ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বিলিয়ন ডলারের উত্থানেও পিছিয়ে নারী ফুটবলাররা

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

অচিরেই নারী ফুটবল বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হতে যাচ্ছে। তার দৃশ্যমান প্রমানও অনেকাংশেই পাওয়া গেছে। কিন্তু অনেক পেশাদার খেলোয়াড় এখনো কম বেতন পাচ্ছেন, অনিশ্চিত চুক্তিতে কাজ করছেন এবং বাড়তি মানসিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিশ্বজুড়ে খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রোর ৮০০ জনেরও বেশি ফুটবলারের ওপর পরিচালিত নতুন বৈশ্বিক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কেন তারা আগেভাগে ফুটবল ছেড়ে দিতে পারেন, সে বিষয়ে খেলোয়াড়দের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগেভাগে খেলা ছাড়ার কথা বিবেচনা করা খেলোয়াড়দের মধ্যে ৫৯ শতাংশ আর্থিক সমস্যাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ৪৬ শতাংশের ক্ষেত্রে মানসিক চাপকে একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ফিফপ্রোর নারী ফুটবল বিভাগের প্রধান অ্যালেক্স কালভিন বলেন, এর পেছনে একক কোনো ব্যাখ্যা নেই। জনসমক্ষে খেলোয়াড়দের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং পর্যাপ্ত সহায়তাব্যবস্থার অভাবকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

কালভিন বলেন, খেলোয়াড়েরা এখন অনেক বেশি দৃশ্যমান।

তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়দের শুধু জনসমক্ষে দৃশ্যমান থাকলেই চলে না, বরং তা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। কারণ, তাদের আয় কম হওয়ায় এভাবেই পর্যাপ্ত ও স্থিতিশীল আয়ের ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে

কালভিন বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও অনেক খেলোয়াড় মনে করেন, তাদের একাই পরিস্থিতি সামলাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, খেলোয়াড়েরা বেশি মানসিক চাপের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা তারা পাচ্ছেন না। সেটা ক্লাবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষেত্রেও প্রয়োজ্য।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া নারী খেলোয়াড়দের ৫৭ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগেছেন। তাঁদের অর্ধেকই ক্লাবের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ফুটবলের বৈশ্বিক আয় ২০২৪ সালের প্রায় ৫৮ কোটি ১০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পেশাদার নারী ফুটবলারদের সামনে তৈরি হওয়া নতুন মানসিক চাপের বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল দুনিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়েরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সহজলভ্য। এতে সমর্থকদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বাড়ছে, তবে একই সঙ্গে অনলাইনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

ফিফপ্রোর জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ২০১৭ সালের পর থেকে বেতন, পরিচিতি ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও পেশাদার নারী ফুটবলের বড় একটি অংশ এখনো অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পরিচালিত হচ্ছে। কালভিনের মতে, খেলাটির বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সেই প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি খেলোয়াড়দের সুরক্ষাব্যবস্থার উন্নতি তাল মেলাতে পারছে না। তিনি বলেন, নারী ফুটবলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পক্ষে যুক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমার মনে হয়, নারী খেলোয়াড়দের সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং তাদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের সুযোগ করে দিতে প্রাতিষ্ঠানিক, নিয়ন্ত্রক ও নীতিগত ব্যবস্থাগুলোকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।

প্রতিবেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফলগুলোর একটি হলো, খেলোয়াড়েরা নিজেদের পেশাদার পরিচয়কে কীভাবে দেখেন। ফিফার সংজ্ঞা অনুযায়ী, একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের লিখিত চুক্তি থাকতে হবে এবং ফুটবল খেলার জন্য তার যে খরচ হয়, তার চেয়ে বেশি অর্থ তাকে পারিশ্রমিক হিসেবে পেতে হবে।

