ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

লাতিন ফুটবলের প্রতি অন্ধ বাংলাদেশিরা, কতটুকু প্রেম পাবেন হামজারা?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
টিএসসিতে বাংলাদেশিদের ফুটবল উন্মাদনা। ছবি: এএফপি

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন এবং রানার্স আপ আর্জেন্টিনা। ট্রফি ছাড়াও বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছে দুই দলই। ফাইনালিস্ট ছাড়াও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাকি ৪৬টি দলই ফিফা থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। বিশ্বফুটবলের এই উন্মদনায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ফিফা।

প্রাথমিকভাবে ফিফা ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও টুর্নামেন্ট শেষে তাদের মোট আয় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (প্রায় ১.৮৪৫ লক্ষ কোটি টাকা) গিয়ে পৌঁছেছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের (৭.৫ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় এই আয় প্রায় দ্বিগুণ।

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে এতকিছু অর্জনের মধ্যে বেশকিছু দুঃসংবাদও রয়েছে। ৪৮ দল মাঠের লড়াইয়ে অংশ নিলেও বিশ্বকাপ জ্বর ভর করেছিল পুরো পৃথিবীর উপর। তাই এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ কেঁড়ে নিয়ে বেশকিছু মানুষের জীবন।

সেই তালিকায় সবার উপরের রয়েছে বাংলাদেশের নাম। বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার আসা নিহতের খবরের তথ্য অনুসারে এবারের বিশ্বকাপে ১১ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার ফাইনাল হারের পর আত্মহত্যা করেন বেশ কয়েকজন মেসিভক্ত।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের পরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর নাম, বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশ দুটিতে। অন্যদিকে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনে প্রাণ হারিয়েছে ১ জন। এই চার দেশের মধ্যে আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও স্পেন বিশ্বকাপে অংশ নিলেও বাংলাদেশ বাছাই পর্ব খেলারই সুযোগ পায়নি। অথচ বিশ্বকাপ জ্বরে দেশটির ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপ কেঁড়ে নিলো ১১ যুবকের প্রাণ

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেললেও দেশটির প্রতি গ্রাম ও শহরে ছিল বিশ্বকাপ উন্মাদনার ছোয়া। পছন্দের দলের পতাকা নিজ বাড়ির আঙিনায়, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রায় সবজায়গায় টাঙাতে দেখা গেছে।

এছাড়াও মধ্যরাতে ঘুম বাদ দিয়ে প্রিয় দলের খেলা দেখতে বড় পর্দার সামনে বসে থাকতে হয়েছে ফুটবল প্রেমিদের। তবে প্রশ্ন হলো— কাদের প্রতি এতোটান?

দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটবল উন্মাদনা মানেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। কিছু সংখ্যক জামানি, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের সমর্থক থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল লাতিন আমেরিকার দুই দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। লাতিন এই দুই দলের প্রতি লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের প্রেম এতটাই গভীর যে তা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশিদের সেই জয়ের উল্লাস প্রকাশ করার হয় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলটাকে কতটা বুঝে উপভোগ করে?

ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, জীবনের মতো ফুটবলেও জয়ের পাশাপাশি হার মানার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হয়। কারণ, এখানে বারবার পড়তে হয়, আবার উঠে দাঁড়াতে হয়। বারবার উঠে দাঁড়িয়েই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু এই ত্বত্ত কি আসলেও বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমিরা।

প্রতিটি খেলাধুলায় সমর্থকরা প্রতিপক্ষ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটার মাত্রা কত দূর হওয়ার উচিত সেটা হয়তো আমাদের জানা নেই। জানা থাকলে হয়তো, বাংলাদেশের এতগুলো যুবকের প্রাণ যেত না। ফলে ফুটবল যে জয়-পরাজয়ের খেলা সেটা অনেকে বুঝে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।

বিশ্বকাপ শেষে দলের জয়-পরাজয় মেনে ক্লাবে ফিরতে শুরু করেছে ফুটবলাররা। সময়ের ব্যবধানে তারা ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেবেন। কিন্তু বিশ্বকাপ শব্দটি এই ১১ টি পরিবারের কাছে কালো দাগ হিসেবে রয়ে যাবে।

কুমারখালীর রতন

গত ৫ জুলাই রাতে ব্রাজিল ও নরওয়ে ফুটবল দলের মধ্যকার খেলায় রতনের প্রিয় দল ব্রাজিল পরাজয় বরণ করে। রতন ব্রাজিল ফুটবল দলের একজন কট্টর সমর্থক ছিলেন। প্রিয় দলের পরাজয় তিনি মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছিলেন না। তার ওপর সকালের দিকে প্রতিপক্ষ ফুটবল দলের সমর্থকদের অনবরত নেতিবাচক ট্রল ও উপহাসের শিকার হন তিনি।

