
২০০৯ সালের ১২ জুলাই, কলম্বোর পি সারা ওভালে ফাওয়াদ আলমের টেস্ট অভিষেক হয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ১৬ রানে এলবি ডব্লু হবার পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ৩৮৪ বলে ১৬৮ রানের লম্বা ইনিংস।
অভিষেকের বছরটায় খেলেছিলেন মোট ৩টা টেস্ট। ওই এক সেঞ্চুরি ছাড়া খেলতে পারেননি বলার মতো কোনো ইনিংস (১৬, ১৬, ২৯, ৫)। তাই প্রতিযোগিতামূলক পাকিস্তান টেস্ট দল থেকে বাদ পড়তে হয় তাকে।
এরপর আর গায়ে জড়ানো হয়নি জাতীয় দলের টেস্ট জার্সি। ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে গেছেন বছরের পর বছর। এই বছরের পর বছর সময়টা কমও নয়, প্রায় ১০ বছর!
অবশেষে ক্রিকেট ঈশ্বর মুখ তুলে চাইলো তার দিকে। চলতি বছর ইংল্যান্ড সফরের দলে সুযোগ আসে তার। সাউদাম্পটন টেস্টে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে সাজঘরে ফিরতে হয় শূন্য হাতে। এরপর সমর্থকেরা তাকে ট্রলে ভাসিয়েছেন ক্ষণে ক্ষণে।
পরের ম্যাচেও খেলার সুযোগ দেয়া হয় ফাওয়াদকে। প্রথম ইনিংসে ২১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে অপরাজিত থেকে ছাড়েন মাঠ। এমন পারফরম্যান্সের পর বলাই যায়, ফাওয়াদের জাতীয় দলের ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফরটা হয়ে যেতে পারতো অলিখিত অবসরের সফর।

বে ওভালে সেঞ্চুরির পর ফাওয়াদ আলম
কিন্তু না, ফাওয়াদকে সুযোগ দেয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ড সিরিজেও। এবার আর ব্যর্থ হননি, প্রমাণ করেছেন নিজের যোগ্যতা।
বে ওভালে সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলার সুযোগ পেয়ে প্রথম ইনিংস ৯ রানে ফেরার পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন শতরানের ইনিংস।
কিউই পেসারদের পেস, বাউন্সে যখন টালমাটাল পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইন-আপ, তখনই অভিজ্ঞতার পসরা সাজিয়ে বসেন ৩৫ বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
অভিষেকটা ওপেনার হিসেবে শতরানের ইনিংস খেললেও এই ম্যাচটায় শতক হাঁকিয়েছেন পাঁচ নম্বরে ব্যাট করে। মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে ১৬৫ রানের জুটি গড়ে খেলেছেন ১০২ (২৬৯) রানের ইনিংস।
ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় শতক হাঁকাতে ফাওয়াদ আলমকে ধৈর্য ধরতে হয়েছে ৪ হাজার ২১৫ দিন।
এমআর/