জরিপে ৬২ শতাংশ খেলোয়াড় নিজেদের পেশাদার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২৭ শতাংশ নিজেদের আধা-পেশাদার এবং ১২ শতাংশ অপেশাদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া সব খেলোয়াড়ই নিজ নিজ দেশের শীর্ষ বিভাগের ক্লাবে খেলছেন। তা সত্ত্বেও, মাত্র ৭৮ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাদের লিখিত চুক্তি রয়েছে এবং ৮২ শতাংশ বলেছেন, তারা ক্লাব থেকে পারিশ্রমিক পান। ৫৭ শতাংশ খেলোয়াড় জানিয়েছেন, তাদের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ফুটবল খেলার খরচ মেটানো সম্ভব।

কালভিন বলেন, যেসব খেলোয়াড় পেশাদার হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের পেশাদার বলেমনে করেন না বা সেই অনুভূতি পান না, তারা একজন কর্মী হিসেবে তাদের প্রাপ্য সব সুবিধা পাচ্ছেন না।

প্রতিবেদনে বেতন বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৭ সালের তুলনায় গড় মাসিক আয় তিন গুণ বেড়ে ২ হাজার ৬০১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে মধ্যম বেতন মাত্র ১ হাজার ৬৬৯ ডলার।

অঞ্চলভেদে গড় মাসিক বেতনে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। উত্তর আমেরিকায় গড় মাসিক বেতন ৬ হাজার ৪৫০ ডলার এবং মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপে ৩ হাজার ৯৮২ ডলার। অন্যদিকে, পূর্ব ইউরোপে তা ৮৭৮ ডলার এবং আফ্রিকায় মাত্র ৪৮০ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মতো দেশের লিগগুলোতে বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও পূর্ব ইউরোপের ১০টি দেশে গড় বেতন এখনো জাতীয় ন্যূনতম মজুরির নিচে।

পশ্চিম ইউরোপ এবং এশিয়া-ওশেনিয়ার মতো বড় ফুটবল বাজারসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোতেও গড় বেতন জাতীয় ন্যূনতম মজুরির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি নয়।

প্রতিবেদনটি নির্দিষ্ট দেশের পরিবর্তে বিভিন্ন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়ায় ফিফপ্রো লিগভিত্তিক গড় বেতনের তথ্য দিতে পারেনি।

গড় চুক্তির মেয়াদও ২০১৭ সালের প্রায় এক বছর থেকে বেড়ে ১৯ মাস হয়েছে। তবে অনেক খেলোয়াড় এখনো নির্দিষ্ট আয়ের নিশ্চয়তা ছাড়াই বছরের কিছু সময় কাটান।

কালভিন বলেন, মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ খেলোয়াড় পুরো ১২ মাসের জন্য পারিশ্রমিক পান। অনেক খেলোয়াড়ের চুক্তির মেয়াদ সাত বা নয় মাস। ফলে ক্যালেন্ডার বছরের বাকি সময়ের খরচ মেটাতে তাদের অন্যভাবে কাজ করতে হয়।

তার বিশ্বাস, নারী ফুটবলের দ্রুত বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি এসব বাস্তবতাকে কিছুটা আড়াল করে রেখেছে।

ইংল্যান্ডের নারী সুপার লিগ দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও ফিফপ্রোর মতে, ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভালো পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় বহু খেলোয়াড়ের বাস্তব চিত্র আড়াল করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, গত দুই মৌসুমে ২৪ শতাংশ খেলোয়াড় বেতন পেতে বিলম্বের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ৪২ শতাংশ খেলোয়াড়কে কোনো পেনশন সুবিধা দেওয়া হয়নি।

খেলোয়াড়দের জন্য ‘সতর্কবার্তা’ প্রয়োজন,কালভিনের মতে, প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে।

তিনি বলেন, এই ফুটবলব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা প্রয়োজন। আমাদের খেলোয়াড়েরা ভুগছেন, অথচ তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বিত সহায়তা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নেই।

তবে সব প্রবণতাই নেতিবাচক নয়। খেলাটিতে যে একটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে, তা হলো সন্তান নেওয়া ও পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি।

২০১৭ সালে জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড়, যারা আগেভাগে ফুটবল ছাড়ার কথা ভাবছিলেন, জানিয়েছিলেন যে পরিবার গঠনের ইচ্ছা তাদের খেলা ছেড়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।

