ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ইংল্যান্ডকে হারাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের যত কাণ্ড, কেইনের নাম ‘বরফবন্দি’

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ এএম
হ্যারি কেইন। ছবি: সংগৃহীত

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে বইছে উত্তেজনার হাওয়া। তবে শুধু খেলোয়াড়রাই নন, জয়ের আশায় অভিনব সব রীতি পালন করছেন সমর্থকরাও। কারও হাতে কাগজ-কলম, আবার কারও গন্তব্য ফ্রিজার। লক্ষ্য একটাই ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে ‘বরফবন্দি’ করে দলের জয় কামনা।

বুয়েনস আইরেসের বিভিন্ন এলাকায় অনেক সমর্থক কেইনের নাম কাগজে লিখে ফ্রিজারের বরফে রেখে দিচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, এতে প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় তারকার প্রভাব কমে যাবে। শুধু কেইনই নন, কেউ কেউ গোলরক্ষক কিংবা জুড বেলিংহামের নামও একইভাবে ফ্রিজারে রেখে দিচ্ছেন।

আর্জেন্টিনায় এই বিশ্বাসের নাম ‘কাবালা’। বহু বছর ধরে চলে আসা এই ফুটবল সংস্কৃতিতে সমর্থকদের ধারণা, নির্দিষ্ট কিছু রীতি মেনে চললে দলের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। তাই বড় ম্যাচের আগে তারা কোনোভাবেই নিজেদের অভ্যাস বদলাতে চান না।

কেউ প্রতিপক্ষের নাম উচ্চারণ করেন না, কেউ প্রতিটি ম্যাচে একই জার্সি পরেন এমনকি সেটি ধোয়া না হলেও। আবার কেউ একই আসনে বসে খেলা দেখেন কিংবা প্রতিবার একই খাবার খেয়ে ম্যাচ উপভোগ করেন। তাদের বিশ্বাস, রুটিনে পরিবর্তন আনলেই দলের জন্য অশুভ কিছু ঘটতে পারে।

১৩ বছর বয়সী সমর্থক ইনেস মুত্রি বলেন, আমাদের বন্ধুদের একটি রীতি আছে। আমরা প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় তারকা ও গোলরক্ষকের নাম একই কাগজে লিখে ফ্রিজারে রেখে দিই। এবার আমরা কেইনের নাম রাখব, কারণ সে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

ফুটবল যেখানে আর্জেন্টিনায় ধর্মের মতো আবেগের বিষয়, সেখানে এমন কুসংস্কার অনেক সমর্থকের কাছে মানসিক স্বস্তির উৎস। ম্যাচের ফল তাদের হাতে না থাকলেও এসব রীতির মাধ্যমে তারা দলের সাফল্যে নিজেদেরও এক ধরনের ভূমিকা আছে বলে বিশ্বাস করেন।

এই ‘কাবালা’-র ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ কার্লোস বিলার্দো নানা ধরনের কুসংস্কারের জন্য পরিচিত ছিলেন। মাঠে নামার সময় খেলোয়াড়রা কোন ক্রমে প্রবেশ করবেন, সেটিও তিনি নির্ধারণ করে দিতেন। বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনিও প্রতিবার ডান পা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং এরপর ক্রুশচিহ্ন আঁকেন।

আরও পড়ুন

প্রযুক্তির যুগে এই বিশ্বাসও পেয়েছে নতুন মাত্রা। এবারের বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এমন অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বরফের বিশাল খণ্ডে আটকে থাকতে দেখা যায়। বাস্তবেও সেই ভাবনার প্রতিফলন ঘটছে ফ্রিজারে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের নাম ‘বরফবন্দি’ করে রাখার রীতিতে।

