অর্থনৈতিক এবং কর্মসংস্থানে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও পরিকল্পনা ও নীতি সহায়তার অভাবে এখনও পিছিয়ে আছে দেশের অটোমোবাইল শিল্প। নতুন প্রবৃদ্ধির চালক হিসেবে অটোমোবাইল খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের সিদ্ধান্তে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
নগরায়ণ, পরিবহন অবকাঠামোর উন্নতি এবং জীবনযাত্রার মান বাড়ার কারণে যানবাহনের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু ১৮ কোটি মানুষের দেশের চাহিদা এখনও মূলত আমদানির মাধ্যমেই পূরণ হয়। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান অটোমোবাইল ও লাইট ইঞ্জনিয়ারিং খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
অটোমোবাইল শিল্পের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এগিয়েছে। কিছু কোম্পানি মোটরসাইকেল, বাস ও ট্রাকের যন্ত্রাংশ আমদানি করে সংযোজন করছে, কিছু কোম্পানি নিজেরাই উৎপাদন করছে। তবে কাঁচামাল আমদানিসহ নানা খাতে সমস্যা রয়েছে বলে জানান তারা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন অটোমোবাইল ও লাইট ইঞ্জনিয়ারিং শিল্পে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারি উদ্যোগের দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
তিনি বলেন, নীতিনির্ধারক মহল এবং ব্যক্তি খাত যারা আমদানি করবে কিংবা স্পেয়ার পার্টসের ইন্ডাস্ট্রি করবে, এদের সাথে আলোচনাটা এক ধরনের অনুপস্থিত। অটোমোবাইল সেক্টর যে প্রবৃদ্ধির নতুন একটা খাত হতে পারে, এই উপলব্ধিতেও কিন্তু একটা ঘাটতি রয়েছে।
যথাযথ পরিকল্পনা ও নীতি সহায়তা দিলে অটোমোবাইল খাত হতে পারে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার বলছেন তিনি। জিল্লুর রহমান মতে, স্পেয়ার পার্টস সম্পর্কিত স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের যে জায়গা সেখানেও কিন্তু একটা বড় ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন কর্মসংস্থারেও সম্ভাবনা আছে।
ইলেক্ট্রিক গাড়ির ব্যবহার, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং টেকসই প্রযুক্তির প্রয়োগ এই খাতকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে পারে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আরটিভি/একে