বর্তমানে সেই হার কমে ১৯ শতাংশে নেমেছে। ফিফপ্রোর মতে, ২০২১ সালে ফিফার প্রবর্তিত মাতৃত্বকালীন বিধিমালা এবং দুই বছর আগে এর হালনাগাদ সংস্করণ এই উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে।

কালভিন বলেন, আমরা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। ২০২১ সালে মাতৃত্বকালীন বিধিমালা চালু করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে নারী ফুটবলে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের চিত্রও উঠে এসেছে। শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাব ও খেলোয়াড়েরা বিনিয়োগ এবং পরিচিতির সুফল পেলেও বিশ্বজুড়ে এই পেশার বড় একটি অংশ এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

কালভিন বলেন, এই শিল্পের মনোযোগ মূলত শীর্ষ পাঁচ শতাংশ খেলোয়াড়ের দিকে। কিন্তু বাকি ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড়ের অবস্থা কী? তাদের অনেকেই সময়মতো বেতন পান না, তাদের চুক্তির মেয়াদ স্বল্প। তারা ১২ মাসের পারিশ্রমিকও পান না। তারা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত পরিবেশে কাজ করছেন।

ফিফপ্রো বলছে সমাধান প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেওয়া নয় বরং বাণিজ্যিক সাফল্য ও খেলোয়াড়দের কল্যাণ যেন একসঙ্গে এগিয়ে যায়, তা নিশ্চিত করা।

কালভিন বলেন, বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই দুটি বিষয়কে হাতে হাত রেখে, পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে।