পরাজয়ের কষ্ট এবং প্রতিপক্ষের বিদ্রুপ সইতে না পেরে তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েন এই যুবক। পরে নিজের শোবার ঘরে গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

নিহত রতন কুমারখালীর হোসেন মিস্ত্রির ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন। মাত্র দুই মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে তার।

ভেড়ামারার ভ্যানচালক সুমন

সুমন হোসেন (৩২) উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ চাষি ক্লাব এলাকার মো. আফজাল হোসেনের একমাত্র ছেলে। সুমন আর্জেন্টিনার সমর্থক ছিল। তাই আর্জেন্টিনার হার সইতে না পেরে অভিমান করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

পারিবারিক ও স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, ভ্যানচালক সুমন হোসেন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল খেলা দেখে ভোর ৪টার সময় বাসায় ফিরেন। তিনি এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন। এ উপলক্ষে রোববার রাতে তিনি তার নিজের পক্ষ থেকে খিচুড়ি ও গোস্ত রান্নার আয়োজনও করেছিলেন।

Bheramara-6a5e29592d940

খেলার শেষপর্যায়ে বাসায় ফিরে নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে সুমন বিছানায় শুয়ে মোবাইল দেখছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী জেমি খাতুন তাকে ঘুমিয়ে পড়তে বলে নিজেও ঘুমিয়ে যান।

জেমি খাতুন ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উঠে দেখেন তার স্বামী শয়ন কক্ষের বাঁশের আড়ার সঙ্গে লাইলনের দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে।

নোয়াখালীর সৌদি প্রবাসী রায়হান

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে সৌদি প্রবাসী রায়হান নামের এক যুবকের আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রায়হান সৌদি আরব থেকে প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন। পাঁচ-ছয় মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। গত রোববার রাতে কানকিরহাট বাজারে বন্ধুদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-স্পেনের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে যান। বাইরে খেলা দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়।

সকালে স্ত্রী রাগ করে বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় রায়হান স্ত্রীকে আত্মহত্যার হুমকি দেন। স্ত্রী কিছু দূর গিয়ে স্বামীর বাড়ি ফিরে দেখেন রায়হান ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

বাকি ৮ জন কে

উপরের তিনজন আত্মহত্যা করলেও চলতি বিশ্বকাপ চালাকালীন সময়ে আরও ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন আর্জেন্টিনার পরাজয়ে হ্যার্টঅ্যাটাক ও একজন পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎতের স্পর্শের প্রাণ হারান। বাকিরা খেলা দেখতে গিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনায় ৪ জনের মৃত্যু

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হতাশাজনক পরাজয়ের দিনে ম্যাচ চলাকালীন তীব্র উত্তেজনায় বুয়েন্স আইরেসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা (এসএএমই) এ তথ্য জানিয়েছে।

জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়, মৃত দুই ব্যক্তির বয়স যথাক্রমে ৬৭ ও ৮৮ বছর। অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা ৪০ মিনিটে মন্টসেরাট এলাকার সারান্দি ও অ্যাডলফো আলসিনা সড়কের মাঝামাঝি এলাকায় নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিষয়ে জরুরি কল আসে। চিকিৎসকরা সিপিআর দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও তাকে আর বাঁচাতে পারেনি।

দ্বিতীয় ভুক্তভোগী ৮৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটের দিকে একই রকম উপসর্গে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকরা তাকে সিপিআর দেওয়ার পর ডুরান্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এ ছাড়াও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল জয়ের পর বুয়েনস আইরেসে খেলা দেখার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একজন (৫১) এবং কর্ডোবা প্রদেশে উদযাপনের সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন (২০) তরুণ নিহত হন।

বিশ্বকাপে মেক্সিকোতে ৪ জনের মৃত্যু

বিশ্বকাপ উদযাপনের সময় মেক্সিকো সিটির রাস্তায় হাজার হাজার সমর্থকের ভিড়ে দমবন্ধ হয়ে ৩ জনসহ মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মেক্সিকো দল শেষ ৩২-এর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর আনন্দ উদযাপনের জন্য ‘অ্যাঞ্জেল অব ইন্ডিপেন্ডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভের কাছে হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হলে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পাসিও দে লা রেফোরমার আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জরুরি উদ্ধারকারী দল তিনজনকে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা দেয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাজধানীটির সবচেয়ে প্রতীকী এই বুলেভার্ড এবং এর আশপাশের রাস্তাগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে উদযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় জানায়, উন্নত পুনরুজ্জীবন (resuscitation) চেষ্টার পরও, দমবন্ধ হয়ে ৪৪ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং ১৯ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরবর্তী এক পোস্টে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তৃতীয় মৃত ব্যক্তি হলেন ৪৮ বছর বয়সী এক নারী। নিকটবর্তী একটি রাস্তায় তিনি শ্বাসরোধে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।

পরে কর্তৃপক্ষ চতুর্থজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে, গুরুতর খিঁচুনি ও পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ নিয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে (হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে) মৃত্যু হয় ৩০ বছর বয়সী এক যুবকের।

বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাসে ১ স্প্যানিশ নাগরিকের মৃত্যু

ফাইনালে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর উদযাপনের সময় পশ্চিম স্পেনে এক ফোয়ারা ধসে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়।

সুতরাং, চলতি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩ দেশে নিহতের সংখ্যা ৯। আর বিশকাপের বাছাই পর্ব খেলতে না পারা বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ১১ জন।

বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের যে আবেগ তার অর্ধেক যদি দেশের ফুটবলের প্রতি দেখাতো তবে দেশের ফুটবল আরও এগিয়ে যেতো।

চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি দর্শকদের আগ্রহই প্রমাণ করতে পারে দেশের ফুটবলের প্রতি তাদের টান কতটা গভীর।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টি-টোয়েন্টিতে শারমিনের উন্নতি, অবনতি মারুফার
নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের শারমিন আক্তারের। তবে বোলিংয়ে অবনতি হয়েছে বাংলাদেশ পেসার মারুফা আক্তারের।  মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নারী টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। গত সপ্তাহে শেষ হওয়া নারী এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হারে বাংলাদেশ। ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন শারমিন। এতে দশ ধাপ এগিয়ে ৩৫তম স্থানে উঠেছেন তিনি। তার রেটিং ৫২৩। র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটারদের তালিকায় বাংলাদেশের হয়ে সেরা অবস্থানে আছেন নিগার সুলতানা। ৫৯৭ রেটিং নিয়ে ২০তম স্থানে আছেন তিনি।  ব্যাটিং তালিকায় তিন ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের সোবহানা মোস্তারির। ৪৮৪ রেটিং নিয়ে ৪২তম স্থানে নেমে গেছেন তিনি।  বোলারদের তালিকায় অবনতি হয়েছে মারুফার। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ওভার বল করে ২৬ রান দিয়েও উইকেটের দেখা পাননি তিনি। চার ধাপ পিছিয়ে ৬০২ রেটিং নিয়ে ২১তম স্থানে নেমে গেছেন মারুফা।  পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২১ রানে ২ উইকেট নিয়ে দুই ধাপ এগিয়ে ৫৭০ রেটিং নিয়ে ২৯তম স্থানে উঠেছেন বাঁ-হাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার।  এদিকে, নারী র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন চরণী। অস্ট্রেলিয়ার মেগান শুটকে টপকে সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্টের রেকর্ডের মালিক এখন তিনি। ২০১৮ সালে ৮০৬ রেটিং নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন শুট। আজ ৮১৭ রেটিং নিয়ে শুটকে টপকে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন চরণী।  টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটিং তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি, বোলিং তালিকায় ভারতের শ্রী চরণী এবং অলরাউন্ডার তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হিলি ম্যাথুজ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। আরটিভি/এসআর
টি-টোয়েন্টিতে শারমিনের উন্নতি, অবনতি মারুফার
ওলিসের গোলের পর পাগলাটে উদযাপনের কারণ জানালেন জিদান
নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল করে জয় এনে দিয়েছেন মাইকেল ওলিসে। তার এই জয়সূচক গোলের পর মাঠে বাইরে পাগলাটে উদযাপনে মাতেন কোচ জিনেদিন জিদান। ম্যাচ শেষে এই উদযাপনের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। গতকাল মাইকেল ওলিসের অসাধারণ নৈপুণ্যে ৮৮ মিনিটে ফ্রান্স ম্যাচ জয় পায়। আর ১১ নম্বর জার্সিধারী তারকা জালের দেখা পেতেই সাইডলাইনে রাখা একটি বলে জোরে লাথি মারেন জিদান।  সাধারণত মার্জিত ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত জিদানের এমন উদযাপন ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। তার সেই উদযাপনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে এমন পাগলাটে উদযাপনের কারণ জানাতে গিয়ে হাসতে হাসতে জিদান জানান, চেরকির কাছ থেকে ওলিসে বল পাওয়ার পরই তার মনে হয়েছিল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। ওলিসে দৌড়ে বেলজিয়ামের গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়ই জিদান বুঝতে পেরেছিলেন, গোল হতে পারে।  নিজের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেওয়ার পর তিনি শক্তিশালী শটে বল মেরে উদযাপন করেন, যা তার খেলোয়াড়ি জীবনে বল সামলানোর মার্জিত ধরনের সম্পূর্ণ বিপরীত দৃশ্য। জিদান বলেন, আসলে আমি কী করেছি, সেটাই জানি না (হাসি)। নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, মাইকেল (ওলিসে) যখন বল পেল তখন থেকেই আমি তার খেলাটি অনুসরণ করছিলাম, কারণ আমার মনে হয়েছিল সে ড্রিবল করবে। আর সে অসাধারণ একটি কাজ করেছে। এরপর আমি বলটি দেখলাম, আর আমাকে শট নিতেই হলো। ব্যাপারটা কিছুটা হাস্যকর ছিল, কিন্তু এটা বিশেষ কিছু নয়। আমি তার সঙ্গে ছিলাম, তার সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলাম। আমি তাকে ড্রিবল করতে দেখলাম এবং ভাবলাম ‘সে গোল করবে!’ যাই হোক, আমি পুরোপুরি তার সঙ্গেই ছিলাম (হাসি)। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড় ওলিসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন ফ্রান্স কোচ। জাতীয় দলে বর্তমানে কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলের সঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা খেলোয়াড়দের একজন ওলিসে।  বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে জিদান বলেন, সে খাঁটি প্রতিভা। সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আমি পছন্দ করি। সে যখন খেলে, তখন মানুষকে আনন্দ দিতে চায়। শুধু তা-ই নয়, ফুটবল সম্পর্কে তার দারুণ অনুভূতি আছে। সে আগে থেকেই খেলা বুঝতে পারে, কখন ঝুঁকি নিতে হবে আর কখন পিছু হটতে হবে, সেটাও জানে। তার পাশে থাকতে পেরে, তাকে এভাবে খেলতে দেখে আমি খুশি। প্রসঙ্গত, দিদিয়ের দেশমের উত্তরসূরি হয়ে জিদান তার প্রথম ম্যাচেও জয় পান। তুরস্কের বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে ১-০ গোলে জেতে লে ব্লুরা। আগামী ২ অক্টোবর তারা ইতালির বিপক্ষে গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচ খেলবে। আরটিভি/এসআর
ওলিসের গোলের পর পাগলাটে উদযাপনের কারণ জানালেন জিদান
ডি থ্রি ট্রফিতে ৬ দলের হেড কোচ চূড়ান্ত
ঘরোয়া ক্রিকেটে মাঠে গড়াচ্ছে যাচ্ছে নতুন টুর্নামেন্ট ডি থ্রি ট্রফি। যেখানে অংশ নেবে ৬ দল। ইতোমধ্যে ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট থেকে নিজেদের হেড কোচ চূড়ান্ত করে ফেলেছে দলগুলো। যেখানে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ সালাউদ্দিন-বাবুলদের বড় নাম। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ডি থ্রি ট্রফির ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট। যেখানে প্রথমে প্রধান কোচ বাছাই করার সুযোগ পায় ব্লু-স্টার। তারা দলে ভেড়ায় সোহেল ইসলামকে। এরপর সুযোগ পায় একমি গ্রুপ। তারা দলে ভেড়ায় রাজিন সালেহকে। তৃতীয় ডাকে সিটিজেন গ্রুপ প্রধান কোচ হিসেবে দলে টেনেছে মিজানুর রহমান বাবুলকে।  পরবর্তীতে ফরচুন গ্রুপ দলে ভেড়ায় মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। সেভেন রিংস সিমেন্ট যুক্ত করে তালহা জুবায়েরকে। এ ছাড়া ওয়ালটন গ্রুপ নেয় আব্দুর রাজ্জাককে। ডি থ্রি ট্রফিতে ৬ দলের আইকন ক্রিকেটার হয়েছেন মুশফিকুর রহিম, নাঈম শেখ, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ।  মুশফিক সেভেন রিংস সিমেন্টের, মিরাজ ওয়ালটনের, হৃদয় ফরচুনের, মোসাদ্দেক একমির, সোহান ব্লু স্টারের এবং নাঈম শেখ সিটিজেনের আইকন ক্রিকেটার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। আরটিভি/এসআর
ডি থ্রি ট্রফিতে ৬ দলের হেড কোচ চূড়ান্ত
বিশ্বকাপের ভেন্যু দেখতে বাংলাদেশে আসছে আইসিসির প্রতিনিধি দল
আসন্ন ২০২৭ সালের নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের ভেন্যু ও প্রস্তুতি দেখতে আগামী ১ অক্টোবর ঢাকায় আসছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশের তিনটি ক্রিকেট ভেন্যু পরিদর্শন করবে দলটি। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, আগামী ২ ও ৩ অক্টোবর ভেন্যুগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবে আইসিসির প্রতিনিধিরা। এ সময় মাঠের অবস্থা, ড্রেসিংরুমসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখা হবে। বাংলাদেশের আগে নেপালের প্রস্তুতিও পরিদর্শন করেছে আইসিসির দল। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত ভেন্যুগুলো ঘুরে দেখেছেন প্রতিনিধিরা। ২০২৭ সালের নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে ১৬টি দল। স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশ ও নেপাল সরাসরি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবে। আইসিসির পরিদর্শন ও মূল্যায়ন শেষে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের জন্য চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে। আরটিভি/এসআর
বিশ্বকাপের ভেন্যু দেখতে বাংলাদেশে আসছে আইসিসির প্রতিনিধি দল
ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার জালে এক হালি দিলো ব্রাজিল
২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন দল তৈরি মিশনে নেমেছে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। প্রথমটিতে অজিদের বিপক্ষে ড্র করে চাপে পড়লেও দ্বিতীয় ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে সেলেসাওরা। ফলে সম্মান নিয়েই অস্ট্রেলিয়া ছাড়ছে পাচঁবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাজিল। ব্রাজিলের হয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বাকি দুটি গোল করেছেন ভ্যান্ডারসন ও গিমারায়েস। এদিন ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ডান দিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে ভ্যান্ডারসন দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল অস্ট্রেলিয়ার জালে পাঠান। শুরুতেই গোল হজম করলেও এতে ভেঙে পড়েনি স্বাগতিকরা। বরং ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ২৮ মিনিটে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। মেটকাফের নেওয়া কর্নার কিক ব্রাজিলের এক খেলোয়াড়ের মাথায় লেগে দূরের পোস্টে থাকা আলেসান্দ্রো সিরকাটির কাছে পৌঁছায়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে পা দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার এই ডিফেন্ডার।  গোলটি অফসাইড কি না, তা যাচাই করতে ভিএআর দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। ৪৫তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢোকার সময় দানিলোর সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েন হ্যারি সাউটার।  এতে দানিলোর পায়ে আঘাত লাগলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও ভিএআরের পরামর্শে পরে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন ব্রাজিল অধিনায়ক রাফিনিয়া। নিচু ও জোরালো শটে তিনি বল পাঠিয়ে দেন গোলের নিচের কোণায়। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ সঠিক দিক অনুমান করে ঝাঁপ দিলেও শটের গতি ও নিখুঁততায় বল ঠেকাতে পারেননি। রাফিনিয়ার ওই গোলেই প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আবার সমতায় ফেরে ব্রাজিল। ফলে বিরতিতে ২-২ সমতায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে দুই দলই গোল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে ৬৯ মিনিটে দলকে লিড এনে দেন ব্রুনো গিমারায়েস। এন্ড্রিকের বাড়ানোর বল থেকে দারুণভাবে গোল তুলে নেন তিনি। এরপর ৮০ মিনিটে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। আর স্পট কিকে দলকে ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দীর্ঘদিন পর গোলের দেখা পেলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলের কিছুদিন ধরেই খারাপ সময়ের মধ্য যাচ্ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না পাওয়ায় ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। এতে অজিদের বিপক্ষে এক ড্র ও জয় নিয়ে সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরছেন ভিনি-রাফিনিয়ারা। আরটিভি/এসআর
ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার জালে এক হালি দিলো ব্রাজিল
আরও পড়ুন
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.১৪ বিলিয়ন ডলার
‘প্রধানমন্ত্রী দেশে কর্মচাঞ্চল্যতা সৃষ্টি করেছেন, মানুষের মধ্যে গতিশীলতা এনেছেন’ 
রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের টিম ব্লুপ্রিন্টের ব্রোঞ্জ জয়
ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ জয়