
ফুটবলে থ্রো-ইন সাধারণত আক্রমণ তৈরির একটি প্রচলিত মাধ্যম। তবে ইরানের ডিফেন্ডার নাদের মোহাম্মাদির কাছে এটি যেন হয়ে উঠেছে গোলের সুযোগ তৈরির বিশেষ অস্ত্র। রাশিয়ান ক্লাব স্পার্তাক কোস্ত্রোমার হয়ে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই ব্যতিক্রমী এই কৌশলে সরাসরি গোল করিয়েছেন তিনি।
রোববার (৮ আগস্ট) রাশিয়ান ফার্স্ট লিগে এসকেএ-খাবারোভস্কের বিপক্ষে ম্যাচে মোহাম্মাদির অদ্ভুত থ্রো-ইন থেকে গোল পায় স্পার্তাক কোস্ত্রোমা। ম্যাচটি তারা জেতে ৩-১ গোলে।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে টাচলাইনের পাশে বল হাতে নেন মোহাম্মাদি। এরপর সামনে ডিগবাজি খেয়ে ভারসাম্য ফিরে নিয়ে দুই হাত দিয়ে বল ছুড়ে দেন প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের দিকে। সাধারণ থ্রো-ইনের মতো বল মাটির কাছ দিয়ে না গিয়ে অনেকটা ক্রসের গতিতে উড়ে পৌঁছে যায় বক্সের গভীরে। সেখানে অপেক্ষায় থাকা সতীর্থ সের্গেই বুগরিয়ভ হেড করে বল জালে পাঠান।
মোহাম্মাদির এই থ্রো-ইন দেখে মনে হয়েছে, ফুটবল মাঠে যেন হঠাৎ জিমন্যাস্টিকসের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ডিগবাজির মাধ্যমে শরীরের বাড়তি গতি কাজে লাগিয়ে তিনি বলকে আরও দূরে ও দ্রুত পাঠান। আর সেই কৌশলই এবার এনে দিয়েছে সরাসরি গোলের সুযোগ।
২৯ বছর বয়সী মোহাম্মাদি জুলাইয়ের শেষ দিকে স্পার্তাক কোস্ত্রোমায় যোগ দেন। এর আগে তার পুরো পেশাদার ক্যারিয়ার কেটেছে ইরানে। রাশিয়ার ক্লাবটির হয়ে এসকেএ-খাবারোভস্কের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তার মাত্র দ্বিতীয় লিগ ম্যাচ। এর আগে ১ আগস্ট ইয়েনিসেইয়ের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেও নিজের বিখ্যাত ‘ফ্লিপ থ্রো’ দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।
মোহাম্মাদির এই বিশেষ থ্রো-ইনের পেছনে রয়েছে জিমন্যাস্টিকসের দীর্ঘ অনুশীলন। পেশাদার ফুটবলে আসার আগে প্রায় এক দশক জিমন্যাস্টিকস চর্চা করেছেন তিনি। সেই সময়ের শারীরিক সক্ষমতা, ভারসাম্য ও ক্ষিপ্রতাই পরে তাকে এই অভিনব থ্রো-ইন আয়ত্ত করতে সাহায্য করে।
নিজের ক্যারিয়ারে এই কৌশল ব্যবহার করে ১০টির বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছেন মোহাম্মাদি। ইরানের ফুটবলেও তার ‘ফ্লিপ থ্রো’ বেশ পরিচিত।
২০২০ সালে পেইকানের হয়ে খেলার সময় তার এমন এক থ্রো-ইন থেকেই ঘটে আরও অদ্ভুত ঘটনা। মোহাম্মাদির ছোড়া বল সরাসরি গোলের দিকে চলে যায়। পরে গোলরক্ষক আলিরেজা হাঘিগির গায়ে লেগে বলটি জালে ঢুকে পড়ে।
এ ছাড়া পার্সেপোলিসের বিপক্ষেও নিজের অর্ধ থেকে থ্রো-ইন করে বলকে অবিশ্বাস্য দূরত্বে পাঠিয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওগুলোও তাকে ‘ফ্লিপ থ্রো’য়ের জন্য আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
তার এই বিশেষ কৌশল ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। ২০২১ সালে পেইকানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফুলাদের বিরুদ্ধে মাঠের আকার পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, মোহাম্মাদির দীর্ঘ থ্রো-ইনের কার্যকারিতা কমাতেই মাঠের মাপ পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ম্যাচ কমিশনার বিষয়টি নজরে এনে হস্তক্ষেপ করেন।
রাশিয়ায় আসার পরও মোহাম্মাদির এই থ্রো-ইন যে স্পার্তাক কোস্ত্রোমার আক্রমণ পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠছে, তার প্রমাণ মিলেছে এসকেএ-খাবারোভস্কের বিপক্ষে ম্যাচে। তার থ্রো-ইন থেকে সুযোগ তৈরির জন্য সতীর্থদের পেনাল্টি বক্সের ভেতরে নির্দিষ্ট জায়গায় অবস্থান নিতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই এনে দেয় গোল।
ফলে স্পার্তাক কোস্ত্রোমার জন্য মোহাম্মাদির থ্রো-ইন এখন শুধু দর্শকদের বিনোদনের বিষয় নয়, বরং প্রতিপক্ষের জন্যও বড় হুমকি। রাশিয়ায় মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই নিজের বিশেষত্ব জানান দিয়েছেন ইরানি এই ডিফেন্ডার।
প্রতিপক্ষের বক্সের কাছে স্পার্তাক কোস্ত্রোমা থ্রো-ইন পেলেই তাই এখন সতর্ক হতে হবে। কারণ বল হাতে টাচলাইনের পাশে নাদের মোহাম্মাদি দাঁড়ানো মানেই পরের মুহূর্তে ডিগবাজি খেয়ে ছোড়া সেই বল থেকে তৈরি হতে পারে সরাসরি গোলের সুযোগ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আরটিভি/এসকে

-1790130562-405358_1790130601.jpg)
