‘আম গাছ জাম গাছ কাঁঠাল গাছ লিচু গাছ, আজকালকার মেয়েরা সব চিটিংবাজ চিটিংবাজ’, ‘বন্ধু তুমি একা হলে আমায় দিও ডাক, তোমার সাথে গল্প করব আমি সারা রাত’ কিংবা ‘হা হা হা এটাই বাস্তব’ সংলাপগুলোর মাধ্যমে রাতারাতি আলোড়ন সৃষ্টি করা কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এবার নেত্রকোণার এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তবে পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজলেও বাড়ি ছেড়ে আগেই পালিয়েছেন ‘রিপন ভিডিও’ নামে খ্যাত এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের এ তথ্য জানান।
আসামি রিপন মিয়া (৩০) সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী (১৪) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে একা পেয়ে তিনি তাকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে স্থানীয় একটি বাজারে সালিশ বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রাম ছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়।
পরে ওই সালিশের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভিডিওটি নজরে আসার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। এরপর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে উত্ত্যক্তের বিষয় নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও রিপন তা আমলে নেননি। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান তিনি।
ভুক্তভোগীর মা জানান, তিনি বাড়িতে না থাকায় প্রথমে বিষয়টি জানতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার কথা শোনার পর মেয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানতে পারেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার দুপুরে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল থেকেই তিনি বাড়িতে নেই, খুব সম্ভবত পালিয়েছেন।
এ অভিযোগের বিষয়ে রিপন মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
রিপনের স্ত্রীর ভাষ্য, তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানেন না। তবে মানুষের মুখে মুখে বিষয়টি শুনেছেন। তার দাবি, অন্যায়ভাবে রিপনের ওপর ঘটনার দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই তাদের পারিবারিক যোগাযোগ ছিল।
এ বিষয়ে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ফেসবুকে যাত্রা শুরু করেন রিপন মিয়া। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সহজ-সরল উপস্থাপনা দিয়ে দর্শকপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে তার মালিকানাধীন ‘রিপন মিয়া’ ফেসবুক পেজে ১৯ লাখ ফলোয়ার রয়েছে।
আরটিভি/আইএম