আমরা বলছি, আর নয়, এবার যথেষ্ট হয়েছে। খেলোয়াড়দের প্রয়োজন অনুযায়ী এই শিল্পকে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং খেলোয়াড়দের কণ্ঠস্বরকে কেন্দ্রে রাখতে হবে। তাদের প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় খেলোয়াড়দের যেন আলোচনার টেবিলে জায়গা থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইব্রাহিমের গোলে ভুটানকে হারিয়ে সাফে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী দিনে ভুটানের বিপক্ষে বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ দল। এদিন ঘরের মাঠে অনেকগুলো সুযোগ মিস করলেও ইব্রাহিমের গোলে জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। সেই সঙ্গে সাফে শুভসূচনা হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ভুটানকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। তবে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হতাশা নিয়েই বিরতিতে যেতে হয়েছে টমাস ডুলির শিষ্যদের। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই ভালো একটি আক্রমণ তৈরি করে বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে রাকিব হোসেনের ক্রস বিশ্বনাথের কাছে পৌঁছানোর আগেই বিপদমুক্ত করেন ভুটানের ডিফেন্ডাররা।  ফিরতি বলে জামাল ভূঁইয়ার জোরালো শটও আটকে যায় প্রতিপক্ষের রক্ষণে। ১৮তম মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের। রাকিবের ক্রস থেকে হেড নিয়েছিলেন বিশ্বনাথ। তবে বল চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। সাত মিনিট পর আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। প্রায় ফাঁকায় বল পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি বাংলাদেশের এই ফুটবলার। ৩৯তম মিনিটেও গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ। সামনে শুধু ভুটানের গোলরক্ষক থাকলেও কোনাকুনি শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে আবারও হতাশ হতে হয় বাংলাদেশের সমর্থকদের। পরের মিনিটেই প্রথমবার বাংলাদেশের গোলমুখে শট নেয় ভুটান। তবে সহজেই বল ধরে ফেলেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। বিরতির আগে ৪৪তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। জামালের ফ্রি কিক থেকে হেডে বল বাড়িয়েছিলেন শমিত সোম। কিন্তু গোলমুখে থাকা জিদান ইউসুফ ও সাদ উদ্দিন কেউই বলের নাগাল পাননি। ফলে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তেও গোলের অপেক্ষা শেষ হয়নি স্বাগতিকদের। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৪ মিনিটে বদলি ফুটবলার হিসেবে নামেন ইব্রাহিম। চার মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন এই ফরোয়ার্ড। জায়ান আহমেদের ক্রসে ভুটানের বক্সে দুই দফা হেড ঘুরে ভলিতে গোল করেন ইব্রাহিম। গ্যালারিতে সবাই উল্লাসে মেতে উঠে। এরপর গোল শোধ করতে সফরকারীরা মরিয়া হয়ে উঠলেও চাপ সামলে পাল্টা আক্রমণ করেছে স্বাগতিকরা। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রেখে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। আরটিভি/এসআর  
ইব্রাহিমের গোলে ভুটানকে হারিয়ে সাফে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের
২৩ বছরের রূপকথা, আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর যত রেকর্ড
কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরাটা ফুটবলার লিওনেল মেসি। এবার তার দেখানো পথেই হাঁটলেন আরেক ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।  আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড—দুটিই তার দখলে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা ইউরো এবং ফিফা বিশ্বকাপেও রয়েছে তার একাধিক অনন্য কীর্তি।  আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর যাত্রা শুরু ২০০৩ সালের ২০ আগস্ট। কাজাখস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের জার্সিতে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে গোল, ম্যাচ, বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিকতার বিচারে গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। উয়েফার ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ম্যাচ ২৩৪টি, গোল ১৪৬টি। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই বিভাগেই তিনি বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী। তার পরের অবস্থানে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি—২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি ইরানের সাবেক স্ট্রাইকার আলী দাইয়ের ১০৯ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। দাইয়ে ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইরানের হয়ে ১০৯ গোল করেছিলেন। রোনালদো ২০২৬ সালের অক্টোবরের মধ্যে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে যান ১৪৬-এ। অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির চেয়ে ২০ গোল এগিয়ে তিনি। ১০০ আন্তর্জাতিক গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেন রোনালদো—পুরুষদের ফুটবলে আলী দাইয়ের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে। জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ গোলের মতো ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রোনালদোর দখলে। ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ লিশটেনস্টাইনের বিপক্ষে মাঠে নেমে পর্তুগালের হয়ে নিজের ১৯৭তম ম্যাচ খেলেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে কুয়েতের বদর আল-মুতাওয়ার ১৯৬ ম্যাচের বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে যান।  এরপর ২০২৩ সালের জুনে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে প্রথম ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা ২০০-তে নিয়ে যান। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তার ম্যাচসংখ্যা ২৩৪। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার এই নজিরও তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। বিশ্বকাপেও বাজিমাত রোনালদোর বিশ্বকাপের ইতিহাসেও রোনালদোর একটি অনন্য রেকর্ড রয়েছে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপ আসরেই গোল করেছেন তিনি। পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় রোনালদো।   ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন তিনি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া, কাতার ও ২০২৬ সালের আসরেও গোলের দেখা পান। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে রোনালদোর ম্যাচ ২৭টি এবং গোল ১১টি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি দ্বিতীয় অবস্থানে। পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। ইউরোতে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা ইউরোতে রোনালদোর রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ। টুর্নামেন্টটির চূড়ান্ত পর্বে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও তার।  উয়েফার হিসাবে, ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে রোনালদোর ম্যাচ ৩০টি এবং গোল ১৪টি। বাছাইপর্বসহ ইউরোতে তার ম্যাচ ৭৪টি, গোল ৫৫টি। ইউরোর ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের এত বেশি গোল নেই। ২০০৪ সালে নিজের প্রথম ইউরো আসরে খেলেন রোনালদো। এরপর ২০০৮, ২০১২, ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪—সব মিলিয়ে ছয়টি আসরে অংশ নিয়েছেন। ছয় আসরে খেলার রেকর্ডও তার।  ২০০৪ সালে পর্তুগাল ফাইনালে উঠলেও গ্রিসের কাছে হেরে যায়।  ২০১৬ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরো শিরোপা জেতে পর্তুগাল। ফাইনালে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হলেও দলের শিরোপা জয়ের মুহূর্তে অধিনায়ক রোনালদো ছিলেন মাঠের বাইরে থেকে দলের প্রেরণা।   বাছাইপর্বেও গোলের বিশ্বরেকর্ড বিশ্বকাপ ও ইউরো—দুই প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বেই গোলের রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার গোল ৪১টি। পুরুষদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ। ইউরো বাছাইপর্বেও তার গোল ৪১টি। ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে ১৪ গোল যোগ করলে প্রতিযোগিতাটিতে তার মোট গোল দাঁড়ায় ৫৫। ইউরোর বাছাইপর্ব ও চূড়ান্ত পর্ব মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই। টানা ২৩ বছর গোল দীর্ঘ সময় ধরে গোল করার ধারাবাহিকতাও রোনালদোর বড় অর্জন। ২০০৩ সালে পর্তুগালের হয়ে অভিষেক হলেও প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাননি। ২০০৪ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করার পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ২৩ বছর জাতীয় দলের হয়ে গোল করেছেন তিনি। উয়েফার তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা এত বছর গোল করার রেকর্ডও রোনালদোর। এর আগে আয়ারল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার রবি কিন ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা ১৯ বছর গোল করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০ হ্যাটট্রিক পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর হ্যাটট্রিকের সংখ্যাও অনন্য। উয়েফার রেকর্ড অনুযায়ী, পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০টি হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। এর মধ্যে দুটি ম্যাচে চারটি করে গোল করেছেন। এ ছাড়া ২৮টি ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। প্রতিপক্ষ হিসেবে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ১১টি গোল করেছেন রোনালদো। হাঙ্গেরির বিপক্ষে তার গোল ৯টি। আর্মেনিয়া, লিথুয়ানিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে করেছেন সাতটি করে গোল। ছয় বিশ্বকাপ ও ছয় ইউরো একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার সাধারণত সীমিত সময়ের। কিন্তু রোনালদো দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলে একাধিক প্রজন্মের সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন। ছয়টি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরো আসরে অংশ নেওয়া তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রমাণ। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ফিফাকে দেওয়া বক্তব্যে রোনালদো জানান, বিশ্বকাপের মঞ্চে সেটিই ছিল তার শেষ অংশগ্রহণ। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতির পর পর্তুগালের জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন। সে সময় তার আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২৩৪টি এবং গোল ১৪৬টি। আরটিভি/এসআর  
২৩ বছরের রূপকথা, আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর যত রেকর্ড
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন রোনালদো
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড গড়া ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত দীর্ঘ এক ভিডিওতে সমর্থকদের উদ্দেশে চিঠি পড়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই ভাবিনি জার্সিটি শুধু আমার একার। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার সৌভাগ্য ও দায়িত্ব পেয়েছি। সময় এসেছে জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার।’ পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলসংখ্যাও রেকর্ড ১৪৬টি। এ দুই কীর্তি নিয়েই দেশের হয়ে বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবলার। আরটিভি/এসআর
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন রোনালদো
২০৩০ সালে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফির দেখা পাবে ব্রাজিল: কাফু
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এমন হতাশাজনক বিদায়ের পরও সেলেসাওদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দেশটির ফুটবল কিংবদন্তি ও সাবেক অধিনায়ক কাফু।
২০৩০ সালে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফির দেখা পাবে ব্রাজিল: কাফু
ইস্তাম্বুলে লিভারপুলকে হারিয়ে ফেনেরবাচের ইতিহাস
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমাঞ্চকর এক জয়ের ইতিহাস গড়েছে তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও সাবেক ক্লাব লিভারপুলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে তুর্কি জায়ান্টরা।
ইস্তাম্বুলে লিভারপুলকে হারিয়ে ফেনেরবাচের ইতিহাস
আরও পড়ুন
এশিয়ান গেমস: মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, বাংলাদেশের বিদায়
১০ গোলের পর এবার ৬ গোল হজম বাংলাদেশের
বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার ১০ গোল
বাগদান সারলেন বিশ্বের ‘সবচেয়ে আবেদনময়ী’ ফুটবলার আলিশা