জয়-পরাজয়ের ফয়সালা হবে মাঠেই। তবে ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এই ব্যতিক্রমী ‘কাবালা’ আবারও ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এআই দিয়ে সৌরভের বায়োপিকের পোস্টার তৈরি, যা বললেন রাজকুমার
ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর বায়োপিক ‘দাদা দ্য সৌরভ গাঙ্গুলি স্টোরি’-র প্রথম পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছিল সমালোচনা। পোস্টারটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এবং যত্নসহকারে করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন নেটিজেনদের একাংশ।  এবার সেই বিতর্ক ও সমালোচনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করা বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও। তার মতে, এই ঘটনা থেকে বড় শিক্ষা নিয়েছেন ছবির নির্মাতারা। চলতি বছরের ৮ জুলাই সৌরভের জন্মদিনে প্রকাশ্যে আসে ছবিটির প্রথম পোস্টার।  সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই বিতর্ক প্রসঙ্গে রাজকুমার রাও বলেন, যারা পোস্টারটি তৈরি করেছিলেন, তারা বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন এবং শিক্ষা নিয়েছেন। তারা বুঝেছেন যে কোনো কাজ নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে করা প্রয়োজন। এত তাড়াহুড়োর কিছু নেই। আমার মনে হয়, পুরো দলই এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে। এর পাশাপাশি তারা এটাও বুঝতে পেরেছেন দাদার অনুরাগীর সংখ্যা অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। প্রকাশ্যে আসা পোস্টারটিতে সৌরভের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত পুনর্নির্মাণ করেছিলেন রাজকুমার। ২০০২ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর উড়ন্ত জার্সি হাতে ভারতীয় দলের তৎকালীন অধিনায়কের সেই ঐতিহাসিক উদযাপনের দৃশ্যটিই স্থান পেয়েছিল পোস্টারে।  বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে পরিচালিত এই বায়োপিকে সৌরভের শুরুর দিন থেকে শুরু করে ভারতীয় দলের প্রভাবশালী ক্রিকেটার ও সফল অধিনায়ক হয়ে ওঠার গল্প ফুটিয়ে তোলা হবে। ছবিতে সৌরভের স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তান্যা মানিকতলা। ছবিটি আগামী বছরের ১৪ মে বায়োপিকোটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। আরটিভি/এসআর ‎  
এআই দিয়ে সৌরভের বায়োপিকের পোস্টার তৈরি, যা বললেন রাজকুমার
ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় ১২ বছরের কারাদণ্ড পেতে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা!
ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসাকর্মীদের সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।  বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আদালতে সমাপনী বক্তব্যে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার চিকিৎসায় যুক্ত দলটির বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা তাকে কার্যত অসহায় ফেলে রেখেছিল। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের এই তারকা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জেরে অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর বুয়েনস এইরেসের উপকণ্ঠে তিগ্রে এলাকায় ভাড়া বাড়িতে মারা যান।  হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তীব্র পালমোনারি এডিমায় (ফুসফুসে তরল জমার একটি অবস্থায়) তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬০ বছর। ম্যারাডোনার চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন তার প্রধান চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী ও নার্সরা। মৃত্যুর আগে তাকে যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যা দিতে গুরুতর ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সমাপনী বক্তব্যে কৌঁসুলি পাত্রিসিও ফেরাই বলেন, অভিযুক্তদের বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা অসুস্থ ম্যারাডোনাকে অসহায় পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিল, তাকে তার ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল’। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতির পরিপন্থী কাজ করেছেন এবং যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, সেগুলোও নেননি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘দোলো ইভেনচুয়াল’ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনি পরিভাষাটির অর্থ, কোনো ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ডে ক্ষতি হতে পারে জেনেও সেটি চালিয়ে যান। রাষ্ট্রপক্ষ ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোলদো লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছে। অন্য চিকিৎসাকর্মীদের জন্য চার থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, একজন নার্স এবং কয়েকজন সমন্বয়কারী। অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, ম্যারাডোনার মৃত্যু আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল না এবং তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রত্যেকেই আবার ম্যারাডোনার চিকিৎসায় ব্যক্তিগত দায় এড়িয়ে গেছেন। আরটিভি/এসআর ‎  
ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় ১২ বছরের কারাদণ্ড পেতে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা!
ফুলহামের বর্ষসেরা একাডেমি খেলোয়াড় বাংলাদেশের ফারহান
গত মাসে ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষেক করেছেন ফারহান আলী ওয়াহিদ। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তিনি নিজের প্রথম গোলও করেছিলেন। এবার ফুলহামের বর্ষসেরা একাডেমি খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এই ইংলিশ ফুটবলার। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় ফারহানের। ২০১৯ সাল থেকে ফুলহামের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় জনি হেইনেসের নামে বর্ষসেরা একাডেমি খেলোয়াড়দের পুরষ্কৃত করছে ক্লাবটি। ফুলহামের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের সম্মিলিত ভোটাভুটির মাধ্যমে একাডেমি থেকে উঠে আসা ফুটবলারকে ‘জনি হেইনেস ট্রফি’ দেওয়া হয়।  ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহাম জানিয়েছে, ক্লাব আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছে, ফারহান আলী ওয়াহিদ ২০২৬ জনি হেইনেস ট্রফি বিজয়ী।’  নিজের অনুভূতি জানিয়ে বাংলাদেশের এই ফুটবলার বলেন, এ পুরস্কারের জন্য সতীর্থদের ভোট পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার, অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি। সতীর্থদের ছাড়া আমি এটি অর্জন করতে পারতাম না। তারাই মানদণ্ড ঠিক করে দেয়, অনুপ্রেরণা জোগায় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে, যা আমাকে ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। অতীতে যারা এই ট্রফি জিতেছে, তাদের নামের তালিকায় তাকালে বোঝা যায় এটি কত বিশেষ এক অর্জন। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু নিয়েও উচ্ছ্বসিত ফারহান। তার ভাষ্য, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য সত্যিই দারুণ এক ব্যাপার ছিল। এটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত এবং দলের হয়ে একটি গোল করতে পেরে আমি আনন্দিত।  তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের সামনে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গোল করেছি, আর স্টেডিয়ামের পরিবেশ এই অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ অন্য রকম এক উচ্চতায় নিয়ে যায়। উল্লেখ্য, ফারহারের শিকড়টা বাংলাদেশের সিলেটে প্রোথিত। যদিও তার বাবা-মা দুজনেরই জন্ম যুক্তরাজ্যে। ফারহানেরও সেখানেই জন্ম, ২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর। চেলসির একাডেমিতে ফুটবলের প্রাথমিক পাঠ সেরে তিনি ২০১৯ সালে ফুলহামে পাড়ি জমান।  ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল ফারহানের। একইসঙ্গে বাংলাদেশও তাকে জাতীয় দলে টানার প্রক্রিয়া শুরু করে গত মে মাসে। তিনি বেছে নেন নাড়ি পোতা লাল-সবুজের দেশকে। আরটিভি/এসআর ‎  
ফুলহামের বর্ষসেরা একাডেমি খেলোয়াড় বাংলাদেশের ফারহান
অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ উইকেটে হেরে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের
ব্যর্থতার বৃত্তে আটকা পড়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও নিজের সেরাটা দিতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ডেভিড হ্যাম্পের অধীন প্রথম ম্যাচে অজিদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে মাত্র ১৬৬ রানেই গুটিয়ে গেছে টাইগ্রেসরা। জবাব দিতে নেমে ফোবি লিচফিল্ডের ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে ১৪৬ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে ৭ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই বিদায় নেন ওপেনার ফারজানা হক। মেগান শুটের বলে ফোবে লিচফিল্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।  