টালমাটাল পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে আগামী অর্থবছরের (২০২২-২৩) বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা চাইলেন নিঃস্ব বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, বাজেটে একটি টেকসই সিদ্ধান্তই পারে পুঁজিবাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের মুনাফার ওপর ট্যাক্স ছাড় ও ভালোমানের শেয়ার বাজারে আনতে, করপোরেট কর কমানো জরুরি।
২০১০ সালের পতনের পর সরকারের নানা সিদ্ধান্ত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির একের পর এক পদক্ষেপ; কোনো উদ্যোগেই দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো যায়নি। অস্থিরতা যেন এ বাজারের নিত্য সঙ্গী। সকালে ভাল তো বিকেলে মন্দ। দুদিন ঊর্ধ্বমুখী তো চার দিন টানা পতন।
গেল বছরের অক্টোবরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ- ডিএসইর সূচকে আশার আলো দেখতে পান বিনিয়োগকারীরা। ১১ অক্টোবর সূচক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার পয়েন্টে (৭ হাজার ৪০০)। তবে সেটি স্থায়ী হয়নি বেশি দিন। চলতি বছরের ৮ মার্চ পর্যন্ত সূচক কমে এক হাজার পয়েন্টের বেশি। দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩৫০ পয়েন্টে। বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সূচক নেমেছে ৬ হাজার ৩০০ পয়েন্টের নিচে।
এক বিনিয়োগকারী বলেন, যাই কিনি তাই শেষ। এটা কী কোনো বাজার হলো? সারা বিশ্বে আর শেয়ারবাজার চলে না? ভারতে একদিন মার্কেট পতন হলে পরের দিন রিকভার করে দেয়। আমাদের এখানে শুধু পড়তেই থাকে।
আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, যেকোনো জায়গায় বিনিয়োগ করলে লাভ পাবেন। কিন্তু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে দুইদিন পড়ে এসে দেখবেন ৫-১০ শতাংশ নেই।
এমন বাস্তবতায় আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ প্রণোদনার পাশাপাশি ট্যাক্স ছাড়ের দাবি বিনিয়োগকারীদের। একই মত পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদেরও।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, এক মাসে ৩০ হাজার বিনিয়গকারী বিনিয়োগ করা বন্ধ করে দিয়েছে। মানে তারা সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। করমুক্ত আয়ের সীমা ৫০ হাজার টাকা আছে সেটা এক লাখ টাকা করে দিতে পারে সরকার।
এই অর্থনীতিবিদের মতে, পুঁজিবাজার উত্থানে জরুরি ভালো মানের শেয়ার। এর জন্য বাজারে টানতে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি। বাজেটে দিতে হবে সুবিধাও।
আবু আহমেদ বলেন, কোম্পানিগুলো ভালো ডিভিডেন্ট দিলে তাদেরকে একটা ভালো ইনসেনটিভ দিত। যা পরে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটাও পুনরায় চিন্তা করা যেতে পারে।
একটি টেকসই পুঁজিবাজার গঠনে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। ঘুরে দাঁড়াবে বাজার। এমন দিনের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা।




