ভাসমান রেস্তোরাঁর দোকান, আবর্জনার ভাগাড়, টয়লেট- কী নেই ঢাকার ফুটপাতে! আর দলের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসা? সে তো অনেক পুরনো। ফুটপাতের এমন জঞ্জালের কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন ডানা ছাড়া উড়োজাহাজের মতো মুক্ত ফুটপাত ছাড়া নিরাপদ সড়ক কখনো সম্ভব নয়। যদিও ফুটপাতের এসব জঞ্জাল সরাতে মাঝে-মধ্যে উচ্ছেদের নামে লোক দেখানো অভিযান চলে।
রাজধানীর মগবাজার। ৩০ মিটার বা তার থেকে একটু বেশি দৈর্ঘ্যের ফুটপাতের এক মিটারেও ঠিকমতো চলাচলের উপায় নেই!
পথচারীরা বলেন, একবার উচ্ছেদ করে যায় আবার টাকা নিয়ে এদের দোকান করতে দেয়। নিয়ম করে যদি রাস্তাগুলো মেরামত করা যায় তাহলে হয়তো দুর্ঘটনা কমবে এবং হাটার সুন্দর জায়গা হবে।
একই এলাকার আরেকটি ফুটপাতে। কোথায় যে এর শুরু আর কোথায় শেষ বোঝা মুশকিল।
নিউমার্কেট নীলক্ষেত, গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, সদরঘাটের মতো এলাকায় ফুটপাত যে আছে তা-ই এখন অনেকে ভুলতে বসেছেন।
ময়লার ভাগাড় দোকান-পাটের পাশাপাশি ফুটপাত এখন গাড়ি রাখারও জায়গা! ঝামেলা এড়াতে, চালকও গাড়ি রেখে দূরে সরে থাকেন।
ভাসমান ব্যবসায়ীরা বলেন, লাইন ম্যান এসে বিশ টাকা করে নেয়। এরকম চার থেকে পাঁচজন আসে দিন শেষে পাঁচশত টাকার মতো দিতে হয় তাদের।
রাজনৈতিক ব্যবসার জন্যও ফুটপাত মন্দ নয়! অথচ সড়ককে নিরাপদ করতে ‘জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলে’র করা ১১১টির মধ্যে ১৮তম সুপারিশ ছিল ফুটপাতকে পথচারীদের জন্য মুক্ত রাখা। এবং তা গেলো ডিসেম্বরেই হওয়ার কথা ছিল।
নিরাপদ সড়কের জন্য যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তারাও এর সঙ্গে একমত। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে ফুটপাতকে কখনোই পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হচ্ছে না।
নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারপার্সন ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, রাজনীতির সত্য ইচ্ছার একটি বিষয় আছে। সরকারের যে সংস্থাগুলো আছে সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর জন্য তাদের অনেক সত্য ইচ্ছার অভাব রয়েছে। সেখানে দক্ষতা ও ইচ্ছার অভাব আছে।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ফুটপাত শুধু পথচারীদের চলাচলের জন্য। ছোট ছোট জায়গা বের করে সেখানে হকারের জায়গা তৈরি করতে হবে। ফুটপাতকে দখল মুক্ত রাখা একটি সচল নগরীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর আইন সংশোধন হলেও কর্তৃপক্ষের আপোষকামী মনোভাবের কারণে দেশবাসী এর সুফল পাচ্ছে না বলে আক্ষেপ করলেন তারা।
জিএম/এসএস