একই বোলারের শিকারে পরিণত হয়ে ৭ বল খেলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার শারমিন সুলতানা। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ে শুরুতেই যেন আরেকটি ব্যাটিং ব্যর্থতার আভাস মিলছিল।  তবে তৃতীয় উইকেটে শারমিন আক্তার ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার খানিক চেষ্টা চালান। ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ২৬ বলে ২৪ রান আসে শারমিনের ব্যাট থেকে। এরপর চতুর্থ উইকেটে জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি জুটির মন্থর ব্যাটিংয়ে উইকেটের পতন ঠেকানো গেলেও স্কোরবোর্ডে রান বাড়েনি তেমন।  ১৭ বলে মাত্র ২ রান করে সাদারল্যান্ডের দ্বিতীয় শিকার হন সোবহানা। টেস্ট মেজাজে ব্যাটিংয়ে ৮৬ বল খরচায় ২৯ রান করেন জ্যোতি। ২৭.৬ ওভারে অ্যাশলি গার্ডনারের বলে বেথ মুনির হাতে ক্যাচ দিয়ে তাকে ফিরতে হয়। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৮৩ রান। নিগারের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন স্বর্ণা আক্তার। রিতু মনির সঙ্গে জুটি বেঁধে তারা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই ব্যাটার যোগ করেন ২০ রান। ৫০ বলে ১টি চারে ২১ রান করে জর্জিয়া ওয়ারহ্যামের বলে এলবিডব্লিউ হন স্বর্ণা।  শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা চালান রিতু মনি। তার ব্যাটে ভর করেই দলীয় দেড়শো রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। ৬৩ বলের ইনিংসে ৫টি চারের মারে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন তিনি। এতে ১৬৬ রানের লড়াকু পুঁজি পায় জ্যোতিরা। ‎‎‎১৬৭ রানের ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্মক সূচনা করেন দুই অজি ওপেনার জর্জিয়া ভোল ও লিচফিল্ড। শুরু থেকেই দারুণ বল করতে থাকেন অভিষিক্ত হাবিবা ইসলাম। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে এসে সেই পুরষ্কার পান তিনি। তার দারুণ একটি বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগ অঞ্চলে শারমিন আক্তার সুপ্তার হাতে ক্যাচ দেন ভোল। ভোল আউট হবার পর ঝড় তোলেন লিচফিল্ড। ‎এলিসা পেরিকে সাথে নিয়ে ৮৯ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন লিচফিল্ড। মাত্র ৩৪ বল খেলেই তিনি তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির থাকা এই ব্যাটারকে থামান রাবেয়া খান। রাবেয়াকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শর্ট কাভার অঞ্চলে রিতু মনির ক্যাচে পরিণত হন লিচফিল্ড। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৭ বলে ১ ছক্কা ও ১০ চারে ৭৭ রান করেন তিনি।  লিচফিল্ড আউট হবার পর বাকি পথটা সহজেই পার করে দেন পেরি। শেষ দিকে হাবিবা বেথ মানির উইকেট তুলে নিলেই সহজ জয় নিশ্চিত করে অজিরা। ১৪৬ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। আরটিভি/এসআর ‎  
অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ উইকেটে হেরে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে টস জিতেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো টেস্টে আফগানিস্তানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রহমত শাহ। টেস্টে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান লড়াইয়ের হিসাব সমান। দুই দলের দুইবারের মুখোমুখিতে জয় একটি করে। এবার সেই সমতা ভাঙার পালা। বাংলাদেশ একাদশ: সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদি হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন। আফগানিস্তান একাদশ: আবদুল মালিক, সেদিকউল্লাহ অটল, রহমত শাহ (অধিনায়ক), হাশমতউল্লাহ শহীদি, ইকরাম আলিখিল (উইকেটরক্ষক), জিয়া-উর-রেহমান, শহিদুল্লাহ কামাল, ইয়ামিন আহমদজাই, কাইস আহমদ, মোহাম্মদ সেলিম সাফি ও ইসমাত আলম। দুই দলের প্রথম টেস্ট হয়েছিল ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে। সেবার বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল আফগানিস্তান। ২০২৩ সালে ঢাকায় ফিরতি টেস্টে অবশ্য আফগানদের ওপর আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জিতেছিল ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। আরটিভি/টিআর
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর ফিফাকে চ্যালেঞ্জ বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্টের
২১ বছরে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির যত রেকর্ড
বিশ্বকাপ ফাইনালে হার নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মেসি
বিদায়ী ম্যাচে মেসিকে যেসব উপহার দিল বেনিন