বিশ্বকাপ জুড়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নানান বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করা ব্যক্তিদের নিষিদ্ধ কিংবা নির্বাসিত করার ঘোষণা দিয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে মিলেইর সরকার। তবে এটি প্রয়োগের যোগ্যতা ও আইনি প্রভাব নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম নিয়েছে।
ফরাসি নেটওয়ার্ক রেডিও মন্তে কার্লো প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই অধ্যাদেশ তৈরি করা হয়েছে এমন সব বিদেশী নাগরিকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে যারা ‘মৌখিক বা লিখিত যেকোনো উপায়ে ঘৃণামূলক বার্তা ছড়ায় অথবা সামগ্রিকভাবে আর্জেন্টিনার জনগণ কিংবা জাতীয়তার কারণে কোনো আর্জেন্টাইন নাগরিকের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয়।
এই সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরকার একে ‘আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্র ও আর্জেন্টাইনদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক প্রদর্শন’ আখ্যা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বর্ণবাদ এবং লিওনেল মেসিদের পক্ষে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ব্যাপক সমালোচনা হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই মুখ খুলেছিলেন মিলেই।
তিনি বলেন, ‘এই আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢেলেছে কে? ব্রাজিল সরকার। মোট অর্থায়নের ২৫ শতাংশ এসেছে ব্রাজিল সরকারের কাছ থেকে। আর তারাই আবার আমাকে হস্তক্ষেপ নিয়ে উপদেশ দেয়!’ তবে নিজের এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি মিলেই।
তার দাবি, এই প্রচারণা মূলত মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি দ্বারা অর্থায়িত হয়েছে। কারা তারা? তারা হলো প্রগতিশীল নেতা, যারা স্বাধীনতার ধারণা সফল হোক তা চায় না।
মিলেই সরকারের এই অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ‘প্রয়োজনীয়তা ও জরুরি অধ্যাদেশ’ হিসেবে এটি চেম্বার অব ডেপুটিজ ও সিনেটে যাওয়ার আগে সংসদীয় কমিটি পর্যালোচনা করবে। উভয় কক্ষ একযোগে প্রত্যাখ্যান না করলে এটি বাতিল হবে না।
আইনি বিশেষজ্ঞরা এই অধ্যাদেশের শব্দগুলো নিয়ে সমালোচনা করেছেন। সেন্টার ফর লিগ্যাল অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিসের (সিইএলএস) আন্তর্জাতিক মামলায় বিশেষজ্ঞ আইনজীবী লুসিয়া গালোপো এর বার্তাকে ‘অস্পষ্ট’ বলেছেন। কারণ এতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা তা প্রমাণের কোনো পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে এর ব্যাখ্যা ও স্বেচ্ছাচারী প্রয়োগের ব্যাপক সুযোগ থেকে যায়।
আরটিভি/এসআর



