেই শ্রমিকদের। ফলে মাথায় প্রায় ২০ কেজি ওজনের কংক্রিটের ব্লক নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ২১ তলায় উঠতে হচ্ছে এক শ্রমিককে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আবাসন কর্তৃপক্ষের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
লিফট ব্যবহারের অনুমতি নেই, মাথায় ব্লক নিয়ে ২১ তলা উঠলেন শ্রমিক
আরও পড়ুন
ফেসবুক পোস্ট ঘিরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০
বন্ধ হতে যাচ্ছে ফেসবুকের পরিচিত ‘রিচ’ পদ্ধতি, আসছে ‘ভিউয়ারস’
ইশরাকের স্ত্রীর রহস্যজনক পোস্ট
ফেসবুকের ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ পাবেন না যারা