বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা জিতার স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্টিনার। তবে পরাজয়ের পর কঠিন মুহূর্তে ভেঙে পড়া মেসির পাশে দাঁড়িয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই বার্তায় তিনি লিখেছেন, ফল যাই হোক না কেন, মেসিই তার কাছে সবসময় বিশ্বের সেরা।
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তোনেলা লেখেন, ‘তুমি সবসময়ই সেরা, মেসি। শুধু তোমার প্রতিভার জন্য নয়, বরং তুমি কখনো নিজের পরিচয় বদলাওনি বলেই। যা-ই ঘটুক না কেন, তুমি কখনো হাল ছাড়ো না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাও এবং নিজের সবটুকু উজাড় করে দাও। এই মানসিকতা, এই শক্তি এবং বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই তোমাকে অনন্য করে তুলেছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘তুমি প্রতিদিন আমাদের শেখাও, সত্যিকারের সাফল্য আসে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ, অধ্যবসায় এবং নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখার মধ্য দিয়ে। তুমি শুধু আমাদের সন্তানদের জন্য নয়, কোটি কোটি মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণা। শব্দে প্রকাশ করার মতো নয়, আমি তোমাকে কতটা শ্রদ্ধা করি। তোমার পাশে জীবন কাটাতে পারছি, এ জন্য আমি গর্বিত। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’
৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুলেছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি করেন ৮ গোল এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে জয়ের পথ দেখান। তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণভাগের সামনে অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। তার সেই আবেগঘন মুহূর্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্বকাপের মাঝেই গত ৩০ জুন বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেন মেসি ও আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো। ২০১৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির সংসারে রয়েছে তিন সন্তান- থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। বিশ্বকাপজুড়েই তিন সন্তানকে নিয়ে গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচে মেসিকে সমর্থন করেছেন আন্তোনেলা।

মেসি ও আন্তোনেল্লার পরিচয় শৈশবে, আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। আন্তোনেল্লার চাচাতো ভাই ও মেসির বন্ধু লুকাস স্কালিয়ার মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ফুটবল ক্যারিয়ার গড়তে বার্সেলোনায় চলে যাওয়ায় দূরত্ব তৈরি হলেও যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি।
২০০৫ সালে আন্তোনেল্লার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী উরসুলা নটজ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে সমবেদনা জানাতে রোজারিওতে থাকা আন্তোনেল্লার পাশে দাঁড়ান মেসি। সেই সময় থেকেই দুজনের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়। কয়েক বছর পর তারা প্রেমের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন এবং পরে একসঙ্গে সংসার শুরু করেন।
বিশ্বকাপের ট্রফি হাতছাড়া হলেও আন্তোনেল্লার বার্তা আবারও মনে করিয়ে দিল, মাঠের সাফল্য-ব্যর্থতার বাইরে মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি তার পরিবার। কোটি সমর্থকের মতোই তার স্ত্রীও বিশ্বাস করেন, একটি ম্যাচ বা একটি ফাইনালের ফলাফল লিওনেল মেসির কিংবদন্তি মর্যাদাকে একটুও কমাতে পারে না। তার কাছে মেসি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন- সবসময়ই সেরা।
আরটিভি/ এসকেডি



