শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিতে বায়ার্ন মিউনিখ

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৩৫ এএম


শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিতে বায়ার্ন মিউনিখ
রিয়ালের বিপক্ষে গোল করলেন হ্যারি কেইন। ছবি: সংগৃহীত

লা লিগায় নিজেদের হারিয়ে খুঁজলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে নকআউট পর্বে একের পর এক বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোর বিপক্ষে লড়াই করতে হয়েছে তাদের। ম্যানসিটির মতো দলকে হারাতে পারলেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে পরাস্ত হয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।

যার মূল কারণ গোলকিপার, থিবো কর্তোয়ার ইনজুরি পড়ায় লুনিন দলকে সেরা দিতে পারেননি। বায়ার্নের মাঠে বার বার কামব্যাক করলেও হতাশ করেছে লুনিন। তাই শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে জার্মান ক্লাবটি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৪-৩ গোলে জিতেছে তারা। প্রথম দেখায় ২-১ ব্যবধানে জয়ী বায়ার্ন দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতায় এগিয়ে গেল।

এদিনের ম্যাচের শুরুর মিনিট থেকে গোল করে রিয়াল। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে যার শুরুটা করেন আর্দা গিলের। ম্যাচের ঘড়িতে সময় তখন ৩৫ সেকেন্ড! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন তুর্কি মিডফিল্ডার। পরে আরেকটি দারুণ গোল করেন তিনি। 

আরও পড়ুন

ওই ধাক্কা সামলে নিতে অবশ্য একদমই দেরি করেনি বায়ার্ন। পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা টেনে, দুই লেগ মিলিয়ে আবার এগিয়ে যায় তারা। জসুয়া কিমিখের কর্নারে একেবারে গোলমুখে হেডে গোলটি করেন পাভলোভিচ। আয়ত্ত্বের মধ্যে হলেও, উড়ে আসা বলের গতি বুঝতে পারেননি রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন।

দুর্দান্ত গোলে দলকে আবার ম্যাচে এগিয়ে নেন গিলের। ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রেয়াল এবং অসাধারণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ‘তুরস্কের মেসি।’ নয়ার ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।

৩৭তম মিনিটে লুনিন আরেকটি দারুণ সেভ করলেও, পরের মিনিটে ফের গোল হজম করে রিয়াল। উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে মৌসুমে গোলের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কেইন।

তিন মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, বাধা পায় ক্রসবারে। অবশ্য পরের মিনিটেই দলকে আবার এগিয়ে নেন এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান তারকার পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্লেসিং শটে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা টানেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

Screenshot_2026-04-16_083454

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক শুরু করে বায়ার্ন। প্রথম আট মিনিটের প্রায় পুরোটাই খেলা হয় রেয়ালের অর্ধে। এরপর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে প্রথম কর্নার পায় সফরকারীরা। ওই কর্নারের পর, সতীর্থের ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে ভলি করেন এমবাপে, দারুণ ক্ষীপ্রতায় সেটা আটকে দেন নয়ার।

একটু পর রক্ষণের দুর্বলতায় বিপদে পড়তে যাচ্ছিল রেয়াল। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান লুইস দিয়াস, তবে শট নিতে একটা মুহূর্ত দেরি করেন তিনি, পেছন থেকে বল কেড়ে নেন ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ড।

৬৮তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন ওলিসে, কোনোমতে এক হাত দিয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান লুনিন। একটু পর পাল্টা আক্রমণে এমবাপের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেলেও, সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিউস।

নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রেয়াল। ৬৮তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের বদলি নামার ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। আর আট মিনিট পর কেইনকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি মিডফিল্ডার।

এরপরই রিয়ালের সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ৮৯তম মিনিটে দিয়াসের জোরাল শটে বল একজনের পা ছুঁয়ে একটু দিক পাল্টে জালে জড়ায়, দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।

আর চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ওলিসের গোলে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের সব আশা শেষ হয়ে যায়। একটু পরই বাজে শেষের বাঁশি। উল্লাসে ফেটে পড়ে বায়ার্ন শিবির। আর হতাশায় নুইয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শিরোপাধারী পিএসজির মুখোমুখি হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission